যশোরে করোলা চাষে ঝুঁকছে চাষিরা

যশোর প্রতিনিধি: যশোরে বিভিন্ন এলাকায় অন্যান্য ফসলের চেয়ে দ্রুত গতিতে বাড়ছে করোলা চাষ। স্বল্প সময়ে চাষ ও অধিক লাভের সুযোগ থাকায় দিন দিন করোলা চাষে ঝুঁকছেন এ অঞ্চলের কৃষকরা। তবে ভরা মৌসুমে দাম নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন তারা।

শীত ও গ্রীষ্ম এই দুই মৌসুমে এসব এলাকার মাঠজুড়ে এখন বিভিন্ন সবজির পাশাপাশি চাষ হচ্ছে করোলা। জেলার সদর উপজেলার নোঙরপুর, আন্দোলপোতা, আব্দুলপুর চুড়ামনকাটি, লেবুতলাসহ বিভিন্ন এলাকায় যেদিকে চোখ যায়, মাঠের পর মাঠ শুধু করোলা ক্ষেতের সবুজের সমারোহ। মাচার উপরে সবুজ ডগা বাতাসে দোল খায়। আর নিচে দোল খায় করলা। সেই সাথে কৃষকের মন।

যশোর জেলায় দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে করলা চাষ। কৃষি বিভাগের হিসাব মতে, গত বছর এ জেলায় সাড়ে ৬শ’ হেক্টর জমিতে করলা চাষ হলেও এবছর তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭শ’ হেক্টরেরও বেশি। নোঙরপুর গ্রামের কৃষক শহিদুল ইসলাম জানান, অন্যন্য সবজির তুলনায় করোলা চাষে খরচ কম।

তাছাড়া বাজারে করোলার দাম বাড়তি থাকায় তারা এ চাষের প্রতি আগ্রহী হচ্ছেন। এবছর আগাম বৃষ্টিপাতের কারণে করোলা গাছ ভালো দেখা যাচ্ছে। আশা করি ফলনও ভালো হবে। আর সামনে বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে বেশি লাভের আশা করছেন তিনি।

রাজাপুর গ্রামের করলা চাষি আবু সাঈদ বলেন, গেল মৌসুমে আমার ক্ষেতে আলু লাগিয়ে লোকসান হয়েছে। এবার আমি করলা লাগিয়েছি। ক্ষেতের ফলন যেভাবে ধরেছে, আশা করছি এবছর লাভ বেশি হবে। তবে তিনি অভিযোগ করে বলেন, প্রতিবছর ভরা মৌসুমে বাজার ব্যবস্থার অভাবে কৃষককে লাভের পরিবর্তে লোকসান গুনতে হয়।

কথা হয় করলা ব্যবসায়ী হায়দার আলীর সাথে। তিনি বলেন, এখানকার উৎপাদিত করোলা স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে পাইকারদের হাত ধরে চলে যায় দেশের বিভিন্ন জেলায়। যশোর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক সুব্রত কুমার চক্রবর্তী বলেন, করোলা চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে কৃষকদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণসহ কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।#

 

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
admin
লেখক / প্রতিবেদক

admin

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।