যক্ষা নির্মূলে সমন্বিত বহুমূখী কর্মসূচি হাতে নিয়েছে বাংলাদেশ

বিশেষ প্রতিবেদকঃ ভারত সফররত স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, ২০৩০ সালের মধ্যে যক্ষ্মা নির্মূলের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সমন্বিত বহুমূখী কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এই রোগ প্রতিরোধে দেশে উচ্চ পর্যায়ের তত্ত্বাবধান নিশ্চিত করার পাশাপাশি জাতীয় যক্ষ্মা পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বাজেট বরাদ্দ বাড়ানো হবে।

তিনি আজ ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লীতে ‘যক্ষ্মা নির্মূলের লক্ষ্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রীদের সম্মেলন’ এর সমাপনী দিনে ‘কল ফর অ্যাকশন’ ঘোষণা অধিবেশনের বক্তৃতায় একথা বলেন। ভারতের স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডার সভাপতিত্বে অধিবেশনে ‘কল ফর অ্যাকশন’ ঘোষণা করেন বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক ড. পুনম ক্ষেত্রপাল সিং’।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী যক্ষ্মা নির্মূলে বাংলাদেশ সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং আন্তরিক অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, বাংলাদেশে যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণে বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থা ও অন্যান্য সহযোগিদের সাথে যৌথভাবে নেয়া কর্মসূচিগুলোর কার্যক্রম সরকার আরো জোরদার করবে। তিনি বলেন, যক্ষ্মার কারণে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের ১৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সীদের জীবন সব সময় হুমকির সম্মুখীন। ফলে প্রতিটি দেশের জাতীয় জীবনে অর্থনৈতিক ও উৎপাদন ক্ষমতার ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। মন্ত্রী বলেন, যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। যক্ষ্মা সংক্রমণের কারণগুলো চিহ্নিত করে দারিদ্র বেমোচন, অপুষ্টি দূরীকরণ, স্বাস্থ্যকর জীবন যাপন উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি অন্যান্য আর্থ-সামাজিক চ্যালেঞ্জ দূর করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। জনগণ এরই মধ্যে গৃহীত কার্যক্রমের সুফল পেতে শুরু করেছে। গত কয়েক বছরে যক্ষ্মা রোগ সনাক্তকরণ ও চিকিৎসার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অন্যান্য দেশের জন্য অনুসরণযোগ্য সাফল্য অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। তিনি এ সময় বাংলাদেশ থেকে পোলিও ও ধনুষ্টংকার নির্মূল এবং ইবোলা, জিকা ভাইরাস মোকাবেলায় সাফল্যের কথা তুলে ধরে বলেন, যক্ষ্মা নির্মূলে বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের কর্মসূচিতে বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থা ও উন্নয়ন সহযোগিদের সহায়তা অব্যাহত থাকলে শীঘ্রই বাংলাদেশকে যক্ষ্মামুক্ত ঘোষণা করা সম্ভব হবে।

যক্ষ্মা নির্মূলে দুইদিনব্যাপী স্বাস্থ্য মন্ত্রীদের সম্মেলন নয়াদিল্লীর হোটেল লা মেরিডিয়ানে গতকাল শুরু হয়। সিয়ারো অঞ্চলের ১১ দেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রী, সরকারের ঊর্দ্ধতন কর্মকর্তাবৃন্দ ছাড়াও বিশ^ ব্যাংক, গ্লোবাল ফান্ড, স্টপ টিবি পার্টনারশীপ, ইউএসএইড, ডিএফএটি-অস্ট্রেলিয়ার ঊর্দ্ধতন কর্মকর্তাবৃন্দ অংশ নেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী তিন সদস্য বিশিষ্ট প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিতে ১৪ মার্চ ভারত যান। তিনি আগামীকাল শুক্রবার বিকালে দেশে ফিরবেন বলে আশা করা যায়।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
admin
লেখক / প্রতিবেদক

admin

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।