সরকারী জমিতে হচ্ছে ব্যক্তিগত ভবন নির্মাণ

সরকারী জমিতে হচ্ছে ব্যক্তিগত ভবন নির্মাণ

মাদারীপুরের কালকিনিতে সরকারী জমি দখল করে নির্মাণ করা হচ্ছে ভবন। এলজিইডি জানায় ওই জমি তাদের অধিগ্রহণকৃত জমি। এক মুক্তিযোদ্ধার দাবি ওই জমি তার পৈত্রিক সম্পত্তি। কালকিনি মাছ বাজার সমিতির সভাপতি ও উপজেলা যুবলীগ সভাপতি জানায় জমির মালিকের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে ভবনের কাজ করা হচ্ছে। জমি মুক্তিযোদ্ধ বা এলজিইডি দুজনের কারও না।

জমির মালিক অন্য একজন। তার কাছ থেকে অনুমতি নিয়েই ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। জমির মালিকানা নিয়ে রয়েছে ত্রিমুখী জটিলতা। ভবনের মালিকানা ও ব্যবহার নিয়েও রয়েছে ত্রিমুখী ধারনা । ভবন নির্মানের টাকার যোগানের বিষয়টি পরিষ্কার করে বলছে না কেউ। যুবলীগ সভাপতি বলছে টাকার যোগান দিচ্ছে পৌর মেয়রের, মেয়র বলছে স্থানীয় কয়েকজন মিলে ভবনটি করছে। তবে ভবন নির্মাণের জন্য কোন রেজুলেশন করা হয়নি মাছ বাজার সমিতির পক্ষ থেকে। নেয়া হয়নি পৌরসভা থেকে কোন অনুমোদন । দেয়া হয়নি টেন্ডার। লক্ষ লক্ষ টাকার জোগান কে দিচ্ছে তা কেউ বলছে না। কালকিনি উপজেলা এলডিইডি বলছে এ জায়গা তাদের নামে মিউটেশন করা। অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ বন্ধের জন্য মৌখিকভাবে জানিয়ে কাজ বন্ধ করা হয়েছে। জায়গা পরিমাপ করে বুঝে নিব। সরকারী জায়গা দখল করে কোন স্থাপনা করতে দেয়া হবে না।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, মাদারীপুরের কালকিনি পৌরসভার মাছ বাজার এলাকায় সরকারী জমিতে বহুতল ভবন নির্মাণ নিয়ে চলছে নানা ধরনের গুঞ্জন। কালকিনি পৌর মাছ বাজার সমিতির সভাপতি ও কালকিনি উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মনিরজ্জামান হাওলাদারের ভবনটি নির্মাণ করছে বলে জানা যায়। তার দাবি এ ভবনটি পৌর মেয়র নির্মাণ করছেন মাছ বাজার টলঘর হিসেবে। তবে এ ভবনটি কি কাজে ব্যবহার করা হবে সে রহস্য নিয়েই চলছে নানা গুঞ্জন। টল ঘরের কথা জানেন না বেশিরভাগ দোকানী ও স্থানীয় সাধারণ মানুষ। স্থানীয়দের কেউ বলছে আওয়ামীলীগ একাশেংর পার্টি অফিস হবে, আবার কেউ বলছে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের প্রচার ও প্রকাশন সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. আব্দুস সোবাহান গোলাপ এমপি এর ব্যক্তিগত অফিস হবে ভবনটি। তবে এ ভবন যে জায়গায় নির্মাণ করা হয়েছে সেটি আব্দুর রহমান নামে এক মুক্তিযোদ্ধার পৈত্রীক সম্পত্তি বলে দাবি করেন তিনি। এছাড়া হাইকোর্টে একটি রায় রয়েছে বলে তিনি জানান। বহুতল ভবনের অর্থের জোগানের বিষয়ে মেয়র ও এমপি কথা তুলে আনা হয়। তবে টাকা দেয়ার বিষয় অস্বীকার করেন মেয়র।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক বলেন, ভবনটি এমপি আব্দুস সোবাহান গোলাপের অফিস হবে । নেতারা তার জন্য বানাইছে। সে (এমপি) যখন আসবে তখন এখানে বসে মিটিং করবেন। পার্টি অফিস এটা না। পার্টি অফিস পাশেই , উপজেলা পার্টি অফিস।
নাম প্রকাশে না করার শর্তে আরও কয়েকজন জানান, জায়গা দখল করার জন্য অনেকের নাম ভাঙ্গানো হচ্ছে। আওয়ামীলীগের মধ্যে দ্বন্দ আছে। তাই এ জায়গায় ভবন করে পার্টি অফিসের কাজ চালানো হবে। তবে নিচ তলা অফিস হলেও যারা টাকা খরচ করতেছে তারা উপর তালাগুলো দখল নিবে। মাছ বাজার টলঘর হবে না। টলঘর হলে ব্যবসায়ীরা জানতো।
মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহমান বলেন, তার জায়গা দখল করে মাছ বাজার সমিতির অফিস তৈরী করেছে। এখন এ ভবনটি নির্মাণ করছে। এটি তার পৈত্রিক সম্পত্তি। উচ্চ আদালতে রায় পেয়েছেন তারা। এছাড়া এ জায়গায় কাজ করার উপর নিষেধাজ্ঞাও রয়েছে। তারা এলাকায় না থাকায় জায়গা দখল করে খায় কিছু পাতি নেতারা।
কালকিনি মাছ বাজার সমিতির সভাপতি ও কালকিনি উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মনিরুজ্জামান হাওলাদার বলেন, মাছ বাজারের টলঘর হিসেবে ভবনটি নির্মাণ করা হচ্ছে। জায়গা এলজিইডি বা মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহমান কারও ই না। জায়গার মালিক অন্য কেউ। জায়গার মালিকের কাছ থেকে মৌখিক অনুমতি নিয়েছেন তিনি। ভবন নির্মাণের জন্য কোন রেজুলেশন করা প্রয়োজন মনে করেননি তিনি, পৌরসভার অনুমোদন নেয়ার বিষয় সম্পর্কে তিনি বলেন, মেয়র ই তো ভবন করতেছে পৌরসভার তো জানাই আছে। ভবনের টাকার জোগান দেয় মেয়র। অনেক কিছুই আছে যা নিয়ম মেনে করা হয়ে ওঠে না। প্রয়োজনে করে নিতে হয়। নির্মান খরচের টাকার বিষয় বলেন, ভাল কাজ করলে টাকা এসেই যায়।
কালকিনি উপজেলা প্রকৌশলী মো. রেজাউল করিম বলেন, যে জায়গায় ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে সে জায়গা এলডিইডির নামে মিউটেশন করা আছে। ওই জায়গা এলজিইডির,ওখানে কোন স্থাপনা করতে দেয়া হবে না। বিলেকে জায়গা পরিমাপ করে বুঝে নিব। কোন অবৈধ স্থাপনা রাখতে দেয়া হবে না।
কালকিনি পৌর মেয়র এস এম হানিফ বলেন, ভবন নির্মানে তিনি কোন টাকা দেননি। পৌরসভার থেকে কোন টেন্ডার দিয়েও কাজ করানো হয়নি। স্থানীয় কয়েকজন মিলে ভবনটি করছে শুনেছি।

কালকিনি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইমরান খান বলেন, যে জায়গায় ভবনটি হচ্ছে সেটি এলজিইডির জায়গা। তারা অধিগ্রহণ করেছিল। তাদের মিউটেশনও দেয়া হয়েছে।
কালকিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পিংকি সাহা বলেন, জেনেছি জায়গাটি এলজিইডির । তাদের নামে কাগজপত্র। অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠলে তা উদ্ধার করতে উপজেলা প্রশাসনের সহযোগীতা চাইলে সহযোগীতা করা হবে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Brinda Chowdhury
লেখক / প্রতিবেদক

Brinda Chowdhury

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।