২৫টি বিশেষায়িত অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস সম্প্রসারণ সেবার শুভ উদ্বোধন করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বিশেষ প্রতিবেদকঃ  বর্তমানে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ১৬০টি অ্যাম্বুলেন্স দেশব্যাপী সেবা দিয়ে যাচ্ছে। আরো ২৫টি বিশেষায়িত অ্যাম্বুলেন্স সেবার শুভ উদ্বোধন হচ্ছে আজ। এগুলোর সেবা সক্ষমতা স্বাভাবিক অ্যাম্বুলেন্সের চেয়ে বেশি। বললেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা জনাব আসাদুজ্জামান খাঁন।

২৮ মে, ২০১৮ খ্রিঃ (১১ রমজান, ১৪৩৯) বিকাল ০৫:৩০ ঘটিকায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরে অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস সম্প্রসারণ সেবার শুভ উদ্বোধন এবং ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানে তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিব জনাব ফরিদ উদ্দিন আহম্মদ চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী আহাম্মেদ খাঁন, পিএসসি (অবঃ), মহাপরিচালক, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সুরক্ষা সেবা বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন দপ্তর প্রধানগণ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফিতা কেটে এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের নিকট চাবি হস্তান্তরের মাধ্যমে ২৫টি বিশেষায়িত অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস সম্প্রসারণ সেবার শুভ উদ্বোধন করেন। এরপর সাংবাদিকদের উদ্দেশে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি ফায়ার সার্ভিসের অ্যাম্বুলেন্স সেবার চিত্র ও সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাননীয় মন্ত্রী বলেন, দুর্যোগ-দুর্ঘটনা হ্রাসে প্রস্তুতি গ্রহণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অগ্নি দুর্ঘটনা মোকাবেলা সহ প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট সকল দুর্যোগে জনসাধারণের জানমাল রক্ষায় এ বিভাগের প্রতিটি কর্মী সদা প্রস্তুত রয়েছেন।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর এখন মানুষের কাছে একটি গ্রহণযোগ্য এবং আস্থাপূর্ণ প্রতিষ্ঠান উল্লেখ করে মাননীয় মন্ত্রী বলেন, আমাদের গৃহীত ব্যবস্থার কারণে তাদের সক্ষমতা আগের তুলনায় বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। একসময় শুধু আগুন নেভানো সংক্রান্ত সেবার মধ্যে সীমিত থাকলেও ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এখন অগ্নি প্রতিরোধ ও অগ্নি নির্বাপণ সেবার পাশাপাশি রোড রেসকিউ, মাউনটেন রেসকিউ, ওয়াটার রেসকিউসহ প্রতিটি উদ্ধারকাজে প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করছে। গত সপ্তাহেও পাহাড় ধসে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স একটি সাহসী উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেছে। এখন তারা এমনকি জঙ্গি দমন অভিযানেও জীবনবাজি রেখে অংশগ্রহণ করছে। বলতে গেলে, তারা এখন বহুমাত্রিক সেবাকাজের সাথে জড়িত। তাদের এসব কার্যক্রম জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী দেশের সকল উপজেলায় ন্যূনতম একটি করে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন নির্মাণ করার পাশাপাশি স্টেশনগুলোর সেবার সামর্থ্য বৃদ্ধির পরিকল্পনাও রয়েছে আমাদের। অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস সম্প্রসারণ সেবার উদ্বোধন তারই একটি অংশ।

প্রধান অতিথি বলেন, আপনারা জানেন, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স-এর অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেছে। প্রতিটি দুর্ঘটনায় এখন বলতে গেলে অ্যাম্বুলেন্স দরকার হয়। ফায়ার সার্ভিস দিবা-রাত্রি ২৪ ঘণ্টা এই সেবা নিশ্চিত করার মাধ্যমে গুরুতর রোগীদের হাসপাতালে পৌঁছে দিয়ে জীবন রক্ষার ক্ষেত্রে এক অনন্য নজির স্থাপন করছে। বিশেষ করে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ চালু হওয়ার পর প্রচুর অ্যাম্বুলেন্স কল পাওয়া যাচ্ছে। এ কারণে তাদের এই সেবাকে আরো সমৃদ্ধ ও সম্প্রসারিত করা দরকার। আমরা ধারাবাহিকভাবে এ কাজটি করে যাবো। বর্তমানে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ১৬০টি অ্যাম্বুলেন্স দেশব্যাপী সেবা দিয়ে যাচ্ছে। আরো ২৫টি বিশেষায়িত অ্যাম্বুলেন্স সেবার শুভ উদ্বোধন হচ্ছে আজ। এগুলোর সেবা সক্ষমতা স্বাভাবিক অ্যাম্বুলেন্সের চেয়ে বেশি। হাসপাতালে গমনকালে রোগীদের অক্সিজেন সরবরাহসহ প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা থাকবে এতে। এগুলোর প্রতিটিতে একসাথে দুজন করে অচেতন রোগী পরিবহন করা যাবে। বিশেষ করে এখন বিপুল পরিমাণ রোড রেসকিউতে অংশ নিতে হচ্ছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সকে। অনেক ক্ষেত্রে ক্যাজুয়ালটির পরিমাণ বেশি থাকায় এই সেবা সেখানে খুব ফলপ্রসূ হবে। আমরা পর্যায়ক্রমে এই অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস সেবাটাকে সারা দেশের প্রতিটি উপজেলায় ও ফায়ার স্টেশনে সম্প্রসারণ করতে চাই।

উল্লেখ্য, দেশের সকল উপজেলার প্রতিটি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনে অ্যাম্বুলেন্স সেবা সম্প্রসারণ করার উদ্যোগ হিসেবে ইতিমধ্যে প্রণীত ৩টি ডিপিপিতে আরো ১২৩টি অ্যাম্বুলেন্সের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে বলে জানা গেছে। দুর্ঘটনায় সকল অ্যাম্বুলেন্স বিনা মূল্যে এবং রোগী পরিবহনের ক্ষেত্রে নামমাত্র ভাড়ায় ব্যবহার করা যায়।

অধিদপ্তরের পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) মেজর একেএম শাকিল নেওয়াজ-এর সার্বিক ব্যবস্থাপনায় অ্যাম্ববুলেন্স সার্ভিস সম্প্রসারণ সেবা উদ্বোধন অনুষ্ঠানের পর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী আহাম্মেদ খান পিএসসি (অবঃ) সকলকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ইফতার পর্বে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানান।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
admin
সংবাদ প্রতিনিধি

admin

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।