সুন্দরগঞ্জে এস আই ওয়াহেদের যত অপকর্ম

দৃষ্টি আকর্ষন পর্ব -১

শেখ মামুন-উর-রশিদ,রংপুর: গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ থানার বামনডাঙ্গা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এস আই আব্দুল ওয়াহেদের অপকর্মের শেষ নেই। তার বে-আইনি কার্য্যকলাপ ও অনিয়ম, দূর্নীতি সেচ্ছাচারিতায় অতিষ্ট হয়ে পড়েছে এলাকাবাসী।

বামনডাঙ্গা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে যোগদানের পর থেকে ব্যাপক অনিয়ম দূর্নীতি, চাদাবাঁজি, গ্রাম্য শালিসে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও স্থানীয় দালাল প্রকৃতির লোকজনকে সাথে নিয়ে সাধারন মানুষকে হয়রানি করছেন এই পুলিশ অফিসার। এছাড়াও জমা-জমি সংক্রান্ত কোন অভিযোগ পেলে তার নেতৃত্বে তদন্ত কেন্দ্রেই আদালত বসিয়ে কোন প্রমান ছাড়াই বাদীর পক্ষে রায় দেয়ারও অভিযোগ পাওয়া যায়।

এতে কোন পক্ষ অসম্মত হলে তাকে বিভিন্ন মামলার ভয় দেখিয়ে শালিস নামায় জোড় করে স্বাক্ষর নেয়ারও অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। শুধু তাই নয় এস আই ওয়াহেদ পুলিশ নির্দেশনা উপেক্ষা করে গত তিন মাসে তদন্ত কেন্দ্রে চারটি বিবাহ ও তিনটি বিবাহ বিচ্ছেদের সমাধান করেছেন তিনি। আর বিবাহ বিচ্ছেদের ঘটনায় মেয়ের প্রাপ্য দেনমোহরের টাকা কমিয়ে আনার সিদ্ধান্তও তার মনগড়া।

সাম্প্রতিক গত ২৭ শে অক্টোবর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের রামদেব গ্রামের আল মাবুদের মেয়ে মাহমুদা আক্তারের বিবাহ বিচ্ছেদে ধার্য্যকৃত এক লক্ষ্য ৮০ হাজার টাকার মধ্যে এক লক্ষ্য ২৫ হাজার টাকায় দেনমোহরের বিষয়টি সমাধান করেন। পরে ছেলে পক্ষের কাছে নেয়া এক লক্ষ্য ২৫ হাজারের মধ্যে মেয়ে পক্ষকে মাত্র ৯০ হাজার টাকা দিয়ে বিদায় করেন এই এসআই। এ ছাড়াও এ পুলিশ অফিসারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে আসামী গ্রেফতার করার পর মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে আসামী ছেড়ে দের্য়াও অভিযোগ রয়েছে। শুধু তাই নয় বিভিন্ন সময়ে মাদক দ্রব্যসহ আসামী আটক করার পরে টাকা নিয়ে ৫৪ ধারায় জেল হাজতে প্রেরন করেছেন বলেও জানা গেছে। এদিকে, তার এহেন কর্মকান্ডে অতিষ্ট হয়ে সাম্প্রতিক কযেকটি ঘটনা উল্লেখ করে রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে অভিযোগ দাখিল করেছেন এলাকাবাসী।

অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে, বামনডাঙ্গা মনমথ গ্রামের অসহায় বিধবা মহিলা থেপো বেগমকে মামলার ভয় দেখিয়ে তার জমি সাবেক ব্যাংকার আবু বক্কর সিদ্দিককে দখল করে দেয়া হয়। একই গ্রামের বামনডাঙ্গা বন্দরে বাদী পক্ষের নিকট টাকা নিয়ে  রহিম মিয়ার জমিতে দাড়িয়ে থেকে প্রাচীর নির্মাণের কাজ এসআই ওয়াহেদ নিজেই করেন। এ ছাড়াও এসআই ওয়াহেদ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে বামনডাঙ্গা কড়িতলা রামধন গ্রামে আসামী মৃত রুস্তম আলী প্রমানিকের ছেলে একরাম আলীর বাড়িতে আসামী না পেয়ে তার আসবাবপত্র ভাংচুর করেন।

বামনডাঙ্গা সাতগীরি গ্রামে বাদী পক্ষের কাছে মোটা অংকের টাকা নিয়ে  আব্দুল হামিদের ছেলে রফিক মিয়াকে পারিবারিক মামলায় গ্রেফতারের পর জেএমবির মামলায় জেল হাজতে প্রেরণ করারও অভিযোগ রয়েছে। এতেই শেষ নয় এই পুলিশ অফিসারের কর্মকান্ড তার নেতৃত্বে প্রতিনিয়ত জমজমাট জুয়া ও মাদকের আসর। প্রতিদিন ও সাপ্তাহিক টাকায় চলে এসব মাদক ও জুয়ার রমরমা বানিজ্য। এ বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপার আশরাফুজ্জামান জানান, এখনও কোন অভিযোগের কাগজ আমার কাছে আসেনি, পেলে তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
admin
লেখক / প্রতিবেদক

admin

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।