সিজারিয়ান অপারেশনের পর পেটে গজ রেখে সেলাই দেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় শোকাহত পরিবারের পাশে দাঁড়াতে হঠাৎ নিহতের বাড়িতে ছুটে এসেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল।
শুক্রবার (২১ জুলাই) সকাল ৮টার দিকে বালিয়াকান্দির বাঘুটিয়া গ্রামে নিহত কবিকা মন্ডলের (৩৫) বাড়িতে গিয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। এ সময় সমবেদনা জানিয়ে তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এর আগে বুধবার রাত সোয়া ২টার দিকে ঢাকার কল্যাণপুরের ইবনে সিনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ওই নারী।
কবিকা রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের বাঘুটিয়া গ্রামের অশান্ত মন্ডলের স্ত্রী। মৃত্যুর আগে তার পেটে প্রায় দেড় কেজি গজ থাকার অভিযোগ ওঠে। পরে অস্ত্রোপচার করে সেই গজ বের করা হয়েছিল।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘নিউজটি দেখে আমি নিজেই এটা সহ্য করতে পারিনি। আমাদের অবহেলার কারণে যদি একজন মায়ের অকাল মৃত্যু হয়ে থাকে; তাহলে বিষয়টি আমরা চূড়ান্তভাবে দেখব। যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’
তিনি বলেন, ‘একটি নিষ্পাপ শিশু পৃথিবীতে এসেছে; অথচ সে তার মায়ের মুখটাও দেখতে পারল না- এর চেয়ে কষ্টের আর কী হতে পারে। শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আমার দৃষ্টি থাকবে, সরকারের দৃষ্টি থাকবে। আমরা স্বাস্থ্যসেবাকে দেশের সব নাগরিকের কাছে পৌঁছে দিতে চাই। কোনো নাগরিককে বিনা চিকিৎসায় মরতে দিতে চাই না।’
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘সেই দায়িত্ববোধ থেকেই কষ্ট পাওয়া এই পরিবারের কাছে সহমর্মিতা জানাতে এবং তাদের পাশে দাঁড়াতে ছুটে এসেছি। এ ঘটনার বিষয়ে প্রয়োজনীয়ভাবে খোঁজ নেওয়া হবে।’
এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন, বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম শওকত সিরাজ, বালিয়াকান্দি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুর রব তালুকদার, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. ফারুক হোসেনসহ স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতারা।
নিহতের স্বামী অশান্ত মন্ডল জানান, গত ২৯ জুন প্রসবের জন্য তার স্ত্রীকে ফরিদপুরের সমরিতা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওইদিন সন্ধ্যায় চিকিৎসক লক্ষ্মী রানী দত্ত সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে কন্যাসন্তান প্রসব করান। পরদিন থেকেই কবিকার পেট ফুলে যায়। পরে ৩ জুলাই তাকে ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
অশান্ত মন্ডলের দাবি, ৭ জুলাই চিকিৎসক আব্দুল জলিলের তত্ত্বাবধানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর কবিকার পেটে প্রায় দেড় কেজি গজ থাকার বিষয়টি ধরা পড়ে। ওইদিনই অস্ত্রোপচার করে গজ বের করা হয়। দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর বুধবার রাতে তার মৃত্যু হয়।
তিনি বলেন, ‘দুই মাসের সন্তানসহ আরও দুই ছোট ছেলে নিয়ে এখন আমি অথৈ সাগরে পড়েছি। আমার স্ত্রীকে হারিয়েছি। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।’ তিনি আরও দাবি করেন, সিজার করা চিকিৎসক লক্ষ্মী রানী দত্ত তাকে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা দিয়ে দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষমা চেয়েছেন। ওই বার্তায় চিকিৎসক ভুল হয়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন বলে দাবি করেন অশান্ত।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপে পরিবারটি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে আশাবাদী।




