হিন্দুদের বাড়ীঘড় ভেঙ্গে দিয়ে দেশ ছাড়ার নির্দেশ আওয়ামীনেতা চেয়ারম্যানের

ঝালকাঠি প্রতিনিধিঃ ঝালকাঠি জেলার কীর্তিপাশা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যান আ. শুক্কুর মোল্লা এবং তার ভাই ও ছেলের নেতৃত্বে অর্ধশতাধিক ভাড়াটে সন্ত্রাসী একটি সংখ্যালঘু পরিবারের ঘরবাড়ি ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুক্কুর মোল্লার সন্ত্রাসী বাহিনী, তাদের মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে দেশ ছাড়তে ‘হুকুম’ দিয়েছে। ফলে পরিবারটি জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে।

সংখ্যালঘু পরিবারটির প্রধান সুখরঞ্জন ব্যাপারী জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে রোববার সকালে ঝালকাঠি পুলিশ সুপার সুভাষ চন্দ্র সাহার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

ঝালকাঠি সদর থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই হালিম বলেন, এ ঘটনায় আমাদের কাছে এখনো কোন অভিযোগ আসেনি; আসলে আমরা ব্যবস্থা গ্রহন করবো। তবে পরিবারটির নিরাপত্তার বিষয়ে পুলিশ নজর রাখছে। তিনি আরো বলেন, পরিবারটির সাথে শুক্কুর মোল্লার ব্যক্তিগত বিরোধ, জায়গাজমি নিয়ে মামলা রয়েছে।

ভাঙচুর ও তাদের মালামাল, দলিলপত্র লুটপাটের পরও পুলিশ বা প্রশাসনের কেউ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেনি।

১৪ মে শনিবার সকাল ১০টার দিকে ইউপি চেয়ারম্যান শুক্কুর মোল্লার নির্দেশে তার ভাই ও ছেলের নেতৃত্বে অর্ধশতাধিক সন্ত্রাসী অগ্নেয়াস্ত্রসহ কুড়াল, রামদা, ছেনা ও শাবল নিয়ে জ্ঞানেন্দ্র ব্যাপারীর বসতঘরে ঢুকে তাণ্ডব চালায়। তারা এ সময় নারী-পুরুষ ও শিশু নির্বিশেষে সবাইকে টেনে-হিঁচড়ে ঘর থেকে বের করে দেয়। ছুড়ে ফেলে মালামাল।

ঘরের মধ্যে রক্ষিত স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা, মূল্যবান মালপত্র ও জমিজমার দলিলপত্র এ সময় লুট হয় বলে অভিযোগ করে সংখ্যালঘু পরিবার।

হামলাকারীরা টিনশেড দোতালা বসতঘরটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়। এমনকি ঘরের ভিটি কোদাল দিয়ে কুপিয়ে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেয়।

বর্তমানে নারী-শিশুসহ খোলা আকাশের নিচে রাত যাপন করছে ক্ষতিগ্রস্ত তিনটি পরিবারের সদস্যরা।

জ্ঞানেন্দ্র ব্যাপারী জানায়, তারা ১১টি পরিবার বাপ-দাদার শতবর্ষের ভোগদখলীয় সম্পত্তিতে পরিবার-পরিজন নিয়ে বসবাস করে আসছে। উক্ত সম্পত্তি জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে এলাকার ‘মামলাবাজ’ বলে পরিচিত আ’লীগ নেতা শুক্কুর মোল্লা ও তার ভাই যুবদল নেতা ইসরাফিল, ছেলে থানা ছাত্রলীগ সভাপতি রাহাত মোল্লা ও র‌্যাবন মোল্লারা দীর্ঘ দিন ধরে দখলের অপচেষ্টা চালিয়ে আসছে। এ অবস্থায় পৈতৃক সম্পত্তি ও পূর্বপুরুষের সমাধি রক্ষায় তারা আদালতের আশ্রয় নিলে ২০০৭ সালে ঝালকাঠি সাবজজ আদালত তাদের পক্ষে রায় দেন।

এ নির্যাতনের বিষয়টি শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমুকে জানানো হলে তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খান সাইফুল্লাহ পনিরকে বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতায় কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। রোববার বিকাল সাড়ে তিনটায় খান সাইফুল্লাহ পনিরের নেতৃত্বে সাংগঠনিক সম্পাদক কাউন্সিলর তরুন কুমার কর্মকার, ঝালকাঠি কালিবাড়ী পূজা উদযাপন কমিটির সাধারন সম্পাদক প্রনব কুমার নাথ ভানু, সংখ্যলঘূদের নেতা বিপুল চক্রবর্তী, গোবিন্দ মোদক, যুগল পাল ও যুবলীগ নেতা রিয়াজ তালুকদারসহ সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করেন।

শুক্কুর মোল্লা জানান, তিনি সাবকবলা দলিল মূলে ওই জমি কেনার পর বিক্রেতাদের অংশীদার জ্ঞানেন্দ্র ব্যাপারীর সঙ্গে মামলা-মোকদ্দমার সৃষ্টি হয়। ওই মামলায় আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী জেলা জজ আদালতের নাজির ও পুলিশ প্রশাসন শনিবার জমি বুঝিয়ে দিতে ঘটনাস্থলে যায় ও বেআইনি দখলদারদের উচ্ছেদ করে। তিনি নিজে ও তার ছেলেরা শনিবার ঝালকাঠিতে শিল্পমন্ত্রীর কর্মসূচিতে ছিলেন বলে দাবি করেন।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
admin
লেখক / প্রতিবেদক

admin

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।