মেহের আমজাদ, মেহেরপুর (২৫-০৮-১৭): লাভের আশায় এ বছর অগ্রীমভাবে বাঁধাকপি চাষ করেছিলেন মেহেরপুর জেলার সহ¯্রাধিক কৃষক। আবহাওয়া অনুকুল থাকায় সর্বাত্মক পরিচর্যা ও যতেœ বাঁধাকপি হয়ে উঠেছিল দৃষ্টিনন্দনীয়। তাই স্বাভাবিকভাবেই সর্বদা অর্থসংকটে থাকা কৃষকেরা দু’টি লাভের পয়সা ঘরে তুলতে আশায় বুক বেঁধেছিলেন। কিন্তু ফসল বাজারজাতকরণের ঠিক আগমূহুর্তে অতিবৃষ্টির ফলে সমস্ত আশা, আকাংখা খড়কুটোর মত ভেসে গিয়েছে। একটানা ঘণ ঘণ বৃষ্টিপাতে জমিতে পানি জমে যাওয়ায় জমির সমস্ত ফসল পচে গিয়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এস এম মোস্তাফিজুর রহমানের দেওয়া তথ্যানুসারে এ বছর এ জেলায় ৪১০ হেক্টর জমিতে বাঁধাকপির চাষ হয়েছিল। তিনি আরো বলেন, অতিবৃষ্টির ফলে বাঁধাকপি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
মেহেরপুর সদর উপজেলার গোভীপুর গ্রামের কৃষক এরশাদ (৪০) বলেন, অনেক কষ্টে ৩ (তিন) বিঘা জমিতে বাঁধাকপির চাষ করেছিলাম কিন্তু বৃষ্টির কারণে তার জমির সব বাঁধাকপি নষ্ট হয়ে গিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বিঘা প্রতি জমিতে বিশ হাজার টাকা করে মোট ষাট হাজার টাকা খরচ হয়েছে কিন্তু একটা টাকাও ঘরে তুলতে পারিনি। একই অবস্থা উপজেলার কামদেবপুর গ্রামের আমিরুল ইসলাম (৩৫) এর তিনি দুই বিঘা জমিতে আটত্রিশ হাজার টাকা ব্যয়ে বাঁধাকপির চাষ করেছিলেন কিন্তু অতিবৃষ্টির ফলে তারও জমির সমস্ত কপি নষ্ট হয়ে গিয়েছে। জেলার প্রায় সমস্ত বাঁধাকপি চাষিদের একই অবস্থা হয়েছে, যারা অতিবৃষ্টির ফসল বাজারজাত করতে পেরেছিলেন শুধুমাত্র তারাই কিছুটা লাভবান হয়েছেন তাছাড়া অতিবৃষ্টি পরবর্তী উল্লেখযোগ্য কোন কৃষক তাদের ফসল ঘরে তুলতে পারননি । কিন্তু যারা অতিবৃষ্টি পূর্ববর্তী সময়ে ফসল ঘরে তুলতে সক্ষম হয়েছেন তাদের সংখ্যা খূুবই নগন্য।

