ঢাকা: সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত সরকারি জলমহাল ইজারা প্রদান সংক্রান্ত কমিটির ৯১তম সভায় জলমহাল ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, টেকসই নীতি ও রাজস্ব নিশ্চিত করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
আজ সভায় সভাপতির বক্তব্যে ভূমিমন্ত্রী মোঃ মিজানুর রহমান মিনু স্পষ্ট করেন যে, জলমহাল কোনো ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়, এটি জনগণের সম্পদ।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এবং ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ. এস. এম. সালেহ আহমেদ।
বৈঠকের মূল সিদ্ধান্ত ও অনুমোদন
সভায় বিভিন্ন জেলার পাঠানো জলমহাল ইজারা প্রস্তাবনাগুলো নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করা হয়। প্রাপ্ত প্রস্তাবনা থেকে অনুমোদিত জলমহালের বিবরণ নিচে দেওয়া হলো:
* কিশোরগঞ্জ জেলা: ১২টির মধ্যে ৯টি প্রস্তাব অনুমোদন।
* খুলনা জেলা: ১২টির মধ্যে ৬টি প্রস্তাব অনুমোদন।
* হবিগঞ্জ জেলা: ৩০টির মধ্যে ২০টি প্রস্তাব অনুমোদন।
* সুনামগঞ্জ জেলা: ৫৪টির মধ্যে ৪৩টি প্রস্তাব অনুমোদন।
* পাবনা জেলা: ২৩টি জলমহাল উন্মুক্ত করার প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদিত হয়।
বাকি অসামঞ্জস্যপূর্ণ প্রস্তাবনাগুলো অধিকতর যাচাই-বাছাইয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যেসকল ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত মূল্য উপযুক্ত নয়, সেগুলোতে পুনরায় ইজারা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
নীতি ও কৌশলগত দিকনির্দেশনা
ভূমিমন্ত্রী এবং প্রতিমন্ত্রী উভয়েই ইজারা প্রক্রিয়ায় আইনগত ও নৈতিক মানদণ্ড বজায় রাখার নির্দেশ দেন।
“সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী আমরা ‘জাল যার জলা তার’ নীতিতে বিশ্বাসী। জনস্বার্থ, পরিবেশ সংরক্ষণ ও দরিদ্র জেলেদের জীবিকা সুরক্ষায় কর্তৃপক্ষকে মানবিক ও টেকসই পদক্ষেপ নিতে হবে।”
প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন প্রচলিত আইন মেনে স্থানীয় সংসদ সদস্যদের পরামর্শক্রমে ইজারা মূল্য যুগোপযোগী করতে এবং সরকারের সর্বোচ্চ রাজস্ব নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন।
ভার্চুয়ালি যুক্ত থাকা সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোর জেলা প্রশাসক ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে এই ইজারা কার্যক্রম দ্রুত ও স্বচ্ছতার সাথে সম্পন্ন করার নির্দেশনা দিয়ে সভা শেষ হয়।



