সরকারি চাকরিতে ৩ লাখ ৮৭ হাজার ৩৩৮টি শূন্য পদ পূরণ করার নির্দেশ

দেশে বর্তমানে সরকারি চাকরিতে অনুমোদিত পদ রয়েছে ১৮ লাখ ২১ হাজার ২৮৪টি। এর মধ্যে কর্মরত রয়েছেন ১৪ লাখ ৩৩ হাজার ৯৪৬ জন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত হালনাগাদ পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে, সরকারি চাকরিতে ৩ লাখ ৮৭ হাজার ৩৩৮টি বা ২১ দশমকি ২৭ শতাংশ খালি রয়েছে।

গত বছরের জুলাই মাসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী এ তথ্য জানা যায়। সরকারি চাকরিতে এসব পদ পূরণ করার নির্দেশ দিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। করোনার মধ্যে চাকরির বয়স শেষ হয়ে যাওয়াদের ক্ষেত্রে যে বয়সসীমা বাড়ানো হয়েছে তারা এসব পদে আবেদন করতে পারবেন।

এমন নির্দেশনা দিয়ে বৃহস্পতিবার (০২ সেপ্টেম্বর) সরকারের সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এর আগে গত ১৯ আগস্ট এ বিষয়ে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে চিঠি দেওয়া হয়েছিল।

বৃহস্পতিবার দেওয়া চিঠিতে বলা হয়, বিভিন্ন ক্যাটাগরির সরকারি চাকরিতে (বিসিএস ছাড়া) প্রবেশকালে সর্বোচ্চ বয়সসীমা অতিক্রান্ত প্রার্থীদের আবেদনের সুযোগ দিতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় গত ১৯ আগস্ট এক চিঠি দিয়েছিল সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে।

আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত যেসব নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হবে, সেগুলোতে আবেদনের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ২০২০ সালের ২৫ মার্চ নির্ধারণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছিল সেখানে।

প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হয়। তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির পদগুলোতে নিয়োগের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের।

২০২০ সালের ২৫ মার্চ যাদের বয়স ৩০ বছর পূর্ণ হয়ে গেছে, তারাও আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সব নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির ভিত্তিতে আবেদন করতে পারবেন। সব মিলিয়ে বয়সের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২১ মাসের ছাড় পাচ্ছেন তারা।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বলছে, এমতাবস্থায়, বিভিন্ন ক্যাটাগরির সরকারি চাকরিতে (বিসিএস ছাড়া) সরাসরি নিয়োগের শূন্য পদগুলো দ্রুত সময়ের মধ্যে পূরণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয়/বিভাগকে নির্দেশনা দেওয়া হল।

এর মধ্যে মহামারির মধ্যে নিয়োগ বন্ধ থাকায় যারা ক্ষতির মুখে পড়েছে, তাদের জন্য গতবছরও এক দফা সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। ২০২০ সালের ২৫ মার্চ যাদের চাকরির বয়স শেষ হয়ে গিয়েছিল, সেপ্টেম্বরেও তাদের সরকারি চাকরিতে আবেদনের সুযোগ দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, করোনাভাইরাস মহামারির কারণে সরকারি চাকরিতে আবেদন করার বয়সসীমা যাদের শেষ হয়ে গেছে বা শেষ হতে যাচ্ছে, তাদের জন্য ২১ মাস ছাড় দিয়েছে সরকার।

গত মাসের শেষের দিকে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিব বরাবর এ-সংক্রান্ত চিঠি দেয় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

চিঠিতে করোনা মহামারির কারণে সরকারি চাকরিতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিতে না পারা সরকারের সব প্রতিষ্ঠানকে এ বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সব বিজ্ঞপ্তিতে প্রার্থীদের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ২৫ মার্চ ২০২০ নির্ধারণ করার নির্দেশ দেয়া হয়।

প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে আছে সব মন্ত্রণালয় বা বিভাগ এবং এর অধীনস্থ অধিদপ্তর, পরিদপ্তর, দপ্তরগুলো। এ ছাড়া আছে সংবিধিবদ্ধ, স্বায়ত্তশাসিত, জাতীয়করণ করা প্রতিষ্ঠানগুলো। তবে বিসিএস এ সিদ্ধান্তের আওতাবহির্ভূত।

করোনা মহামারির কারণে গত বছরের মার্চ থেকে সরকারি চাকরিতে সব ধরনের নিয়োগ স্থগিত ছিল। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন চাকরিপ্রত্যাশীরা। তাদের ক্ষতি পুষিয়ে দিতে এই ছাড় দিল সরকার।

এ সিদ্ধান্তের ফলে গত বছরের ২৫ মার্চের পর থেকে চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত যাদের সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩০ ছাড়িয়ে গেছে বা যাচ্ছে, তারা এই ছাড়ের সুবিধা পাবেন।

বর্তমানে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩০ বছর, মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের ক্ষেত্রে ৩২ বছর। প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরিতে সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) মাধ্যমে নিয়োগ দেয়া হয়। তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির পদগুলোতে নিয়োগের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Kishori
লেখক / প্রতিবেদক

Kishori

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।