নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস আয়োজনের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের সকল শিক্ষার্থীদের শিক্ষার পাশাপাশি খেলাধুলা প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে। প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে মেধা বিকাশের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আগামীর অ্যাম্বাসেডর হতে হবে।
শনিবার (০২ মে) সিলেট স্টেডিয়ামে শিশু-কিশোরদের উপস্থিতিতে ‘ক্রীড়া হলে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা’- এ স্লোগানকে সামনে রেখে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬-এর উদ্বোধন করে এসব কথা বলেন তিনি।
বিকেল ৫টায় মহানগরীর রিকাবীবাজারে সিলেট স্টেডিয়ামে শিশু-কিশোরদের উপস্থিতিতে একটি লাল বাটন চেপে ট্রফি ও লোগো উন্মোচনের মাধ্যমে এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।
পরে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে সরকার প্রধান বলেন, আদর্শ ও মেধাবী মানুষ হিসেবে নিজেদের (শিশু) গড়ে তুলতে সব ধরণের সহযোগিতা করবে সরকার।
শিক্ষার্থীদের তুমুল করতালির মধ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন,
আজকে বক্তব্য দিতে ইচ্ছা করছে না। মনে হচ্ছে তোমাদের সাথে কথা বলি। এখন পড়তে হবে, আর খেলতে হবে। নিজেদেরকে তৈরি করতে হবে। যে খেলোয়াড় হতে চায়, সে খেলোয়াড় হবে। একই সাথে যে গান শিখতে চায় সে গান শিখবে, যে মিউজিশিয়ান হতে চায় সে মিউজিশিয়ান হবে। সেই ব্যবস্থা আমরা ইনশাল্লাহ করব।
সিলেটসহ ৬৪ জেলায় একযোগে অনুষ্ঠিত নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬ এর এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের প্রধান অতিথি হিসেবে সম্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী বলেন,
আজকে এই গ্যালারিতে বসে থাকা ক্ষুদে শিক্ষার্থী সহ সারাদেশের ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা, তোমরাই এই অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ছোট বন্ধুরা, আমাদের সময় প্রায় শেষ। এখন বাংলাদেশ তাকিয়ে আছে তোমাদের দিকে। আমরা শুরু করে দিয়ে যাব। বাংলাদেশকে তোমাদের সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। তোমরা কী পারবে?’
এই সময়ে পুরো গ্যালারিতে অবস্থানকারী শিক্ষার্থীরা উচ্চ কন্ঠে বলেছে, ‘ হ্যাঁ পারবো।’ জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি জানি তোমরা অবশ্যই সবাই পারবে ইনশাল্লাহ।’
ছোট্ট শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন,
দেশকে তোমরা নেতৃত্ব দেবে, তোমরা সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে। এই বাংলাদেশে তোমাদের মধ্য থেকে এমপি হবে, মন্ত্রী হবে, প্রধানমন্ত্রী হবে, প্রেসিডেন্ট হবে ইনশাল্লাহ।’
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘তোমাদের প্রত্যেককে গড়ে উঠতে হবে। তাহলেই বাংলাদেশ গড়ে উঠবে। আগামীর বাংলাদেশ সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করছে তোমাদের উপরে। তোমরা যত ভালোভাবে সুন্দরভাবে গড়ে উঠবে, বাংলাদেশ তত সুন্দরভাবে শক্তিশালী ভিত্তির উপরে গড়ে উঠবে।’
দেশের সকল শিক্ষার্থীদের শিক্ষার পাশাপাশি খেলাধুলা প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে এ কথা জানিয়ে প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে মেধা বিকাশের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আগামীর অ্যাম্বাসেডর হওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
বক্তব্য শেষে পুরো মাঠ ঘুরে ক্ষুদে প্রতিযোগী ও স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে থাকা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন সরকার প্রধান। এসময় আনন্দঘন পরিবেশ তৈরি হয় সিলেট জেলা স্টেডিয়াম।
সারা দেশের জেলা স্টেডিয়ামগুলোতেও এ সময় ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন খুদে ক্রীড়াবিদরা। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক এ সময় প্রধানমন্ত্রীর পাশে ছিলে।
সারাদেশে শিশু-কিশোরদের মধ্য থেকে প্রতিভা অন্বেষণে এ উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর যাত্রা শুরু হলো। এর মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদ গড়ে তুলতে আশির দশকের জনপ্রিয় প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচি ‘নতুন কুঁড়ি’র ধারাবাহিকায় এবার ইউনিয়ন ও সিটি করপোরেশনের ওয়ার্ড পর্যায় থেকে এই কার্যক্রম শুরু করল সরকার।
১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশু-কিশোরদের সুপ্ত ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণ, বাছাই এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে তাদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ তৈরি করাই এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।




