ঢাকা: দেশের গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল পণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থা আরও কার্যকর ও স্থিতিশীল রাখতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ভিত্তিক ডেটা বিশ্লেষণ ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর মাধ্যমে উৎপাদন, আমদানি, সরবরাহ ও বাজার পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে আগাম সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) ঢাকায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত ই-কমার্স বাস্তবায়ন বিষয়ক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থা বর্তমানে কৃষি, খাদ্য, শিল্পসহ বিভিন্ন খাতের সংবেদনশীল পণ্য নিয়ে কাজ করছে। কোন পণ্য স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত, কোনটি আমদানিনির্ভর এবং কোনটির ক্ষেত্রে দেশীয় উৎপাদন ও আমদানির সমন্বয় রয়েছে—এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে একটি সমন্বিত ব্যবস্থাপনা কাঠামো গড়ে তোলা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, বাজারে মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম কারণ অনেক সময় সরবরাহ সংকট। কোনো পণ্যের উৎপাদন বা আমদানি উৎসে সমস্যা দেখা দিলে যাতে বাজারে আকস্মিক ঘাটতি তৈরি না হয়, সে জন্য আগাম প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি। পাশাপাশি যেসব দেশ থেকে বাংলাদেশ পণ্য আমদানি করে, সেসব দেশের উৎপাদন পরিস্থিতি, রপ্তানি সক্ষমতা এবং বৈশ্বিক বাজার প্রবণতাও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, আগে একটি তথ্য সংগ্রহ করতে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক করতে হতো এবং সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে দীর্ঘ সময় লাগত। কিন্তু এআই প্রযুক্তি গত ১০ বছরের তথ্য বিশ্লেষণ করে কয়েক মিনিটের মধ্যেই সম্ভাব্য পরিস্থিতির পূর্বাভাস দিতে সক্ষম।
তার ভাষ্য, এআইভিত্তিক ব্যবস্থা আগাম জানাতে পারবে—কোন সময়ে কোন পণ্যের ঘাটতি দেখা দিতে পারে, কোন দেশ থেকে আমদানি করলে বেশি সুবিধা পাওয়া যাবে, কোন দেশের রপ্তানি সক্ষমতা কতটুকু এবং কখন পণ্য ক্রয় করলে বাজারের জন্য সবচেয়ে লাভজনক হবে।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সারা বছর গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থা আরও স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হবে। তিনি জানান, শুধু বাণিজ্য মন্ত্রণালয় নয়, কৃষি, খাদ্যসহ সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় ও সংস্থাকে নিয়ে সমন্বিতভাবে এই কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো প্রয়োজনীয় তথ্য ব্যবহারের সুযোগও পাবে।
তিনি আরও বলেন, এআই প্রযুক্তির কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে নির্ভরযোগ্য তথ্যভান্ডার গড়ে তোলা অপরিহার্য। এজন্য সরকারি তথ্যের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ওপেন সোর্স এবং সাবস্ক্রিপশনভিত্তিক তথ্যসূত্র ব্যবহার করে একটি সমৃদ্ধ ডেটাবেজ তৈরি করা হবে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দ্রুত ও নির্ভুল তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা তৈরি করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। এর ফলে দেশের বাজার ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী হবে, সরবরাহ শৃঙ্খল উন্নত হবে এবং ভোক্তাদের স্বার্থ আরও কার্যকরভাবে সুরক্ষিত থাকবে।
সভায় ই-কমার্স খাতের উন্নয়ন, প্রযুক্তিনির্ভর বাজার ব্যবস্থাপনা এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়।

