নবীগঞ্জ প্রতিনিধি ॥ নবীগঞ্জ উপজেলার দেবপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাবিদ আলী ও তার লোকদের হামলায় এস এম এ্যানি লোদন (৩৫) নামের এক যুবক আহত হয়েছে। গুরুত্বর আহত অবস্থায় তাকে নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভুয়া আইডি খুলে ওই চেয়ারম্যান দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন মর্মে স্ট্যাটাস দেওয়ার ঘটনায় সন্দেহ করে উত্তেজিত হয়ে চেয়ারম্যান ও তার লোকজনদের নেতৃত্বে ওই যুবকরে উপর হামলা করা হয়েছে। এ ঘটনায় নবীগঞ্জ থানায় চেয়ারম্যানসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন আহত ওই যুবক। ঘটনাটি ধামাছাপা দিতে একটি মহল মরিয়া হয়ে উঠেছে বলে স্থানীয় সুত্রে জানাগেছে।
অভিযোগ ও স্থানীয় সুত্রে জানাযায়, গত কয়েকদিন পূর্বে ফেসবুকে ভুয়া একটি আইডি খুলে দেবপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাবিদ আলীর বিরুদ্ধে কে বা কারা জনৈকা মহিলাকে দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন মর্মে স্ট্যাটাস দেয়। কিন্তু চেয়ারম্যান ও তার লোকজন সন্দেহ করেন ওই স্ট্যাটাসটি দিয়েছেন একই ইউনিয়নের সদরঘাট গ্রামের মৃত শাহ ইজ্জত আলীর পুত্র এস এম এ্যানি (লোদন)। এনিয়ে লোদন এর ভাই শাহ আঙ্গুর আলীর কাছে বিচার প্রার্থীও হন চেয়ারম্যান জাবিদ আলী। এই আক্রোশের জের ধরে গত শুক্রবার রাত ৮ টার দিকে ওই ইউনিয়নের দেবপাড়া বাজারস্থ সেলিম মিয়ার দোকানের সামনের রাস্তায় তাকে একা পেয়ে চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে সদরঘাট গ্রামের আব্দুল বাতির, শাহনাজ, সুমন, আল আমীন, মিলন, লালন ও আবু সালেহসহ একদল লোক লোদনের উপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে আহত করেন। আশপাশের লোকজন এগিয়ে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে হামলাকারীদের কাছ থেকে রক্ষা করেন। কিন্তু কোন মুহুর্তেই তাকে হাসপাতালে যেতে দেয়নি হামলাকারীরা। অবশেষে কৌশলে নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স গিয়ে চিকিৎসা করানো হয় আহত যুবক এ্যানিকে।
এ ঘটনায় গত শনিবার রাতে নবীগঞ্জ থানায় ইউপি চেয়ারম্যান জাবিদ আলীসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। আহত এ্যানি জানান, বর্তমানে তিনি জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় আছেন। হামলাকারীরা তাকে হন্য হয়ে খুঁজছে। প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছেন তিনি। এ ঘটনা সর্ম্পকে জানতে ইউপি চেয়ারম্যান জাবিদ আলীর মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, মেম্বার মামদ আলীর নামীয় ফেসবুক আইডিতে তিনি নতুন বিয়ে করেছেন বলে অপ-প্রচার করা হচ্ছে। এ ঘটনা সর্ম্পকে জানতে চাইলে এ্যানির সাথে তর্ক-বির্তক হয়েছে। তবে হামলার কোন ঘটনা ঘটেনি। নির্বাচনী কোন বিরোধ আছে কিনা জানতে চাইলে চেয়ারম্যান বলেন, প্রতি নির্বাচনেই তারা আমার বিরোধিতা করে এবং আমাকে ভোটও দেয়না। এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কাউছার আলমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে বলেন এ ব্যাপারে তদন্ত চলছে।



