সুতীর্থ বড়ালঃ দক্ষিনের জনপদ ঝালকাঠিতে পেটে ক্ষুধা আর পিঠে শীত নিয়েই মানবেতর জীবনযাপন করছে জেলে পল্লীর প্রায় হাজারখানেক পরিবার । নেই মাঘের শীতকে সামাল দেয়ার শীত বস্ত্রও। জেলার পূর্বচাঁদকাঠিতে প্রায় অর্ধশতাধিক জেলে পরিবারের বসতি । সরেজমিনে গিয়ে দেখা মিলছে তাদের দুঃখ দুর্দশার দৃশ্য । শীতের মৌসুমে বিগত বছরগুলোতে খেয়ে পরে বেঁচে থাকার মত মাছ নদী থেকে শিকার করতে পারলেও বছরের এ মৌসুমে মাছের দেখা একেবারেই মিলছে না বলে জানান পেশাদার মৎসজীবিরা।
এখানকার মৎসজীবিদের মাছ শিকারই একমাত্র বংশগত পেশা । এ পেশার উপরই নির্ভর করে তাদের বেঁচে থাকা।
পূর্বচাঁদকাঠির জেলে পল্লীর মৎসজীবি অসীম মালো বলেন, গত বছরের তুলনায় এবছর সুগন্ধা নদীতে মাছ একেবারেই নেই । নদীতে মাছ না থাকায় আমাদের বেঁচে থাকা খুবই কষ্টকর হয়ে পড়ছে।
পৌর এলাকার ৩ নং ওয়ার্ড ক্ষুদ্র মৎসজীবি ও জে
লে সমিতির সভাপতি নবদ্বীপ মালো বলেন, আমার ওয়ার্ডে অর্ধশতাধিক জেলে পরিবার বসবাস করে। এ মৌসুমে নদীতে মাছ না থাকায় তাঁরা মানবেতর জীবনযাপন করছে। রোজগারের বিকল্প কোন পথ খুঁজে পাচ্ছে না । শীতের তীব্রতায় রাতে মাছ শিকার করতে পারছেনা এবং শীতবস্ত্রও কিনতে পারছে না।
বাংলাদেশ ক্ষুদ্র মৎসজীবি ও জেলে সমিতির ঝালকাঠি জেলা শাখার সভাপতি মো. বারেক সিকদার জানান, বর্তমান সরকার মৎসজীবিদের জন্য অনেক সহযোগীতা করেছে কিন্তু বর্তমানে ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে মাছ নেই বলে জেলেদের পেটেও ভাত নেই। শীতে জেলেরা কষ্ট করছে নেই পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র । হার কাপানো শীতে জেলেরা মাছ শিকার করতে যেতে পারছে না।
তবে নিবন্ধিত মৎসজীবিদের মধ্যে ২৫৯ পরিবার বছরের বিভিন্ন সময়ে সরকারী অনুদান পাচ্ছে যা পর্যাপ্ত নয় বলে জানান তিনি। সরকারের প্রতি পর্যাপ্ত সহযোগীতার আবেদন জানান তিনি।
ঝালকাঠি জেলা মৎসকর্মকর্তা বাবুল কৃষ্ণ ওঝা জানান, এ মৌসুমে সরকার থেকে মৎস বিভাগে কোন সহায়তা নেই এবং শীত বস্ত্রের ব্যবস্থাও নেই। তবে তাদেরকে জেলা প্রশাসক বরাবর শীবস্ত্রের জন্য লিখিত আবেদন জানানোর জন্য বলেছি। আমার পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগীতা করা হবে।





