সিলেটের পাথর কোয়ারি ইজারা প্রদানে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন – স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সিলেটের পাথর কোয়ারি ইজারা প্রদানে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন – স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেনপরিবেশ রক্ষা এবং প্রচলিত সকল আইন ও বিধিমালা কঠোরভাবে অনুসরণ করে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার পাথর কোয়ারিগুলো সীমিত আকারে পুনরায় ইজারা প্রদানের লক্ষ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হয়েছে।

মন্ত্রী আজ বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে সিলেট বিভাগের পাথর/বালুমিশ্রিত পাথর কোয়ারির সর্বশেষ অবস্থা ও করণীয় বিষয়ে সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এ কথা বলেন। সভায় তিনি সভাপতিত্ব করেন।

মন্ত্রী জানানসিলেটের বিভাগীয় কমিশনারকে আহ্বায়ক করে গঠিত এই কমিটিতে সিলেট ও সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসকপরিবেশ অধিদপ্তরপানি সম্পদ মন্ত্রণালয়জিওলজিক্যাল সার্ভে অব বাংলাদেশ এর প্রতিনিধিশাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপক এবং খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের একজন পরিচালক সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় উভয় জেলার পুলিশ সুপারদেরও কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

কমিটির কার্যপরিধি বর্ণনা করে মন্ত্রী বলেনসরেজমিনে স্পটগুলো পরিদর্শন করে সীমান্ত নদীগুলোর পলি জমার কারণে সৃষ্ট ওয়াটার ব্যারিকেড পরীক্ষা করানদী ভাঙনের ফলে সীমান্ত পরিবর্তনের ঝুঁকি পর্যালোচনা করাপরিবেশ অক্ষুণ্ন রেখে কত গভীরতায় এবং কোন পদ্ধতিতে পাথর উত্তোলন করা সম্ভবসে বিষয়ে কারিগরি পরামর্শ প্রদানবিছানাকান্দিসাদা পাথর বা ভোলাগঞ্জের মতো পর্যটন স্পটগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত করা।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেনজাফলংয়ের মতো ‘ইকোলজিক্যালি ক্রিটিক্যাল এরিয়া’ ঘোষিত স্থানগুলো ইজারার আওতামুক্ত থাকবে। কমিটির রিপোর্ট চলতি মাসের শেষে পাওয়ার পর জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এছাড়া এ বিষয়ে উচ্চ আদালতে ঝুলে থাকা মামলাগুলো আইন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হবে।

দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেননির্বাচিত রাজনৈতিক সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর পুলিশ বাহিনীকে একটি সুশৃঙ্খল অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। সরকারি নীতিগত সিদ্ধান্ত অনুযায়ীআইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনীকে অনির্দিষ্টকালের জন্য মাঠে রাখা হবে না। পুলিশসেনাবাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে সেনাবাহিনী প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

চাঁদাবাজ ও গডফাদারদের বিরুদ্ধে চলমান বিশেষ অভিযান প্রসঙ্গে মন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেনআইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। সুনির্দিষ্ট তালিকা প্রণয়ন করে যৌথ ও একক অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। মাদকসন্ত্রাসী ও অস্ত্রধারীদের গ্রেফতার করে সংক্ষিপ্ত আদালতের মাধ্যমে সাজা নিশ্চিত করা হচ্ছে। তিনি আশ্বস্ত করেন যেএই অভিযানের দৃশ্যমান অগ্রগতি রয়েছে এবং অচিরেই এর পূর্ণ প্রভাব দেশবাসী অনুভব করবে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
ACP
লেখক / প্রতিবেদক

ACP

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।