রহস্যময় ওসমান আমিনের খোঁজে র‌্যাব

বিশেষ প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম : জঙ্গি সংগঠন শহীদ হামজা ব্রিগেডকে অর্থায়নের অভিযোগে গ্রেপ্তার ব্যবসায়ী এনামুল হকের দেওয়া তথ্য মতে ওসমান আমিন নামে এক ব্যক্তির খোঁজে নেমেছে র‌্যাব। এই সংগঠনকে অর্থায়নের মুলে রয়েছে রহস্যময় এই ওসমান আমিন। তার সাথে ছিলেন মনিরুজ্জামান মাসুদ ওরফে ডন।

আজ বৃহস্পতিবার আদালতে হাজির হয়ে এই তথ্য দেন ব্যবসায়ী এনামুল হক। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদেও একই তথ্য দেন তিনি। পাঁচদিনের রিমান্ড শেষে ব্যবসায়ী এনামূল হককে বাঁশখালি আদালতে হাজির করা হয় বলে জানান র‌্যাব-৭।

র‌্যাব-৭ সূত্র জানায়, এনামুল হকের দেওয়া তথ্যমতে আমরা নিশ্চিত হয়েছি জঙ্গি সংগঠন শহীদ হামজা ব্রিগেডকে অর্থায়নের মুলে রয়েছে ওসমান আমিন। শহীদ হামজা ব্রিগেডের উইয়ং প্রধান মনিরুজ্জামান মাসুদ ওরফে ডন বর্তমানে কারাগারে থাকলেও ওসমান আমিন ধরা ছোঁয়ার বাইরে।

এর মূল কারন ওসমান আমিন অর্থায়নের সময় বিভিন্ন ছদ্মনাম ব্যবহার করতো। ফলে ওসমান আমিন আসলে কে তাও এখনো নিশ্চিত হয়নি র‌্যাব। তবে তার খোঁজে র‌্যাব মাঠে নেমে পড়েছে। তাঁকে গ্রেপ্তার করতে পারলে হয়তো এই জঙ্গী সংগঠনের শিকড়ে পৌছে যাবে র‌্যাব।

র‌্যাবের চট্টগ্রাম জোনের পরিচালক লে. কর্নেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ এ প্রসঙ্গে দ্য নিউজকে বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে আমরা মোটামুটি নিশ্চিত হয়েছি ব্যবসায়ী এনামুল হক সানজিদা এন্টারপ্রাইজের একাউন্টে নিজে টাকা জমা দেননি। প্যান্ট তৈরির অর্ডার দিয়ে সুতা ও কাপড় কেনার কথা বলে টাকাগুলো এনামুলকে সঙ্গে নিয়ে একাউন্টে জমা দিয়েছিলেন ওসমান আমিন ও মনিরুজ্জামান মাসুদ ওরফে ডন।

এর আগে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানাও জানিয়েছিলেন, হেফাজতের মামলা পরিচালনার জন্য ওসমান আমিন ও মাসুম নামে দুজন মিলে তাকে এক কোটি ২০ লাখ টাকা দিয়েছিল। কিন্তু তিনি হেফাজতের নেতাকর্মীদের জামিন করাতে ব্যর্থ হন। পরবর্তীতে তিনি ওই টাকা থেকে ১২ লাখ টাকা তার ফি বাবদ রেখে বাকি টাকা সানজিদা এন্টারপ্রাইজের একাউন্টে ফেরত দেন।

শাকিলা ফারজানা জবানবন্দিতে জানিয়েছিলেন ওসমান আমিনের মুখে দাঁড়ি ছিল। এনামুলও জানিয়েছেন তার সঙ্গে যে দুজন ব্যাংকে গিয়েছিলেন তাদের একজনের মুখে দাঁড়ি ছিল, আরেকজন ছিলেন ক্লিন শেভড। আমাদের ধারণা, ওসমান আমিনসহ দুজন গিয়েছিলেন। কিন্তু সেখানে তারা ভিন্ন নাম বলেছেন।

র‌্যাব পরিচালক জানান, সানজিদা এন্টারপ্রাইজে একাউন্টের রেফারেন্স পেয়ে এনামুল হককে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। কিন্তু গ্রেপ্তারের পরই এনামুল জানতে পারেন, তিনি যে একাউন্টে টাকা জমা দিয়েছেন সেটি সানজিদা এন্টারপ্রাইজের একাউন্ট।

র‌্যাব সূত্র জানায়, শহীদ হামজা ব্রিগেডের একটি উইংয়ের প্রধান মনিরুজ্জামান মাসুদ ওরফে ডনের ১৪টি ব্যাংক একাউন্টের সন্ধান পেয়েছেন তারা। এর মধ্যে কয়েকটি একাউন্ট তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সানজিদা এন্টারপ্রাইজের নামে খোলা হয়েছে। কয়েকটি একাউন্টে ২০১৪ সালের আগস্ট-সেপ্টেম্বর মাসে কয়েক দফায় এক কোটি ৩৮ লাখ টাকা জমা হয়েছিল। গ্রেপ্তার হওয়া চারজন পাঁচ ধাপে ডনের মালিকানাধীন সানজিদা এন্টারপ্রাইজের একাউন্টে এক কোটি ২৪ লাখ টাকা জমা দিয়েছিল।

এর মধ্যে ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা দুই ধাপে ৫২ লাখ টাকা, এডভোকেট মো. হাসানুজ্জামান লিটন ৩১ লাখ টাকা, এডভোকেট মাহফুজ চৌধুরী বাপন ২৫ লাখ টাকা এবং মো. এনামুল হক ১৬ লাখ টাকা দিয়েছিলেন। ডনের একাউন্টে জমা হওয়া বাকি ১৪ লাখ টাকা কারা দিয়েছিল সে বিষয়ে অনুসন্ধান চালাচ্ছে পুলিশের এ বিশেষ ইউনিটের কর্মকর্তারা।

র‌্যাবের ধারণা, দুই ব্যক্তি হচ্ছেন ওসমান আমিন এবং মনিরুজ্জামান মাসুদ ওরফে ডন। তাদের কাছে তথ্য আছে, ২০১৪ সালের আগস্ট মাসে সানজিদা এন্টারপ্রাইজের অ্যাকাউন্টে টাকাগুলো জমা হয়েছে। এসময় মনিরুজ্জামান মাসুদ ওরফে ডন কারাগারের বাইরে ছিলেন। ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে ডন জেলে যায়।

উল্লেখ্য, গত শনিবার (৫ আগস্ট) রাতে রাজধানীর টঙ্গির তুরাগ থেকে গোল্ডেন টাচ অ্যাপারেলসের পরিচালক এনামুল হককে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। পরদিন বাঁশখালীতে দায়ের হওয়া অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনের একটি মামলায় পাঁচদিনের রিমান্ড শেষে আজ বৃহস্পতিবার আদালতে হাজির করা হয়।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
admin
লেখক / প্রতিবেদক

admin

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।