মেহের আমজাদ, মেহেরপুর (২৫-০৮-১৭): কোরবানীর ঈদকে সামনে রেখে ব্যাস্ত সময় পার করেছে মেহেরপুরের কামাররা। তবে বর্তমানে ইস্পাত-লোহা সংকট ও কয়লার দাম বেড়ে যাওয়ায় তাদের এই পেশায় ভাটা পড়েছে। অভাবের তাড়নায় পূর্বপুরুষের এই পেশা ছেড়ে দিচ্ছে অনেকে।
মেহেরপুর জেলায় প্রায় দেড় শতাধিক কামারশালা রয়েছে। বিলুপ্তি হয়ে গেছে আরো অনেক কামারশালা। ঈদকে সমানে রেখে বছরের অন্যান্য সময়ের তুলনায় কাজের চাপ বেড়ে যাওয়ায় ব্যস্ত সময় পার করেছেন কামাররা। লোহা দিয়ে তৈরি দা, বটি, ছুরি, ডাসা সহ গৃহস্থলির নানা উপকরণ বানিয়ে জিবীকা নির্বাহ করছেন। কিন্তু বর্তমান সময়ে ইস্পাত-লোহা সংকট ও কয়লার দাম বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছে তারা। আয় রোজগার কমে যাওয়ায় মানবেতর জীবন যাপন করছে এ পেশার মানুষরা। কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়া সহ চাহিদা অনুযায়ী কাজের মূল্য না পাওয়ায় অভাবের তাড়নায় পূর্বপুরুষের এই পেশা ছেড়ে দিচ্ছে অনেকে।
মেহেরপুর শহরের বড়বাজারের কামার হোসেন আলী জানান, ঈদকে সামনে রেখে কাজের চাপ বেড়েছে তবে কয়লা ও লোহার দাম বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন তারা। এই পেশা থেকে সংসার না চলার কারনে পেশা বদলাতে বাধ্য হচ্ছে অনেকেই। আগের তুলনাই ব্যবসার কদরও কমেছে অনেক। চাহিদা অনুযায়ী কাজের মূল্য না পাওয়ায় এই ব্যবসা করে সংসার চালানো সম্ভব হয় না।
মেহেরপুর শহরের কাথুলী বাজার মোড়ের কামার হামিদুল জানান, আগে কয়লার দাম ছিল ২৫ টাকা থেকে ৩০টাকা কিন্তু এখন দাম বেড়ে হয়েছে ৫০টাকা থেকে ৬০টাকা। ইস্পাত-লোহা পাওয়া যায় না। মেহেরপুর সদর উপজেলার গোভীপুর গ্রামের কামার বিষু কর্মকার (৫০) দশ বারো বছর বয়স থেকে বড় দাদার হাত ধরে এ পেশায় এসেছেন । তার ভাষ্য মতে এ কাজের চহিদা আর আগের মত নেই যা আয় হয় তাতে সংসারটা কোন রকমে চলে যায় কিন্তু সঞ্চয় হয় না। তবে বছরের এ সময়টুকুতে কাজের চাহিদা বেশ ভালোই থাকে।
বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ এনামুল আযীম ও বিশিষ্টজনের মতে, কৃষি ক্ষেতে নিড়ানীর পরিবর্তে আগাছানাশক কীটনাশক প্রয়োগ ও আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহারের ফলে কামারদের কাজের চাহিদা অনেকাংশে কমে গিয়েছে। তাই নতুনভাবে এ পেশায় তেমন কেউ আর আগ্রহ দেখাচ্ছে না। তবে বিশিষ্টজনেরা মনে করেন সরকারী বেসরকারী উদ্যোগ ও পৃষ্ঠপোষকাতর মাধ্যমে দেশীয় এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখা সম্ভব।


