মেহের আমজাদ, মেহেরপুর:
‘এত ভালো পরীা দেব ভাবতেও পারিনি। ইংরেজিতে একটু ভয় ভয় লাগতো। কিন্তু স্যার ম্যাডামরা যা পড়িয়েছে তার মধ্যেই পরীা এসেছে। তবে ১২ নম্বর প্রশ্নটা বুঝতে পারিনি। তাই ১০০ মার্কের উত্তর দিতে পারিনি। ৯৫ মার্কের (নম্বরের) উত্তর লিখতে পেরেছি’। এভাবে স্পষ্ট ভাষায় গতকাল রবিবার দুপুরে পিএসসি পরীক্ষার প্রথম দিন ইংরেজি পরীক্ষা শেষে ৬৫ বছরের বাসিরন এ অনুভুতি প্রকাশ করেন। মেহেরপুর জেলা শহরের ৩৫ কিলোমিটার পূর্বদিকে গাংনী উপজেলার মটমুড়া ইউনিয়েনের হোগলবাড়িয়া-মহাম্মদপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে পিএসসি পরীায় অংশ নেয় বাসিরন। সে একই গ্রামের হোগলবাড়িয়া পূর্বপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। বাসিরনের পরীক্ষা দেখতে ওই কেন্দ্র পরিদর্শন করেন ইউনিয়ন চেয়ারম্যান সোহেল আহমেদ, তার বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আহসানুল্লাহ মোহন।
ইউপি চেয়ারম্যান সোহেল আহমেদ বলেন, তার পরীক্ষা দেখার জন্য আমি কেন্দ্রে ছুটে এসেছি। বাসিরন সারাদেশের জন্য একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ। তাকে অন্যরা উৎসাহিত হবে। এভাবে সকলেই শিক্ষার জন্য এগিয়ে আসলে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে তাদের সহযোগিতা করা হবে।
বাসিরন খাতুন যে কে পরীক্ষা দেন সে করে ক পরিদর্শকের দায়িত্বে ছিলেন সহকারী শিীক্ষকা সাজেদা খাতুন। তিনি জানান, সাধারণ পরীার্থীদের মতই পরীক্ষা দিয়েছে বাসিরন। শান্ত সুষ্ঠ ভাবে পরীায় আপন মনে লিখেছে সে।
কেন্দ্র সচিব জিয়া মহাম্মদ আহসান মাসুম জানান, আমার কেন্দ্রে ৬৩ বছরেও বাসিরন পরীা দিচ্ছে এতে আমি খুব আনন্দিত। এরকম বাসিরন আরো তৈরি হোক। তিনি প্রত্যাশা করেন বাসিরন ভালো পরীক্ষা দিয়ে পাশ করে সবার মন জয় করবে।
কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তা জাহিদুল করিম বলেন, শিার কোনো বয়স সীমা নেই বাসিরন এটাই প্রমান করলো। বাসিরন একটা উদাহরণ হিসাবে দেখালো এবং অনেককে উৎসাহিত করলো। আসলেই শিা যে কোনো সময়ই করা যায়।
বাসিরনের ভাবী তন্নী খাতুন জানান, বাসিরনকে দেখে আমিও আনন্দিত। এত বয়সে সে লেখাপড়া করে পরীক্ষা দিচ্ছে। তার আগ্রহ দেখে আমিও এসেছি পরীা দেখতে।
জেলা প্রশাসক পরিমল সিংহ বলেন, শুনেছি বাসিরন নামের ৬৫ বছর বয়সী এক জন পিএসসি পরীক্ষা দিচ্ছেন। তাকে দেখতে পরীক্ষা কেন্দ্রে যাব।

