× Banner
সর্বশেষ
পাক-অধিকৃত কাশ্মিরে নির্বাচন বর্জন ঘিরে সংঘর্ষ, বহু হতাহতের দাবি দেশের ৮ অঞ্চলে ঝড়ো হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস, নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্কসংকেত আজ শ্রীশ্রীব্যাস পূজা ও গুরুপুর্ণিমা, জেনে নিন কেন গুরুপুর্ণিমা আজ বুধবার (২৯ জুলাই) আপনার রাশিফলে কী রয়েছে তা বেশ কৌতুহলের আজ ২৯ জুলাই  বুধবার পঞ্জিকা ও ইতিহাসের এইদিনে টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক – ১৫ দিনের মধ্যে হাইকোর্টে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ নবীগঞ্জে আমগাছ থেকে ঝুলন্ত যুবকের মরদেহ উদ্ধার কৃষিখাতে সহযোগিতা জোরদারে আগ্রহী বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া চার মাসের মধ্যে ঢাকা ও চট্টগ্রামের ডিজিটাল এলিভেশন মডেল করার নির্দেশ রাজধানীর লালবাগে ২৪ হাজার কেজি নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ

এহেনো দুর্দশায় অন্তর পোড়ে

admin
হালনাগাদ: বৃহস্পতিবার, ৮ মার্চ, ২০১৮

সাজেদা হক: সাংবাদিকতা ‍শুরু করেছি ২০০৫ সালে। সালমা সোবহান ফেলোশীপ দিয়ে। আমাদের প্রশিক্ষক ছিলেন জাহিদ রেজা নূর, শাহেদ মোহাম্মদ আলী, রোবায়েত ফেরদৌস, মীর মাসরুর জামানসহ পরিচিত বহু গণমাধ্যমব্যক্তিত্ব।

টানা এক বছর হাতে-কলমে সংবাদ ও সাংবাদিকতা শিখিয়েছেন তারা। এক বছর ধরেই প্রথম আলোতে আমরা ৩২ জেলার ৩২ জন নারী লিখতাম। শিক্ষকরা শুধরে দিতেন। ছাপার অক্ষরে নিজের নাম প্রথমবারের মতো দেখলাম প্রথম আলোতে, শিরোনাম, ‘ধান থেকে চাল, মাঝে চাতাল কন্যা’, তারিখ ৯ ফেব্রুয়ারি ২০০৫। সেই শুরু, এরপর আর থামতে হয়নি।

এক বছর মাসে অন্তত চারটা লেখা ছাপা হতো প্রথম আলোতে। এরপর যোগ দিয়েছিলাম দেশবাংলা পত্রিকায়। সেখানেই মূলত বিভিন্ন বিভাগে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি। সহকর্মী হিসেবে পেয়েছিলাম আবু তাহের, কাজী রফিক, শামসুল হক ভাইসাবসহ অনেককে। সেসময় এই আমিই সম্পাদনা করতাম মহানগরের থানা ভিত্তিক কন্ট্রিবিউটরদের লেখা নিয়ে মহানগর পাতা, যাদের অনেকেই এখন স্বনামখ্যাত। সম্পাদনার দায়িত্বে ছিলাম সিঁড়ি, আমাদের বিদ্যালয় পাতারও। এছাড়া নিয়মিত পাজল সুডুকু এবং সম্পাদক ফেরদৌস আহমেদ কোরেশী স্যারের অনুবাদ খুশবন্ত সিং এর সম্পাদনা করেছি দীর্ঘদিন।

২০০৭ এর শেষের দিকে যোগ দেই একুশে টেলিভিশনের ন্যাশনাল ডেস্কে। সরাসরি সিনিয়র হিসেবে পেলাম পলাশ আহসান ভাইকে। সেন্ট্রাল ডেস্কে ছিলেন মজুমদার জুয়েল, শহীদুল ইসলাম রিপন, রাশেদ চৌধুরী ভাইসহ আরো অনেকে। ২০০৯ সালের শেষের দিকে একুশে টেলিভিশন ছেড়ে যোগ দিয়েছিলাম যমুনা টেলিভিশনে। শুধু আমি না, আমরা অনেকেই যোগ দিয়েছিলাম যমুনা টিভিতে। অন এয়ারে আসার অপেক্ষায় যমনাতেই কাটিয়েছি টানা এক বছর। পরে ২০১০ সালে ন্যাশনাল ডেস্ক ইনচার্জ হিসেবে যোগ দেই বৈশাখী টেলিভিশনে।

২০১৩ সালের ডিসেম্বরে বৈশাখী ছাড়তে বাধ্য হই। সে আরেক ইতিহাস, এ ইতিহাস অন্যদিন। এরপর যোগ দেই নতুনমাত্রা.কম, রেডিও ধ্বনি এবং দৈনিক নতুন কাগজে। এখন কাজ করছি একটি সাপ্তাহিক ও অনলাইনে।

তো ২০০৫ সাল থেকে শুরু করে এখন ২০১৮। এক যুগেরও বেশী সময়, অনেক সহকর্মী এবং বহু অভিজ্ঞতা। তিক্ত অভিজ্ঞতাই বেশি। কারণ জানি না। খুব কম স্মৃতি আছে আনন্দের। তবে ভালো মানুষের সাহচার্য নেহায়েত কম নয়।

দেখেছি কিভাবে অল্প সময়ে গাড়ী-বাড়ীর মালিক বনে গেছেন বহু সহকর্মী। কান পড়ানি দিয়ে বহুজন পদোন্নতি পেয়েছেন। অকারণে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন অনেকেই। অনেকের আঙ্গুলের ইশারাতেই চাকরি গেছে অনেকের। এই যে ‘আঙ্গুলের ইশারা’-এ কেবল বড় পদে থাকা পুরুষ সহকর্মীরই নয়, নারী সহকর্মীও দিয়েছেন।

দিনের পর দিন কাজ করার অভিজ্ঞতায় এইসব বড় ভাই-বোনদের সম্পর্কে ধারণা আস্তে আস্তে বদলাতে থাকে। কখনো কখনো প্রতিবাদ করেছি, কখনো কখনো করিনি, করতে পারিনি, সয়েছি- গণমাধ্যমের ভাষায় ‘এডজাসস্ট’ করেছি। প্রয়োজনীয় সাহসের অভাব, অজ্ঞতা এবং প্রয়োজন (বেঁচে থাকার দায়)বাধ্য করেছে।

সাংবাদিকদের অনেকগুলো সংগঠন। অনেক সুযোগ, অনেক সুবিধা তাতে। সেসব সংগঠনকে এতোদিন সাংবাদিকদের অধিকার আদায়ের সংগঠন মনে করে দূরেই ছিলাম। ভাবছিলাম ব ভাই-বোনদের হাতে নিরাপদ আমাদের অধিকার। অথচ এ ধারণা ভুল। কারণ আমি দেখেছি এই ১২ বছরেরও বেশি সময় পর আমার মতো অনেকেই নি:স্ব। অথচ আমার পরে সাংবাদিকতা শুরু করে এখন অনেকে ফ্লাট, প্লট, গাড়ীর মালিক। লাক্সারিয়াস তাদের জীবন যাপন।

সাংবাদিকদের অধিকার আদায়ের নামে এই যে বিভিন্ন সংগঠন এসব সংগঠনে নেতৃত্ব দেন কারা? এর উত্তর অনেকের সাথে আমার অভিজ্ঞতাও মিলে যাবার কথা। কারণ সংগঠনের আড়ালে সুবিধা নেয়া সকল নেতারাই আমাদের সামনে। চোখের সামনে অন্যায়গুলো করেছেন। কিছু সাংবাদিক স্বার্থহানীর কারণে প্রতিবাদ করেছেন বটে। তবে আমার মতো ঝামেলামুক্ত থাকার ইচ্ছাপোষন করা সাংবাদিকের সংখ্যাও নেহায়েত কম নন, তাই তারা দূরেই ছিলেন এবং এখনো দূরেই আছেন।

বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলোতে কাজ করেন অর্থ্যাৎ যারা এই পেশাটাকে আদর্শ মনে করে সেমতে চর্চা করেন তারা সাংবাদিকদের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম বা আন্দোলনে আসেনই না বললেই চলে। ভোটও দেন না। মাঝে মাঝে অংশ নেন। এর কারণ একটাই, অধিকার আদায়ের নামে স্বার্থ-অর্থ-সুযোগ-সুবিধা নিয়ে কামড়া-কামড়িতে তারা নেই। আর এই যে না থাকা, এই না থাকার কারণেই মাঠ কিন্তু ফাঁকা। আর এই ফাঁকা মাঠেই গোল দিয়ে দিয়ে আজ অনেকেই নেতা।

এটা আমার উপলব্ধি। সেই উপলব্ধি থেকেই এক বছর আগে থেকেই বলছিলাম নির্বাচনে অংশ নেবো। আমি মনে করি আমরা যারা সত্যিকার অর্থে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী, যারা দেশের সার্বভৌমত্য, স্বাধীনতা রক্ষায় জীবন বাজী রাখতে রাজি, যারা অন্যায়কে রুখে দেয়ার সাহস রাখি তাদের উপরই এসব সংগঠন থেকে জঞ্জাল সরানোর দায়িত্ব বর্তায়। আর এ দায়িত্ব কেউ কাউকে দেবেন না। বিশেষ করে শকুনের বাচ্চারা তো নয়ই।

সেই সিদ্ধান্ত থেকেই এবারের ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন নির্বাচন ২০১৮-এ অংশ নেয়া। তবে কার সাথে থাকবো-এটি একটি প্রশ্ন ছিলো বটে। এ নিয়েও বেশি জটিলতায় পড়তে হয় নি। জাফর ওয়াজেদ ভাইয়ের মতো ঋদ্ধ মানুষের সাহচর‌্যে থেকে জ্ঞান আহরণের সুযোগ কে হাতছাড়া করে বলেন? তাই আহবানে সাড়া দিতে একমুহুর্ত সময় নষ্ট করিনি।

নির্বাচনের অভিজ্ঞতা দুর্দান্ত। দুর্বৃত্তদের সাহস এখন এতো বেড়ে গেছে যে প্রহসণের নির্বাচনেরও আয়োজন করেন তারা! যারা করেন তারা আমাদের সকলের পরিচিত, শ্রদ্ধেয়। অথচ সেই সাংবাদিকতার শুরু থেকেই এই বড় ভাইদেরকেই আদর্শ মনে করেছি, কেউ কেউ এখনো করি। তাদের কাছেই নিজেকে নিরাপদ বোধ করেছি। অথচ সময়ের ব্যবধানে তেনারাই পরিণত হয়েছেন লোভী মানুষে। কেউ অর্থের লোভী, কেউ পদের লোভী, কেউ সুবিধা লোভী।

আমার এই লেখা সেইসব সিনিয়রদের জন্য নয়, যারা এখনো আদর্শচ্যুত হননি, যাদের কথায়-বলায় এবং চলায় এখনো স্নেহ ঝড়ে। যাদের আশীর্বাদে অন্তর তৃপ্ত হয়। আমার লেখাটা সেই সব সিনিয়রদের বিপক্ষে যারা আদর্শের লেবাস ধরে সাংবাদিকতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছেন, করেছেন এবং আগামীতে সাংবাদিকতাকে একটি অনিশ্চিত পেশায় পরিণত করার নেশায় বুদ।

আমি আতঙ্কিত, ভীত। আমার আহ্বান থাকবে- আদর্শিক লড়াইয়ে পেশা হিসেবে সাংবাদিকতাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসুন। আপনারা আসছেন না বলেই দখল হয়ে যাচ্ছে সাংবাদিকদের সবগুলো সংগঠন। পরিণত হচ্ছে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে। এদের প্রতিহত করতে হবে। দয়া করে কেউ কষ্ট পাবেন না, আমার কষ্টটা একটু অনুধাবন করবেন। একই সাথে সাংবাদিক সংগঠনগুলোর সমস্যাগুলোকে যারা জঞ্জাল মনে করে দূরে সরে আছেন, তাদের প্রতি অনুরোধ থাকবে আসুন, দলবদ্ধভাবে এসব জঞ্জাল সরাই।

তা না হলে আগামীর প্রজন্মের চোখে আমরা কেউ চোখ রেখে কথা বলতে পারবো না। এহেনো দুর্দশা, সাংবাদিকতা ও সাংবাদিকদের এহেনো সংকটে সত্যিই বড্ড অন্তর পোড়ে।


এ ক্যটাগরির আরো খবর..