চিকিৎসক-রোগী সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের অগ্রাধিকার – স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

চিকিৎসক-রোগী সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের অগ্রাধিকার – স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী
চিকিৎসক-রোগী সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের অগ্রাধিকার - স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

চিকিৎসক ও রোগী উভয়ের নিরাপত্তাই সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।

তিনি বলেন, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যসেবা নিতে আসা রোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার সচেতন ও সক্রিয় রয়েছে। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর শাহবাগে শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ আয়োজিত ‘৪৮তম (বিশেষ) বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডার নবনিয়োগপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের যোগদান ও ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামে’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসক হিসেবে তারা গুরুদায়িত্ব নিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কাজ করবেন। চিকিৎসকদের কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পাওয়ার অধিকারও রক্ষা করতে হবে। চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে দেশের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে পাঁচ হাজার আনসার সদস্য মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তবে শুধু নিরাপত্তা জোরদার করলেই হবে না, স্বাস্থ্যসেবার সামগ্রিক পরিবেশও উন্নত করতে হবে বলে মন্তব্য করেন ড. মুহিত। তিনি বলেন, চিকিৎসার মান বাড়ানো, হাসপাতালের পরিবেশ উন্নত করা এবং রোগীদের প্রয়োজনীয় ওষুধ ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ও আক্ষেপ কমবে। মানুষের আক্ষেপের মূল কারণগুলো সমাধান করতে পারলেই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব।

তিনি বলেন, নির্বাচনী ইশতেহারে সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ বিনির্মাণে ২০টি সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার রয়েছে। চিকিৎসকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া এসব অঙ্গীকার বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, আমরা ধ্বংসপ্রাপ্ত ও ভগ্ন স্বাস্থ্য ব্যবস্থা পেয়েছি। সেখানে দুর্নীতি, দালালের দৌরাত্ম্য ও অনিয়ম চেপে বসেছিল। কিন্তু বাস্তবতার ওপর দাঁড়িয়েই আমাদের এ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনতে হবে।

নবীন বিসিএস কর্মকর্তাদের প্রশাসনিক দক্ষতা অর্জনের আহ্বান জানিয়ে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিসিএসে উত্তীর্ণ হওয়া কোনো চূড়ান্ত গন্তব্য নয়; বরং এটি দীর্ঘ কর্মজীবনের সূচনা।

চিকিৎসার পাশাপাশি সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়া, ই-টেন্ডারিং ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করতে হবে। মাঠপর্যায়ে উপজেলা প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে দূরত্ব ঘুচিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে।

তিনি বলেন, সরকার আধুনিক ডিজিটাল হেলথ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে। আগামী কয়েক দশক জনগণকে আধুনিক ও নিরবচ্ছিন্ন স্বাস্থ্যসেবা দিতে নবীন চিকিৎসকদের নেতৃত্ব দিতে হবে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব ড. এ এন এম বজলুর রশীদ, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. নাজমুল হোসেন প্রমুখ।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
ACP
লেখক / প্রতিবেদক

ACP

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।