শরীয়তপুরে ভূয়া তালাক, কাজীসহ আটক-৩

শরীয়তপুর প্রতিনিধি ॥
শরীয়তপুরে ভূয়া খোলা তালাক দেয়ার অপরাধে শরীয়তপুর পৌরসভা ৬ নং ওয়ার্ডের নিকাহ রেজিষ্ট্রার ও কাজী রেজাউল করিম সহ তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার সময় শরীতপুর পৌরসভার পাকারমাথা এলাকার নিজ কার্যালয় থেকে কাজীকে আটক করা হয়। এর আগে বিকাল ৪টায় শরীয়তপুর শহর থেকে ভূয়া তালাকে সহযোগিতা করায় বরের ভাই মোস্তাফিজুর রহমান কাওছার ও বরের বন্ধু আনোয়ারকে আটক করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে পালং মডেল থানায় জালিয়াতি সহ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলার প্রস্তুতি চলছে।
পালং মডেল থানা সুত্রে জানা যায়, শরীয়তপুর পৌরসভার নীলকান্দ্রি গ্রামের হাফিজুর রহমানের ছেলে নাঈমুর রহমান এক নারীর সাথে প্রেমের সম্পর্ক করে শরীয়ত মতে বিয়ে করে মেলামেশা করে। পরবর্তীতে ওই নারীকে স্ত্রীর মর্যাদা না দেয়ায় থানায় অভিযোগ করে। অভিযোগের ভিত্তিতে গত ২২ নভেম্বর পুলিশ অভিযুক্ত নাঈমকে না পেয়ে তার বাবা হাফিজুর রহমানকে থানায় নিয়ে আসে । নাঈমের বাবা ৪ দিনের মধ্যে ওই নারীকে পুত্রবধু হিসেবে মেনে নেয়ার শর্তে মুচলেকা দিয়ে থানা থেকে ছাড়া পায়। থানা থেকে ছাড়া পেয়ে ওই নারীকে পুত্রবধু হিসেবে মেনে না নিয়ে গত ২৮ নভেম্বর ঢাকা জেলার কোরানীগঞ্জ থানার থানার তেঘড়িয়া ইউনিয়নের নিকাহ রেজিস্ট্রার ও কাজী মাও. নাজিম  উদ্দিনের মাধ্যমে একটি ভূয়া কাবিন তৈরী করে।

ওই ভূয়া কাবিনের ভিত্তিতে গত ১৫ ডিসেম্বর শরীয়তপুর পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের নিকাহ রেজিস্ট্রার ও কাজী মো. রেজাউল করিমের মাধ্যমে একটি ভূয়া খোলা তালাকনামা তৈরী করে। ভূয়া কাবিন ও ভূয়া খোলা তালাক তৈরী করার অভিযোগে কাজী রেজাউল করিম, বরের ভাই মোস্তাফিজুর রহমান কাওছার ও বরের বন্ধু আনোয়ারকে আটক করা হয় পালং মডেল থানার পুলিশ।
পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) মো. এমারৎ হোসেন জানান, এক নারীকে ভূয়া কাবিন ও খোলা তালাক দেয়ার অপরাধে কাজী সহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের সাথে আরও যারা জড়িত তাদেরকেও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলার প্রতারণা, জালিয়াতি এবং নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
admin
লেখক / প্রতিবেদক

admin

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।