ই.আর.ইমন,যশোর: যশোরে চীনা ব্যবসায়ী চ্যাং হিং চংয়ের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পুলিশের পক্ষে উপশহর পুলিশ ফাঁড়ির আইসি আব্দুর রহিম হাওলাদার ও যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক কাজল কান্তি মল্লিক পরিবারের কাছে শুক্রবার রাতে লাশ হস্তান্তর করেন। পরিবারের পক্ষে চ্যাং হিং চংয়ের স্ত্রী টেমু লাই এন তার লাশ গ্রহণ করেন।
এদিকে, হত্যাকান্ডের ঘটনায় কোতয়ালি থানায় হত্যা মামলা হয়েছে। মামলায় ওই ব্যবসায়ীর দুই কর্মচারীকে আসামি করা হয়েছে। গ্রেফতার দুই আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাতে যশোরের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক বুলবুল ইসলাম আসামিদের জবানবন্দি রেকর্ড করেছেন। অপরদিকে, ময়নাতদন্তের পর চ্যাং হিং চং মরদেহ শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টায় আইনী প্রক্রিয়া শেষে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতাল মর্গ থেকে পরিবারের কাছে দেওয়া হয়।
সূত্রমতে, চীনা নাগরিক চ্যাং হিং চং (৪৫) হত্যাকা-ের ঘটনায় যশোর উপশহর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবদুর রহিম বাদী হয়ে কোতয়ালী থানায় মামলা দায়ের করেছেন। যার নম্বর ১৩৪/১৫.১২.১৬। মামলায় চীনা ব্যবসায়ীর দুই কর্মচারী নেত্রকোনা জেলা সদরের চকপাড়া এলাকার মুজিবর রহমানের ছেলে নাজমুল হাসান পারভেজ ও তার ভাইপো রফিকুল ইসলামের ছেলে মুক্তাদির রহমানকে আসামি করা হয়েছে। পরে দুই আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। রাতে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক বুলবুল আহমেদ ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ড করেন।
এ প্রসঙ্গে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও কোতয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইলিয়াস হোসেন জানান, আদালতে দুই আসামি হত্যার দায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। জবানবন্দি রেকর্ড করে আসামিদের কারাগারে সোপর্দ করেছেন আদালত। মামলা তদন্তাধীন রয়েছে। যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চীনা ব্যবসায়ী চ্যাং হিং চং এর মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে।
ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক হুসাইন সাফায়েত জানান, পিটিয়ে ও শ্বাসরোধে তাকে হত্যা করা হয়েছে।
উল্লেখ্য ১৫ ডিসেম্বর যশোর উপশহর মহিলা কলেজের পাশে ২ নম্বর সেক্টরের ৩৪ নম্বর বাড়ি থেকে চীনা নাগরিক চ্যাং হিং চংকে (৪৫) তার হাত পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় চীনা নাগরিকের কর্মচারী নেত্রকোনা জেলার চকপাড়া এলাকার বাসিন্দা নাজমুল হাসান পারভেজ ও তার ভাইপো মুক্তাদির রহমানকে আটক করা হয়।
চীনা নাগরিক চ্যাং হিং চং ২০১৪ সাল থেকে বাংলাদেশে ব্যবসা করতেন। সর্বশেষ তিনি ২৭ নভেম্বর বাংলাদেশে আসেন। গত সাত মাস ধরে উপশহরের এই বাড়িটির নিচতলা তিনি গুদামঘর হিসেবে ব্যবহার করতেন বলে জানান বাড়ির মালিক মাসুদুর রহমান।