আবু নাসের হুসাইন, সালথা প্রতিনিধি : ফরিদপুরের সালথায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবিযুক্ত কার্ডের মাধ্যমে এবার খাদ্য সহায়তা পেল ২৬শ ৪০টি অসহায় ও দুস্থ্য পরিবার। শনিবার সকাল ১০ টায় উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে এ সহায়তা হিসেবে ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়। চাল বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন, ফরিদপুরের জেলা প্রশাসকের পক্ষে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ মনিরুল ইসলাম, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ হাসিব সরকার, উপজেলা মৎস্য অফিসার সৈকত মল্লিক।
উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা আলী মাতুব্বার বলেন, এই দূর্যোগ সময়ে আমাদের সংসারে যে টানাপরেন চলছিলো এভাবে চাল পেলে তা আর থাকবে না। আমি ধন্যবাদ জানাই এমন পদক্ষেপ যারা নিয়েছেন তাদেরকে।
গট্টি ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা সাহানা বেগম এই খাদ্য সহায়তা পাওয়ার পর এভাবেই তার প্রতিক্রিয়া জানালেন। এসময় তিনি এই মানবিক কার্ডের খাদ্য সহায়তায় তার নামভুক্তির জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতাও জানান।
এই কার্ড পেয়ে খুশি প্রত্যন্ত গ্রামের সাধারণ মানুষ। এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বাসিন্দারা মানবিক সহায়তা কার্ডে প্রধানমন্ত্রীর উপহার পাওয়ার পর এমনই প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।
এমনই সুন্দর মহতি উদ্যোগ গ্রহন করেছে ফরিদপুরের জেলা প্রশাসন। তাদের ভাবনা চিন্তার ফসল এই মানবিক কার্ড এখন সারাদেশে রোল মডেল এ পরিনত হয়েছে। করোনা ভাইরাস বিপর্যয় কালিন সময়ে ফরিদপুর জেলা প্রশাসনের এই মডেল গ্রহন করে এরই মধ্যে অনেক জেলা প্রশাসন প্রধানমন্ত্রীর দেয়া মানবিক উপহার বিতরণ শুরু করেছেন হত দরিদ্রদের মাঝে।
গট্টি ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান লাভলু বলেন, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন ডিজিটাল কার্ড যুক্ত করে যে বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছেন, তাদেরকে আমি ধন্যবাদ জানাই। আমরা জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে সার্বক্ষনিক যোগাযোগ রেখে সুষ্ঠ সুন্দভাবে এই ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি।
সালথা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ হাসিব সরকার বলেন, করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে সংকটাপন্ন মানুষকে সহায়তা প্রদান একটা সময়োপযোগী সিস্টেমের ভেতরে নিয়ে আসার নিমিত্তে ফরিদপুরের সুযোগ্য জেলা প্রশাসক অতুল সরকার স্যারের মহতী ও সুচিন্তিত আধুনিক ধারনার এক অনবদ্য সৃষ্টি “মানবিক সহায়তা কার্ড”। তার ভাবনা চিন্তা থেকে দেশে এই মানবিক সহায়তা কার্ড এর যাত্রা শুরু করছে ফরিদপুরে প্রথম।
তিনি বলেন আমরা সালথা উপজেলার ২১ হাজার পরিবারের মাঝে এই কার্ড বিতরণ করেছি। এখন সেই কার্ড ধরে উপজেলার গট্টি ইউনিয়নে ৬৬০টি, মাঝারদিয়া ইউনিয়নে ৪৭৫টি, বল্লভদি ইউনিয়নে ৪৭০টি, ভাওয়াল ইউনিয়নে ৪৫৫টি, রামকান্তপুর ইউনিয়নে ৩৩০টি ও যদুনন্দী ইউনিয়নে ২৫০টি পরিবারের মাঝে ত্রান বিতরণ করা হয়েছে। আমরা করোনা সময়কালীনে এই কার্ডধারীদের মাঝে পর্যায়ক্রমে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রাখবো।
উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে প্রধানমন্ত্রীর মানবিক সহায়তা বিতরণকালে ফরিদপুরের জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ মনিরুল ইসলাম জেলা বলেন, বর্তমানে সারা বিশ^ করোনা ভাইরাসের প্রভাবে প্রকম্পিত। বাংলাদেশও সাম্প্রতিককালে এর প্রভাব বেশ পরিলক্ষিত হচ্ছে। ভাইরাসটির প্রভাবে জীবন ও অর্থনীতি ঝিমিয়ে পড়ায় অনেক মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে। এ বিশাল কর্মহীন মানুষকে মানবিক সহায়তার এক মহতী উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী।
তিনি আরো বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ হতে প্রাপ্ত মানবিক সহায়তা বিতরণ কার্যক্রমকে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার আওতায় এনেছেন জেলা প্রশাসক অতুল সরকার স্যার। মানবিক সহায়তা কার্ডটি স্বচ্ছ কথায় একটি ডিজিটাল পদ্ধতির কার্ড। যার মাধ্যমে একটি কার্ড থেকে কে কতো বার ত্রাণ নিয়েছে তা জানা যাবে খুব সহজে। জেলার পুরো চিত্র একটি সফটওয়্যার এর মাধমে থাকবে তার মাধ্যমে জানা যাবে দুঃস্থ্যদের চিত্র। জেলা প্রশাসক স্যারের নির্দেশে আগামী একমাসের মধ্যে এই পুরো প্রক্রিয়া শেষ করা হবে।




