সন্ন্যাসীদের পিটিয়ে মারা আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চূড়ান্ত ব্যর্থতা -তপন ঘোষ

সন্ন্যাসীদের পিটিয়ে মারা আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চূড়ান্ত ব্যর্থতা -তপন ঘোষ

সায়ন পালঃ মহারাষ্ট্রে গত ১৬ এপ্রিল দুই জন হিন্দু সন্ন্যাসী ও একজন ড্রাইভারকে নৃশংসভাবে পিটিয়ে হত্যা করেছে প্রায় ২০০ গ্রামবাসীর একটি হিংস্র ভিড়। জুনাগড় আখড়ার স্বামী কল্পবৃক্ষ গিরি মহারাজ (৭০) এবং সুশীল গিরি মহারাজ (৩৫) এবং গাড়ির ড্রাইভার নিলেশ তেলগেরে (৩০) এই ঘটনায় নিহত। সন্ন্যাসীদের পিটিয়ে মারা আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চূড়ান্ত ব্যর্থতা।

এ প্রসঙ্গে হিন্দু সংহতির প্রতিষ্ঠাতা তথা প্রাক্তন সভাপতি  তপন ঘোষ বলেন, ঘটনাটি ১৯ এপ্রিল সন্ধ্যায় আমি সোস্যাল মিডিয়াতে দেখতে পাই একটি ছোট ভিডিও ক্লিপের মাধ্যমে। তখন থেকেই আমি প্রচণ্ড মানসিক কষ্টে আছি। বিশেষ করে মহারাষ্ট্রে এই ঘটনা ঘটায়। বহু মানুষ এই ঘটনার উপর আমার প্রতিক্রিয়া বা মন্তব্য জানতে চাইছেন। কিন্তু ঘটনাটির পিছনে ঠিক কারা আছে এবং কাদের চক্রান্ত আছে সেটা বুঝতে পারছি না বলে আমার প্রতিক্রিয়া জানাতে দেরী হল। এখনো স্পষ্ট চিত্র আমার কাছে নেই।

তিনি আরো বলেন, নিঃসন্দেহে এই ঘটনা মহারাষ্ট্রে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চূড়ান্ত ব্যর্থতার পরিচয়। এজন্য মহারাষ্ট্র সরকার দায়ী। উদ্ধব ঠাকরে তাঁর দায়িত্ব এড়িয়ে যেতে পারেন না।

পালঘর জেলা সম্বন্ধে আমার ভাল জ্ঞান নেই। তাই গত দুদিন ধরে আমি যথেষ্ট অনুসন্ধান করছি ওই এলাকা সম্বন্ধে এবং এই ঘটনা সম্বন্ধে। নেট সার্চ করে এবং মহারাষ্ট্রে অনেককে ফোন করে বহু তথ্য জানতে পেরেছি। এই ঘটনার পিছনের কারণ সম্বন্ধে কিছুটা আভাস পাওয়া গেছে। তা সত্বেও এখনো চিত্র পরিষ্কার হয়নি। একাধিক সম্ভাবনা এখনো মনে হচ্ছে। তাই চূড়ান্ত কথা বলার সময় এখনো আসেনি। তবু কিছু তথ্য জানিয়ে রাখি।

তপন ঘোষ দি নিউজ  এর প্রতিনিধিকে জানান,  পালঘর জেলা উত্তর পশ্চিম মহারাষ্ট্রের একটি জেলা যা দক্ষিণ গুজরাটের সুরাট এর পাশের জেলা। মহারাষ্ট্র ও গুজরাটের এই পুরো এলাকাটা আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকা এবং এই এলাকায় গত প্রায় ১০ বছর ধরে খ্রীস্টান মিশনারী ও চার্চগুলি ধর্মান্তরকরণের কাজে লেগে আছে। এই সন্ন্যাসীদের পিটিয়ে মারার পেছনে খ্রীস্টান মিশনারীর হাত আছে। বিশেষ করে স্বামী অসীমানন্দজী গ্রেপ্তার হওয়ার পর ওই এলাকায় খ্রীস্টান ধর্মান্তরকরণের কাজে গতি আসে। তার বেশ কিছুটা প্রতিফলন পড়ে ২০১৭ গুজরাট বিধানসভা নির্বাচনে। দক্ষিণ গুজরাটের অনেকগুলি সীট বিজেপির হাতছাড়া হয়ে কংগ্রেস জেতে।

রাজ্যে বিজেপির মোট সীট ১১৬ (২০১২) থেকে কমে ৯৯ হয়। এবং কংগ্রেসের সীট ৫৯ (২০১২) থেকে বেড়ে ৭৭ হয়। দক্ষিণ গুজরাটের আদিবাসী অধ্যুষিত সীটগুলি বিজেপি হারালো ওই ধর্মান্তরণের জন্যই। প্রতিবেশী পালঘর (মহারাষ্ট্র) জেলাতেও খ্রীস্টান মিশনারীরা তাদের ওই কুকাজ শুরু করে দেয়। এবং প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিস (২০১৪-১৯) ওই খ্রীস্টান ধর্মান্তরকরণের কাজে বেশ প্রশ্রয় দিয়েছেন। তাঁর স্ত্রী অমৃতা ফড়নবিস ২০১৭ সালে বড়দিনে ক্রিসমাস উপলক্ষ্যে গরীবের জন্য সান্টাক্লজ হয়ে ডোনেশন সংগ্রহে অংশ নেন। ফলে অনেকেরই ধারণা যে ফড়নবিস পত্নীর খ্রীস্টানদের প্রতি দুর্বলতা আছে। তাঁর প্রভাবেই কিনা জানা নেই, দেবেন্দ্র ফড়নবিসের মিশনারীদের দেশবিরোধী কার্যকলাপে এই প্রশ্রয় দেওয়া।

পালঘর জেলায় একজন এমপি। তিনি বিজেপির। জেলায় দুজন এমএলএ। একজন শিবসেনার। আর একজন, আশ্চর্য্য, সি পি এম এর। দুজন সন্ন্যাসীকে হত্যার ঘটনা ঘটেছে সিপিএম বিধায়ক বিনোদ নিকোলে র কেন্দ্রে। এখানে সিপিএম শিবসেনার সঙ্গে জোটে আছে। তার উপাধি নিকোলে দেখে মনে হচ্ছে, ধর্মান্তরিত খ্রীস্টান। এবং তিনি একজন সিপিএমের প্রভাবশালী কৃষক নেতাও বটেন।

সন্ন্যাসীদেরকে মব লিঞ্চিং করে হত্যার যে ভিডিও ক্লিপ পাওয়া গেছে তাতে এক বা একাধিক মুসলিম নাম শোনা যাচ্ছে। তবু নিশ্চিত করে বোঝা যাচ্ছে না এই ঘটনায় মুসলমানদের হাত আছে কিনা। কারণ হিন্দু মারাঠিদের অনেকেরই ওই রকম নাম থাকে। আরো একটি তথ্য জানা দরকার। ওই এলাকায় অতিবাম মাওবাদী-দেরও কিছু প্রভাব আছে। সুতরাং আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকা, খ্রীস্টান মিশনারীদের তৎপরতা, সিপিএম বিধায়ক, মাওবাদী প্রভাব। এগুলির মধ্যে কোন্ টা বা কোন্ কোন্ ফ্যাক্টর এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পিছনে আছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে ষড়যন্ত্র এবং পুলিশের ব্যর্থতা – এদুটি নিশ্চিত। জেহাদী শক্তি এই ঘটনায় জড়িত থাকার তেমন কোন প্রমাণ এখনো পাওয়া যায় নি। তবে আমি ব্যক্তিগতভাবে এই সম্ভাবনাকে একেবারে উড়িয়ে দিচ্ছি না। একজন বিজেপি নেতা (প্রেম শুক্লা) টিভিতে অভিযোগ করেছেন, এই হত্যার পিছনে একটি মন্দিরের সম্পত্তি দখলের চক্রান্ত আছে।

ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর মহারাষ্ট্র সরকারের তৎপরতা যথেষ্ট ভাল বলেই মনে হচ্ছে ( যদিও ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে স্বামী কল্পবৃক্ষ গিরি মহারাজ বাঁচার জন্য পুলিশের পিছে দৌড়ে যাচ্ছেন, পুলিশ আবার এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় সরে যাচ্ছে যেন মারগুলো তার গায়ে না লেগে মহারাজের গায়ে লাগে) মোট ১১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার মধ্যে ৯ জন নাবালক বলে হোমে পাঠানো হয়েছে। ১০১ জনকে জেলে পাঠানো হয়েছে। আরো ৫ জন নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিকে আটক করে থানায় নিয়ে এসে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। এরা সবাই সিপিএম কর্মী বলে জানা গেছে। তাদেরও গ্রেপ্তারের সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া দুজন ইন্সপেক্টর স্তরের পুলিশ অফিসারকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। যারা গ্রেপ্তার হয়েছে তাদের জন্য উকিলের ব্যবস্থা করা ও জামিন করানোর চেষ্টা করছে সিরাজ বালসারা নামে একজন ব্যক্তি যে একটি খ্রীস্টান NGO র সঙ্গে যুক্ত আছে। এই এলাকায় সিপিএমের জোরালো উপস্থিতির কারণে হিন্দু সন্ন্যাসীদের উপর এই মব লিনচিং এর ঘটনার সঙ্গে কলকাতার বিজন সেতুর ঘটনার সাদৃশ্য পাওয়া যাচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, সারা দেশে জেহাদী,  খ্রীস্টান মিশনারী, সিপিএম ও অতিবামপন্থী – এই চার ধরণের শক্তি লিপ্ত রয়েছে হিংসা, নাশকতামূলক কাজ ও দেশ ভাঙার কাজে। বহু ঘটনায় তার ঝলক দেখা যায়। এটাও সেইরকমই একটি ঘটনা কিনা তা তাড়াতাড়ি জানা যাবে বলে আমার বিশ্বাস। একটা চার মিনিটের ভিডিও পেয়েছি যেটা দেখে মনে হচ্ছে যে ধর্মরক্ষায় প্রাণ আহুতি দেওয়া উড়িষ্যার স্বামী লক্ষ্মণানন্দজী র মত স্বামী কল্পবৃক্ষগিরি মহারাজও একজন সক্রিয় ধর্মরক্ষক ধর্মান্তর প্রতিরোধে সক্রিয় যোদ্ধা ছিলেন। ওই ভিডিওটি এখনই পোস্ট করা উচিত নয় বলে মনে হয়। তাই এখন পোস্ট করছি না।
পালঘর ঘটনার আরো একটা বিষয় লক্ষ্য করুন। বিজেপির সাক্ষী মহারাজ এবং অন্য নেতারা উদ্ধব ঠাকরে ও তাঁর সরকারকে যেভাবে দায়ী করছেন, দেবেন্দ্র ফড়নবিস কিন্তু সরকারকে একবারও দোষারোপ করছেন না। শুধু দুঃখপ্রকাশ করে উচ্চস্তরীয় তদন্ত করতে বলছেন। আমার সন্দেহ, খ্রীস্টান মিশনারীরা জড়িত বলে ফড়নবিস নরম।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Kishori
লেখক / প্রতিবেদক

Kishori

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।