অভিবাসন ও মুসলিম আশ্রয়প্রার্থী বিতর্কে নেদারল্যান্ডসে সরকার পতন

অভিবাসন ও মুসলিম আশ্রয়প্রার্থী বিতর্কে নেদারল্যান্ডসে সরকার পতন

অভিবাসন ও মুসলিম আশ্রয় ইস্যুতে মতবিরোধের জেরে, ক্ষমতা গ্রহণের মাত্র দেড় বছরের মাথায় পতন হলো নেদারল্যান্ডসের চার দলীয় জোট সরকারের। ২০২২ সালে অভিবাসী আশ্রয়শিবিরগুলো পূর্ণ হয়ে যাওয়ায়, আবাসনসংকটে পড়তে হয়েছিল সরকারকে। গত বছর আশ্রয়শিবিরগুলোয় উপচে পড়া ভিড় নিয়ে হইচই হওয়ার পর রুটের রক্ষণশীল ভিভিডি পার্টি, শরণার্থীদের আগমন সীমিত করার চেষ্টা করে আসছিল। কিন্তু চার দলীয় জোট সরকারের দুই অংশীদার প্রধানমন্ত্রী মার্ক রুটের পরিকল্পনার বিরোধিতা করে। মূলত অভিবাসন ইস্যুতে বিরোধে জড়িয়ে পড়ে জোট সরকারের অংশীদারেরা। সরকারের সবচেয়ে বড় অংশীদার ছিলেন ডানপন্থী ভিভিডি পার্টির নেতা মার্ক রুটে।

মতবিরোধ দূর করে সরকার বাঁচাতে গত শুক্রবার দেশটির প্রধানমন্ত্রী মার্ক রুটের সভাপতিত্বে চার পক্ষ বৈঠকে বসলেও কোনো সমঝোতা ছাড়াই তা শেষ হয়। বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলন করেন নেদারল্যান্ডসকে দীর্ঘ সময় ধরে নেতৃত্ব দিয়ে আসা প্রধানমন্ত্রী মার্ক রুটে। তিনি বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্যি যে আজ সন্ধ্যায় আমরা একটি সিদ্ধান্ত উপনীত হতে পেরেছি, সেটা হলো আমাদের মধ্যে চলমান মতবিরোধ দূর করা সম্ভব নয়। আর তাই আমি খুব দ্রুত সরকারের পক্ষ হয়ে রাজার কাছে আমার লিখিত পদত্যাগ জমা দেব।’ পরদিন শনিবার রাজা ভিলেম আলেকজান্দারের কাছে তিনি পদত্যাগ জমা দিয়েছেন। নতুন নির্বাচনের আগপর্যন্ত বর্তমান মন্ত্রিসভার সদস্যরা কাজ চালিয়ে যাবেন বলে নিশ্চিত করেছেন তিনি।

নেদারল্যান্ডসে আশ্রয় আবেদন গত বছর এক–তৃতীয়াংশ বেড়েছে। দেখা যায়, দেশটিতে গত বছর ৪৬ হাজারের বেশি আবেদন জমা হয়েছে। সরকারের ধারণা, চলতি বছর এ সংখ্যা ৭০ হাজার ছাড়িয়ে যাবে। এই ধারণা সত্য হলে তা ২০১৫ সালের অভিবাসন সংকটের সময়কেও ছাড়িয়ে যাবে।

তখন আশ্রয়প্রার্থীদের পারিবারিক পুনর্মিলনকে সীমিত করার চেষ্টা করেছিলেন মার্ক রুটে। দেশটিতে আশ্রয় নেওয়া যুদ্ধ শরণার্থীদের আত্মীয়স্বজনের পুনর্মিলন ভিসায় নেদারল্যান্ডসে আসা কমাতে প্রতি মাসে ২০০ জনে সীমাবদ্ধ রাখার প্রস্তাব দেন তিনি। আর এ প্রস্তাব মানা না হলে সরকারের পতনের হুমকিও দেন জোটের শরিকদের। জোট সরকারের দুই শরিক ক্রিস্টেন ইউনি ও ডি৬৬ এই প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করে। তারা মনে করে এভাবে সংকটের সমাধান হয় না।

২০২২ সালের জানুয়ারিতে ক্ষমতা নেওয়া জোট সরকার সংকট কাটাতে এর আগে গত বুধ ও বৃহস্পতিবারও আলোচনা করেছিল। সবশেষ শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী মার্ক রুটে নিজেও চেষ্টা করেন, তবে শেষ রক্ষা হয়নি। ক্রিশ্চিয়ান ইউনির মুখপাত্র টিম কায়েস্তে বলেছেন, অভিবাসন নিয়ে কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারবে না বলে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ডাচ্‌ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখানে আর লুকানোর কিছু নেই যে আমাদের মধ্যে মতপার্থক্য ছিল।’ মাত্র দেড় বছরের মাথায় সরকারের পতন প্রসঙ্গে তিনি জানান, খুবই দুঃখজনক, কিন্তু এটিই রাজনৈতিক বাস্তবতা।

প্রধানমন্ত্রী মার্ক রুটে ২০১০ সাল থেকে নেদারল্যান্ডসের ক্ষমতায়। এর আগে এতদিন ধরে কেউই সেদেশে ক্ষমতায় ছিলেন না। গত বছর জানুয়ারিতে চতুর্থ বারের মত তার কোয়ালিশন সরকার ক্ষমতা নেয়। মুসলিম বিদ্বেষী রাজনীতিক গ্রিট উইলডারসের দল পিভিবির মত কট্টরপন্থী দলগুলোর উত্থানের কারণে, অভিবাসন ইস্যুতে তার ওপর চাপ বেড়েছে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Brinda Chowdhury
সংবাদ প্রতিনিধি

Brinda Chowdhury

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।