আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভসহ দেশের একাধিক শহরে নতুন করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ভোরে ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানায়, রাজধানীর পাশাপাশি দিনিপ্রো ও ক্রিভি রিহ শহরও হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।
বিমান বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, প্রথম দফার হামলার পর কিয়েভের দিকে আরও কয়েকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। এর পরপরই রাজধানীজুড়ে বিমান হামলার সতর্কতা জারি করা হয় এবং বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিচকো বলেন, আরও হামলার আশঙ্কা রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সবাইকে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যায়, কিয়েভের মেট্রো স্টেশনগুলোতে শত শত মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। অনেকেই কম্বল বিছিয়ে বা অস্থায়ী তাঁবু টাঙিয়ে রাত কাটানোর প্রস্তুতি নিয়েছেন।
এর কয়েক ঘণ্টা আগেই ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সতর্ক করে বলেছিলেন, গোয়েন্দা ও বিমান বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী রাশিয়া দেশজুড়ে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, রাতের মধ্যেই হামলা শুরু হতে পারে।
হামলার আগের দিন জেলেনস্কি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা আরও শক্তিশালী করতে অতিরিক্ত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহের অনুরোধ জানান তিনি।
রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা ক্রমেই তীব্র আকার ধারণ করছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় উভয় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হতাহত ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে।
রাশিয়ার বেলগোরদ অঞ্চলে একটি যাত্রীবাহী বাসে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। একই সময়ে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে মস্কোর দিকে বিপুল সংখ্যক ড্রোন নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে রুশ কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে। এসব হামলায় রাজধানীর কয়েকটি আবাসিক ভবন ও স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতির তথ্যও প্রকাশিত হয়েছে।
এদিকে কৃষ্ণসাগর এলাকায় বাণিজ্যিক নৌপরিবহনও নতুন করে ঝুঁকির মুখে পড়েছে। ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলের ওডেসা উপকূলের কাছে নোঙর করা লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী একটি বেসামরিক জাহাজে ড্রোন হামলার অভিযোগ উঠেছে। একই সময়ে মিকোলাইভ বন্দরের কাছেও হামলার ঘটনা নিয়ে উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি দাবি সামনে এসেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কৃষ্ণসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ ও সমুদ্রপথও সংঘাতের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে, যা বৈশ্বিক বাণিজ্য ও খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করতে পারে।