হলের দাবিতে জগন্নাথের বিভিন্ন ভবনে তালা

স্টাফ রিপোর্টারঃ ঢাকার পরিত্যক্ত কারাগারে নতুন হল নির্মাণের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পূর্বঘোষিত ছাত্র ধর্মঘটে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। দাবি আদায়ে রোববার সকালে বিভিন্ন ভবনে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে ক‌্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে শিক্ষার্থীরা। তাদের এই আন্দোলনের কারণে কোনো বিভাগেরই-ক্লাস পরীক্ষা হয়নি।

গত বৃহস্পতিবার ক্যাম্পাসে ছাত্র ধর্মঘট পালনের পর আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পক্ষে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী শাহেদ ইসলাম বাদল রোববারের এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন। হলের বিষয়ে রোববারও সরকার বা প্রশাসনের কাছ থেকে কোনো আশ্বাস না পেলে সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যাওয়ার ঘোষণাও দেন তিনি।

দাবি আদায়ে রোববার সকাল ৮টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক ছাড়া বিভিন্ন ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। তারপর থেকে কয়েকশ’ শিক্ষার্থী বৃষ্টি উপেক্ষা করে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করছেন।

২০০৫ সালে অনাবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে যাত্রা শুরু করা এই প্রতিষ্ঠানের ১১টি হল প্রভাবশালীদের দখলে ছিল। ২০০৯ সালে বৃহত্তর ছাত্র আন্দোলনে সরকারের উচ্চ মহলের টনক নড়ে। ওই সময় একাধিক হল বিশ্ববিদ্যালয়কে দিতে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সুপারিশ থাকলেও তা কার্যকর করেনি ঢাকা জেলা প্রশাসন। পরে ২০১১ ও ২০১৪ সালে জোরালো আন্দোলনে দুটি হল পুনরুদ্ধার হলেও তা ব্যবহার উপযোগী করতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

আরেকটি হল আগে থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের দখলে থাকলে তা নিয়ে কোনো পরিকল্পনা নেই; নতুন দুটি হল নির্মাণের উদ্যোগেও রয়েছে দীর্ঘসূত্রিতার অভিযোগ।

১৯৮৫ সালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে জগন্নাথের আটটি হল বন্ধ হয়ে যায়। গত ২ আগস্ট থেকে সেই মন্ত্রণালয়ের অধীন নাজিম উদ্দিন রোডে পরিত্যক্ত কারাগারের জমিতে হল নির্মাণের দাবিতে আন্দোলন করছে শিক্ষার্থীরা। জমিটি পেতে ২০১৪ সালের মার্চে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন স্বরাষ্ট্র সচিবের কাছে আবেদন করেছিল।

এবারে আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে জায়গাটির জন্য গত ১৪ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের উচ্চপর্যায়ে আবেদন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি মীজানুর রহমান।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
admin
লেখক / প্রতিবেদক

admin

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।