মন্ত্রণালয়ভিত্তিক সংস্কারের এজেন্ডা গ্রহণে প্রধান উপদেষ্টাকে চিঠি

মন্ত্রণালয়ভিত্তিক সংস্কারের এজেন্ডা গ্রহণে প্রধান উপদেষ্টাকে চিঠি
মন্ত্রণালয়ভিত্তিক সংস্কারের এজেন্ডা গ্রহণসহ ৮ দফা সুপারিশে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে চিঠি দিয়েছে শিক্ষা ও গবেষণামূলক সংগঠক মুভমেন্ট ফর ওয়ার্ল্ড এডুকেশন রাইটস।
গতকাল বুধবার তার দায়িত্বে থাকা কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের মেইলে এ চিঠি দেওয়া হয়। সংগঠনটির আহ্বায়ক ফারুক আহমাদ আরিফ ও যুগ্ম আহ্বায়ক এনায়েত উল্লাহ কৌশিকের বৃহস্পতিবার (২৯ আগস্ট ২৪) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে।
চিঠিতে প্রধান উপদেষ্টার সুযোগ্য ও সুদক্ষ নেতৃত্বে বাংলাদেশ একটি সুন্দর, কল্যাণকর ও সমৃদ্ধময় দেশে পরিণত হবে বলে প্রত্যাশা করে মুভমেন্ট ফর ওয়ার্ল্ড এডুকেশন রাইটসের পক্ষ থেকে  সুদৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।
সেখানে বলা হয়, আপনার নেতৃত্বে দায়িত্ব গ্রহণের ২০ দিন অতিবাহিত হলেও মন্ত্রণালয়ভিত্তিক সংস্কার, পরিবর্তন ও পরিবর্ধনের ব্যাপারে কোন এজেন্ডা ঘোষণা করা হয়নি। তবে আশার আলো হচ্ছে ২৪ আগস্ট মুভমেন্ট ফর ওয়ার্ল্ড এডুকেশন রাইটসের বেশকিছু দাবি ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্য গণমাধ্যমে প্রকাশের পর প্রধান উপদেষ্টা দায়িত্ব গ্রহণের ১৮ দিন পর জাতির সামনে প্রথম ভাষণ দিয়েছেন। এই ভাষণে অনেক কিছুই উঠে এসেছে। তবে অনেক বিষয়ই অস্পষ্ট রয়ে গেছে বলে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
চিঠিতে মুভমেন্ট ফর ওয়ার্ল্ড  এডুকেশন রাইটসের প্রত্যাশা উল্লেখ করে বলা হয়, বিশেষভাবে করে রাষ্ট্রের সংস্কার (মন্ত্রণালয়ভিত্তিক), জাতীয় নির্বাচন, সরকারের মেয়াদ, ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানে নিহত ও আহত ব্যক্তি ও পরিবারের ওপর বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন বলে দাবি করা হয়।
বক্তব্যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কিছু সংস্কার কাজ শুরু করেছে বলে উল্লেখ করলেও কাজগুলো কী তা জানানো হয়নি। এ অবস্থায় সংগঠনটি বিশ্বাস করে আগামী সেপ্টেম্বরের প্রথম দিন থেকে এসব বিষয়ে জাতির কল্যাণে কাজ শুরু করবে ও অন্যান্য উপদেষ্টাদের কাজ করতে নির্দেশনা দেওয়া হবে।
মুভমেন্ট ফর ওয়ার্ল্ড এডুকেশন রাইটসের পক্ষ থেকে প্রস্তাবগুলো হলো-
এক. মন্ত্রণালয়ভিত্তিক সংস্কার, পরিবর্তন ও পরিবর্ধনে কার্যক্রম শুরু করা। এক্ষেত্রে মন্ত্রণালয়ভিত্তিক অভিজ্ঞতা সম্পন্ন রাজনৈতিক, পেশাজীবী, বুদ্ধিজীবী, শিক্ষাবিদ, শিক্ষার্থীসমাজ, সংগঠন, সংস্থা ও জনসাধারণের লিখিত ও আলোচনাভিত্তিক মতামত গ্রহণ করা।
দুই. প্রত্যেক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে একটি করে নতুন মেইল খুলে সেখানে বিজ্ঞাপন আকারে মতামত আহ্বান করা দরকার। তাতে প্রত্যেকেই নিজ নিজ পূর্ণাঙ্গ পরিচয়/নাম না প্রকাশ সাপেক্ষে মতামত দিবেন। একটি কমিটি সেগুলো সমন্বয় করবে।
তিন. প্রত্যেক মন্ত্রণালয়ে তিনদিন অন্তর করে ৪০টি মন্ত্রণালয়ে এই আলোচনার ব্যবস্থা করা।
চার. প্রত্যেক উপদেষ্টাকে দাপ্তরিক কাজের সঙ্গে সঙ্গে সভা-সেমিনার, সংগঠনের ব্যক্তিবর্গের সময়দানে নির্দেশ দেওয়া।
পাঁচ. এসব কাজের জন্য স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী সর্বোচ্চ দুই বছরের মধ্যে সমাধানের সময়সীমা বেধে দেওয়া।
ছয়. বিদেশে অবস্থানরত দূতাবাসগুলো যাতে সঠিকভাবে কাজ করতে পারে সেই লক্ষে একটি নাগরিক প্রবাসী কমিটি গঠন করা, যারা প্রবাসীদের নানা সমস্যা নিয়ে সরকারকে নিরপেক্ষ পরামর্শ দিবেন।
সাত. ওআইসিসহ অন্যান্য রিজিওন্যাল প্রতিষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা।
আট. রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে সরকারের পাশাপাশি আলাদাভাবে নাগরিক সেল করে সঠিক সমাধান দেওয়া।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, মুভমেন্ট ফর ওয়ার্ল্ড এডুকেশন রাইটস গত ২৪ আগস্ট থেকে ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি জনপ্রত্যাশা ও আগামীর করণীয়’ শীর্ষক সংলাপ শুরু করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ভিত্তিক এসব সংলাপের প্রথম পর্বে স্বরাষ্ট্র, আইন, বিচার ও সংসদ, শিক্ষা এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন সংস্কার ও পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ভিত্তিক অভিজ্ঞতা সম্পন্ন রাজনৈতিক, পেশাজীবী, বুদ্ধিজীবী, শিক্ষাবিদ, শিক্ষার্থীসমাজ, সংগঠন, সংস্থা ও জনসাধারণের লিখিত ও আলোচনাভিত্তিক মতামত গ্রহণ শুরু করেছে।
আগামী নভেম্বর পর্যন্ত প্রতি সপ্তাহে একদিন এ কাজ চালিয়ে যাওয়া হবে। ইতিমধ্যে ওয়েবিনার থেকে পাওয়া মতামত সংশ্লিষ্ট কিছু মন্ত্রণালয়ে মেইল করা হয়েছে। আগামীতে যেসব মতামত ও কর্মপন্থা পাওয়া যাবে তা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো অব্যাহত থাকবে এবং নভেম্বর বা ডিসেম্বরে জাতীয় পর্যায়ে সেমিনার করে তা বৃহৎ পরিসরে তুলে ধরা হবে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Kishori
সংবাদ প্রতিনিধি

Kishori

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।