বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য প্রসারে নতুন উদ্যোগ: কৃষি-প্রযুক্তি ও আইটিসহ বহুমুখী খাতে যৌথ বিনিয়োগের আহ্বান

বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য প্রসারে নতুন উদ্যোগ: কৃষি-প্রযুক্তি ও আইটিসহ বহুমুখী খাতে যৌথ বিনিয়োগের আহ্বান

ঢাকা: বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরো সুদৃঢ় করতে কৃষি-প্রযুক্তি, দুগ্ধশিল্প, সবুজ জ্বালানি, ফার্মাসিউটিক্যালস এবং তথ্যপ্রযুক্তিসহ একাধিক সম্ভাবনাময় খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আজ নিউজিল্যান্ড ট্রেড অ্যান্ড এন্টারপ্রাইজ (NZTE)-এর সাথে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এসব সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ আতাউর রহমান খানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল বৈঠকে অংশ নেন। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করেন NZTE-এর দক্ষিণ-পূর্ব ও পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের মার্কেট ম্যানেজার র‍্যাচেল ম্যাকগাকিয়ান।

বর্তমান বাণিজ্য চিত্র ও বহুমুখীকরণের তাগিদ বৈঠকে জানানো হয়, বর্তমানে দুদেশের মধ্যে বার্ষিক দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে নিউজিল্যান্ড বাংলাদেশে মূলত দুগ্ধজাত ও ধাতব পণ্য পাঠায়। অন্যদিকে, নিউজিল্যান্ডে বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি হওয়া ১৪৭ মিলিয়ন ডলারের পণ্যের সিংহভাগই তৈরি পোশাকনির্ভর। বাণিজ্য ঘাটতি কমানো এবং ব্যবসাকে ভারসাম্যপূর্ণ করতে বাংলাদেশ অ-পোশাক খাত—বিশেষ করে পরিবেশবান্ধব পাট, চামড়া, টেকসই বস্ত্র, ফার্মাসিউটিক্যালস এবং আইটি খাতের প্রসারে NZTE-এর সহযোগিতা কামনা করেছে।

সম্ভাবনাময় খাতসমূহের মূল রূপরেখা

* ফার্মাসিউটিক্যালস ও স্বাস্থ্য খাত: বৈশ্বিক মানসম্পন্ন সনদে পরিচালিত বাংলাদেশের ওষুধ কারখানাগুলো নিউজিল্যান্ডে সাশ্রয়ী মূল্যে জেনেরিক ওষুধ ও ভ্যাকসিন সরবরাহ করতে প্রস্তুত।

* তথ্যপ্রযুক্তি ও ডিজিটাল সেবা: বাংলাদেশের সাড়ে ৬ লাখ দক্ষ প্রযুক্তি পেশাজীবীদের কাজে লাগিয়ে নিউজিল্যান্ডের আইটি প্রতিষ্ঠানের সাথে ফিনটেক ও সফটওয়্যার খাতে যৌথ অংশীদারিত্বের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

* বিনিয়োগ ও বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল: বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য সুবিধা সংবলিত দেশের ‘বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল’-এ নিউজিল্যান্ডের কোম্পানিগুলোকে বিনিয়োগের আহ্বান জানানো হয়। বিশেষ করে দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাতকরণ, কোল্ড-চেইন লজিস্টিকস, কৃষি-প্রযুক্তি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের বিরাট সম্ভাবনা রয়েছে।

তাৎক্ষণিক ৩টি কার্যকর পদক্ষেপ

বাণিজ্যিক সহযোগিতাকে দ্রুত বাস্তব রূপ দিতে বৈঠকে ৩টি সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের বিষয়ে একমত প্রকাশ করা হয়:

১. বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (BIDA)-এর সাথে NZTE-এর সরাসরি যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু করা।

২. ওষুধ, চামড়া ও আইটি খাতের ব্যবসায়ীদের সাথে নিউজিল্যান্ডের ক্রেতাদের ভার্চুয়াল B2B মিটিং আয়োজন।

৩. নিউজিল্যান্ডের পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য বিষয়ক মন্ত্রণালয় (MFAT)-এর সাথে যৌথ সমন্বয়ের মাধ্যমে বাণিজ্য মেলা ও পারস্পরিক অংশীদারিত্ব বৃদ্ধি।

বাংলাদেশের বিশাল বাজার ও উৎপাদন সক্ষমতার সাথে নিউজিল্যান্ডের উন্নত প্রযুক্তি ও উচ্চমূল্যের রপ্তানি দক্ষতার সমন্বয় ঘটলে দুই দেশের অর্থনীতিই লাভবান হবে বলে আশা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
admin
সংবাদ প্রতিনিধি

admin

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।