বাংলাদেশে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির মেডিকেল ডিভাইস ও ঔষধ শিল্প স্থাপনে আগ্রহ দেখিয়েছে তুরস্ক। এখানে ইনসুলিন ও ভ্যাকসিন প্রস্তুতের প্ল্যান্ট নির্মাণের ক্ষেত্রও খতিয়ে দেখছে তারা। পাশাপাশি এদেশ থেকে চিকিৎসক ও নার্সদের তুরস্কে প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরিতেও আগ্রহী সেদেশ।
আজ সচিবালয়ে তুরস্কের স্বাস্থ্য উপমন্ত্রী ডা. এমিনে আল্প মেশে (Emine Alp Mese) স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেকের সাথে সাক্ষাৎ করতে এসে এই আগ্রহের কথা জানান।
বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরো শক্তিশালী করার আশাবাদ ব্যক্ত করে তুরস্কের উপমন্ত্রী বলেন, দুই দেশের স্বাস্থ্যখাতের সহযোগিতামূলক সম্পর্ক আরো সম্প্রসারিত করতে পারলে উভয় দেশই উপকৃত হতো। স্বাস্থ্যখাতে বাংলাদেশের অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশ থেকে এখন বিভিন্ন দেশে ঔষধ রপ্তানী হচ্ছে। এখানে তুরস্ক যদি ডিভাইস শিল্প গড়ে তোলে তবে বাংলাদেশের জনগণ উপকৃত হবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী তুরস্কের উপমন্ত্রীর আগ্রহকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এদেশে ইতোমধ্যে তুরস্কের সহায়তায় ১০টি কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মিত হয়েছে। আরো ১০টি নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। তুরস্কের অর্থায়নে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে একটি ক্যান্সার চিকিৎসা ইউনিট চালু হয়েছে। তিনি বাংলাদেশে অত্যাধুনিক মানের একটি হাসপাতাল নির্মাণে সহায়তা করার জন্য তুরস্কের স্বাস্থ্য উপমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বাংলাদেশের ঔষধ শিল্প ও ডিভাইস তৈরির উদ্যোগকে সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশের চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের দক্ষতার উন্নয়নে তুরস্ক সহযোগিতা করতে পারে। পাশাপাশি এখানে স্বাস্থ্য পর্যটন শিল্পের বিকাশেও তুরস্কের সহায়তা চাইলেন জাহিদ মালেক।
এসময় স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব জিএম সালেহ উদ্দিন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মে. জে. মোস্তাফিজুর রহমান, তুরস্কের রাষ্ট্রদূত ডেভরিম ওজতুর্ক (Devrim Ozturk)-সহ মন্ত্রণালয় ও তুরস্কের ঊর্দ্ধতন কর্মকর্তা ও ব্যবসায়িক প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।


