বেনাপোল প্রতিনিধিঃ বেনাপোল (যশোর): বুদ্ধপূর্ণিমা, মে দিবস, শবেবরাত ও সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে পাঁচদিনের লম্বা বন্ধের কবলে পড়ছে বেনাপোল স্থলবন্দর। এসময় আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও স্বাভাবিক থাকবে পাসপোর্ট যাত্রী যাতায়াত। খোলা থাকবে ইমিগ্রেশন। সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে নেওয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা। এমনটা জানাচ্ছিলেন সংশ্লিষ্টরা।
রোববার (২৯ এপ্রিল) বেনাপোল বন্দর এলাকা ঘুরে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বাড়তি নজরদারি চোখে পড়ে।
লম্বা ছুটির ফাঁদে আমদানি-রফতানি বন্ধ থাকায় বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দরে পণ্যজট আরও বাড়বে বলে মনে করছেন বন্দর সংশ্লিষ্টরা। অনেক শিল্প প্রতিষ্ঠানে কাঁচামালের সংকটও দেখা দিতে পারে।
দু’দেশের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস ও বন্দর সূত্রে জানা যায়, ২৭ এপ্রিল শুক্রবার ছিল সাপ্তাহিক ছুটি। শনিবার ২৮ এপ্রিল কার্যক্রম চলেছে।
রোববার (২৯ এপ্রিল) বুদ্ধপূর্ণিমার ছুটিতে বন্ধ আমদানি-রফতানি কার্যক্রম। সোমবার (৩০ এপ্রিল) আমদানি-রফতানি কার্যক্রম চললেও মঙ্গল ও বুধবার (১-২ মে) মে দিবস ও শবেবরাত উপলক্ষে সরকারি ছুটিতে বন্দরের কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। বৃহস্পতিবার (৩ মে) বন্দরের কার্যক্রম শেষ হয়ে ফের শুক্রবার (৪ মে) সাপ্তাহিক ছুটিতে বন্ধ থাকছে। শনিবার ৫ মে থেকে চলবে আমদানি-রফতানি। তবে লম্বা ছুটিতে বন্দর ও কাস্টমসের অনেক কর্মকর্তা নিজ নিজ বাড়িতে গেছেন পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে। এতে ব্যবসায়ীদের ধারণা ৬ মে থেকে কর্মচাঞ্চল্য ফিরবে বন্দরে।
ভারতের পেট্রাপোল বন্দর সিঅ্যান্ডএফ স্টাফ ওয়েলফেয়ার স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক কার্তিক চক্রবর্তী বলেন, বন্দরে স্থান সংকুলান না হওয়ায় বন্দরের ট্রাক টার্মিনাল, পেট্রাপোল পার্কিং ও বনগাঁও টার্মিনালে কয়েকশ পণ্য বোঝাই ট্রাক বেনাপোল বন্দরে প্রবেশের অপেক্ষা রয়েছে। ছুটি শেষে এসব পণ্য বন্দরে ঢুকবে। এতে বন্দর এলাকায় তীব্র যানজটের আশঙ্কা রয়েছে। কাচামাল নিয়েও চিন্তিত
ব্যবসায়ীরা।
বেনাপোল বন্দরের নিরাপত্তা সংস্থা আনসার ব্যাটালিয়নের সহকারী কমান্ডার নিমাই বাবু বলেন, এ বন্দরে দেশের কয়েকশ আমদানিকারকের কোটি কোটি টাকার পণ্য রয়েছে। লম্বা ছুটিতে বন্দরের কার্যক্রম বন্ধ। এসময় যাতে কেউ সেখানে প্রবেশ করে পণ্যের ক্ষতি কিংবা কোনো রকম নাশকতামূলক ঘটনা না ঘটাতে পারে এজন্য নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।
একই কথা বলেন, এপিবিএন, আর্ম ব্যাটালিয়ন ও পিমার কর্মকর্তারা।
বেনাপোল ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বলেন, ছুটিতে বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও পাসপোর্ট যাত্রী যাতায়াত স্বাভাবিক থাকবে।
বেনাপোল বন্দর বন্দর পরিচালক (ট্রাফিক) আমিনুল ইসলাম বলেন, লম্বা ছুটিতে যাতে বন্দরে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সেজন্য সমস্ত নিরাপত্তা সংস্থাকে অন্য সময়ের চেয়ে আরো বেশি নজরদারিতে রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বন্দরে যাতে পণ্যজট ও যানজট সৃষ্টি না হয় সেদিকেও লক্ষ্য রাখা হচ্ছে।
দেশের অর্থনীতিতে বেনাপোল বন্দরের ভূমিকা অপরিসীম। এশিয়া মহাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোল। প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গে স্থলপথে আমাদের যে আমদানি-রফতানি বাণিজ্য তার ৭৫ শতাংশ সম্পাদন হয় এ বন্দর দিয়ে।
আমদানি করা পণ্যের মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য হলো- শিল্পকারখানার বিভিন্ন কাঁচামাল, মেশিনারি সামগ্রী, সুতা, কাপড় ও খাদ্যদ্রব্য। রফতানি পণ্যের মধ্যে অন্যতম কাঁচাপাট ও পাটজাত দ্রব্য।
ব্যবসায়ীরা জানান, বন্দরটিতে সব সময় প্রায় দেড় লাখ মেট্রিক টন আমদানি পণ্য মজুদ থাকে। যার বাজারমূল্য কয়েক হাজার কোটি টাকা। ছুটির মধ্যে সাধারণত দেখা যায় নাশকতা বা দুর্ঘটনামূলক কর্মকাণ্ড বন্দরে ঘটে। এজন্য এসময়টাতে নজরদারি বেশি দরকার।




