বিশেষ প্রতিবেদক: নারায়ণগঞ্জের সীমা বানু সিমির বাবার করা আপিল নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।
আজ বুধবার প্রধান বিচারপতির সুরেন্দ্রকুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন চার সদস্যেরআপিল বেঞ্চ এই আদেশ দেন। বেঞ্চের অন্য সদস্যরা হলেন বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও মির্জা হোসাইন হায়দার।
উল্লেখ্য, ২০০১ সালে বখাটেদের উত্ত্যক্তের ঘটনায় অপমানিত হয়ে বিষপানে আত্মহত্যা করা নারায়ণগঞ্জের সীমা বানু সিমির বাবার করা আপিল নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।
আদেশে আদালত বলেছেন, আবেদনটি আপিল রিভিশন হিসেবে বিবেচনা করে নিষ্পত্তিরনির্দেশ দেওয়া হলো। দায়রা আদালত বা উপযুক্ত আদালতে এর নিষ্পত্তি করতে হবে।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল খোন্দকার দিলিরুজ্জামান। আসামিপক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন।খোন্দকার দিলিরুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, সর্বোচ্চ আদালতের এ আদেশের ফলে আসামিদের দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে সিমির বাবার করা আপিল নিষ্পত্তি করতে হবে। এখন এই বিচার শেষ করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ চারুকলা ইনস্টিটিউটের ছাত্রী সীমা বানু সিমি (২১) ২০০১ সালের ২৩ ডিসেম্বর আত্মহত্যা করেন। আত্মহত্যার আগে লিখে যাওয়া চিরকুটের সূত্র ধরে রাজধানীর খিলগাঁও এলাকার দোয়েল, খলিল, মোফাজ্জল, রিপন, খিলগাঁও থানার উপপরিদর্শক বাশার ও তাঁদের সহযোগিতাকারী এনায়েত চৌধুরীর বিরুদ্ধে পুলিশ ও সিমির বাবা আলী এমদাদদুটি আলাদা মামলা করেন।ওই ঘটনায় করা মামলায় বিচারিক আদালত পাঁচজনকে এক বছর করে কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছিলেন এবং একজনকে খালাস দিয়েছিলেন। বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে সিমির বাবা দায়রা আদালতে আপিল করেছিলেন। দায়রা আাদলত আবেদন গ্রহণ করে মামলাটি শুনানির জন্য অপেক্ষমান রাখেন।এ অবস্থায় ১২ বছর আগে দায়রা আদালতের আপিল গ্রহণের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করেছিলেন আসামিরা। পরে শুনানি শেষে ১০ বছর আগে হাইকোর্টে আসামিদের আবেদন খারিজ করে দেন।
হাইকোর্টের খারিজ আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করেন আসামিরা। আজ শুনানি শেষে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের বেঞ্চে দায়রা আদালতে মামলা নিষ্পত্তিরনির্দেশ দিলেন।



