× Banner
সর্বশেষ
দেশের সাইবার নিরাপত্তা জোরদারে সিআইআরএস ও এনআরএস উদ্বোধন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে সৌদির পররাষ্ট্র উপমন্ত্রীর বৈঠক বাংলাদেশ-সৌদি সম্পর্ককে কৌশলগত অংশীদারত্বে উন্নীত করতে চায় সরকার -প্রধানমন্ত্রী প্রগতিশীল ও উন্নত সমাজ বিনির্মাণে স্থিতিশীল আইন-শৃঙ্খলা অপরিহার্য – পানি সম্পদ মন্ত্রী জনগণ পরিবর্তন চেয়েছে বলেই জুলাই আন্দোলন সফল হয়েছে – প্রধানমন্ত্রী সৌদিতে কফিল আকামা নবায়ন না করলেও অন্য নিয়োগকর্তার অধীনে নবায়নের সুযোগ বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশের অবস্থান সবসময় শান্তির পক্ষে – প্রধানমন্ত্রী ‎ বৃহত্তর ময়মনসিংহের উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রীর জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ২০২৬ উপলক্ষে রাজধানীতে গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের ভ্রাম্যমান সংগীত কর্মসূচি শুরু সেতু বিভাগ এবং বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ২০২৬’ পালিত হচ্ছে

যশোরের গদখালীতে ৭০ কোটি টাকার ফুল বিক্রির টার্গেট

admin
হালনাগাদ: শনিবার, ৯ ফেব্রুয়ারী, ২০১৯

স্টাফ রিপোর্টার বেনাপোলঃ দরজায় কড়া নাড়ছে বসন্ত।  আর ক’দিন পর বিশ্ব ভালোবাসা দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।  আর এ দিবসগুলোর বাজার ধরতে ব্যাস্ত সময় পার করছে যশোরের গদখালি এলাকার ফুলচাষীরা।  ২১ ফেব্রুয়ারী মাতৃভাষা দিবসে আমরা ভাষা শহীদদের প্রতি সম্মান জানাতে ফুল ব্যবহার করি।  এদিন শহীদ মিনারের প্রতিটি কানা ভরে ওঠে বিভিন্ন রঙের ফুলে। ফুল ব্যবসায়ীদের কছে পুরো ফেব্রুয়ারী মাসটি ব্যবসায়ের উৎসব হিসেবে বিবেচিত।  তবে ১৩ ও ১৪ ফেব্রুয়ারী এই দু’দিনে ফুল বিক্রি অন্যতম উচ্চতায় পৌঁছায় ফুলচাষীদের। এ সময়কে কেন্দ্র করে এখানকার ফুল ব্যবসায়ীদেরও থাকে বিশেষ প্রস্তুতি।
বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার সোসাইটির তথ্যমতে, এবার যশোরে পাইকারি পর্যায়ে ৭০ কোটি টাকার ফুল বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যশোরে প্রায় ৬ হাজার ফুল চাষী ১৫ শত হেক্টর জমিতে বিভিন্ন প্রকার ফুল চাষের সাথে সম্পৃক্ত। তার ভিতর সবচেয়ে বেশি চাষ হয় গ্যালোরিয়াস শতকরা ৪০% চাষ করে এখানকার ফুল চাষীরা। তার পরই ২০% চাষ হয় রজনিগন্ধা। গোলাপ ১৫% চাষ হয়। তাদের উৎপাদিত জারবেরা, গাঁদা, জিপসি, রডস্টিক, কেলেনডোলা, চন্দ্র মল্লিকাসহ ১১ ধরনের ফুল সারাদেশের মানুষের মন রাঙাচ্ছে এখানকার চাষীরা।
শনিবার সকালে সরেজমিনে যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার গদখালি, পানিসারা, নাভারণ, নিরবাসখোলা এলাকার মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, জমিতে সেচ প্রদান, গোলাপের কুঁড়িতে ক্যাপ পরানো, সার-কীটনাশক, আগাছা পরিস্কার করাসহ ফুলের আনুসাঙ্গিক পরিচর্যা করছেন চাষীরা। তাদের লক্ষ এ মাসের প্রতিটা ফুলের বাজার ধরা।
পানিসারা মাঠপাড়া এলাকার ফুল চাষী তবিবর জানান, ফুল চাষে আসা বংশপরমপরায়। আমার বাবা ফুল চাষ করতো। এখন আমিও ফুল চাষের সাথে সংপৃক্ত। আমি ৪ বিঘা জমিতে ফুল চাষ করেছি। তার মধ্য রজনিগন্ধা ২ বিঘা ও ১ বিঘা গোলাপ ও ১ বিঘা জারবেরা। সামনে ফুলের বড় বাজার তাইতো বাজার ধরতে সকাল-বিকাল ফুলের পরিচর্যা করছি।
গদখালিতে কথা হয় তরুণ ফুল ফুলচাষী আশরাফুল ইসলাম চান্দু তিনি বলেন, ৪ বিঘা গোলাপ, ২ বিঘা জারবেরা ও ১ বিঘা গ্যালোরিয়াস ও রডস্টিক চাষ করেছেন। আমরা গোলাপের কুঁড়িতে ক্যাপ পরিয়ে রাখি, যাতে ফুল একটু দেরি করে ফোটে। বসন্ত দিবস, ভালবাসা দিবস আর ২১ ফেব্রুয়ারীতে যাতে ফুল বাজারে দেওয়া যায়। প্রতিটি গোলাপে ক্যাপ পরানোসহ খরচ প্রায় ৪ টাকার মতো। যদি ৭-৮ টাকা বিক্রি করা যায় তাহলে মুনাফা বেশি পাবো বলে আশাবাদ। ফুল চাষের উপর প্রশিক্ষণ নিয়ে তিনি সফল ভাবে ফুল চাষ করে যাচ্ছেন।
নাভারণ ফুল চাষি ও ব্যবসায়ী নজরুল আলম জানান, তিনি ফুল ব্যবসায়ের সাথে ফুল চাষ করছেন। তার চাষের মধ্য জারবেরা, গাঁদা, জিপসি, রজনিগন্ধাসহ বেশ কয়েকটি ফুল চাষ করছে লাভজনক ভাবে। কিন্তু তার জারবেরা ফুলে মাকড় পোকা বিস্তার করেছে । সেই সাথে সাদা মাছি। কৃষি কর্মকতাদের পরামর্শ মতো কীটনাশক দিয়ে এই পোকামাকড় বিস্তার নষ্ট করার টেষ্টা করছি। গত দু-তিনমাস ব্যবসাটা কিছুটা খারাপ গেছে। সময়মতো সামনের দিবস গুলোতে যদি বাজার ধরতে পারি তা হলে ৩-৪ লক্ষ টাকার মতো ফুল বিক্রয় করতে পারবো।
বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার সোসাইটির সভাপতি আব্দুর রহিম বলেন, যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলারসহ এ জেলায় বাণিজ্যিক ভাবে ফুলের চাষ হচ্ছে।  ১৯৮৩ সালে গদখালীতে মাত্র ৩০ শতক জমিতে ফুল চাষ শুরু হয়। এখন চাষ হচ্ছে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার হেক্টর জমিতে। দেশে ফুলের মোট চাহিদার ৭০ ভাগই যশোরের গদখালী থেকে সরবরাহ করা হয়। দেশের গন্ডি পেরিয়ে এই ফুল এখন যাচ্ছে দুবাই, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়াতেও।
বাংলাদেশে বর্তমান সময়ে ৩০ লক্ষ মানুষের জীবিকা এই চাষ বা ফুলকে কেন্দ্র করে। প্রায় ২০ হাজার কৃষক ফুলচাষের সঙ্গে সম্পৃক্ত। এর মধ্যে কেবল যশোরেই প্রায় ৬ হাজার ফুলচাষী রয়েছেন। সামনের দিবসগুলোকে কেন্দ্র করে প্রায় ৭০ কোটি ফুল বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সারাবছর টুকটাক ফুল বিক্রি হলেও মূলত ফেব্রুয়ারী মাসের তিনটি উৎসবকে সামনে রেখেই জোরেশোরে এখানকার চাষীরা ফুল চাষ করে থাকেন।
কিন্তু কিছু অসাধু ব্যাক্তিরা প্লাস্টিক ফুলকে আমদানি বা তৈরির জন্য ব্যবসাটি কমে যায়। এ প্লাস্টিক বাজারজাত করণ যদি সরবারহ বন্ধ করতো তা হলে ফুল চাষে আরো বৃদ্ধি ও লাভবান হবে বেশি। তাছাড়া ঢাকায় স্থায়ী ফুলের বাজার স্থাপন করতে পারলে ফুলের চাষ ও ব্যবসা প্রসার ঘটবে।


এ ক্যটাগরির আরো খবর..