মেক্সিকো সিটিস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস বিশ্বের ১৭০টি দেশে কর্মরত ১৫ কোটিরও বেশি প্রবাসী বাংলাদেশির উল্লেখযোগ্য অবদানের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় ‘জাতীয় প্রবাসী দিবস ২০২৩’ উদযাপন করেছে। ‘প্রবাসীর কল্যাণ, মর্যাদা- আমাদের অংগীকার; স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ায় তারাও সমান অংশীদার’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে প্রথমবারের মতো দিবসটি পালিত হচ্ছে।
এই দিবস উপলক্ষে ঢাকাস্থ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রাপ্ত একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি শুভ সূচনা করা হয়। এরপর রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয়। উন্মুক্ত আলোচনা পর্বে মেক্সিকো প্রবাসী বাংলাদেশীরা রেমিট্যান্স স্থানান্তরসহ তাদের বিভিন্ন সমস্যার কথা উপস্থাপন করেন।
রাষ্ট্রদূত আবিদা ইসলাম তার বক্তব্যে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং জাতির ইতিহাস গঠনে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা উল্লেখ করবার পাশপাশি বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবদানের কথা তুলে ধরেন। তিনি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে তাদের সাহসী ভূমিকা, বাংলাদেশের জন্য আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জনের প্রচেষ্টা এবং যুদ্ধোত্তর পুনর্গঠনে তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণের কথা তুলে ধরেন। সেইসাথে, তিনি বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে রেমিটেন্সের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা এবং প্রবাসী শ্রমিকদের কল্যাণ নিশ্চিতকল্পে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম এবং উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন।
মেক্সিকোর নাপান্তলায় শহীদ মিনারের রেপ্লিকা নির্মাণে সক্রিয় অবদান রাখার জন্য এবং ২০২৩ সালে (মেক্সিকোর অর্থনীতি মন্ত্রণালয়ের মতে) বাংলাদেশে ২৬০,০০০ মার্কিন ডলার রেমিটেন্সের প্রেরণের জন্য রাষ্ট্রদূত মেক্সিকো প্রবাসী বাংলাদেশীদের সাধুবাদ জানান। তিনি বাংলাদেশের সংস্কৃতির প্রসার, বাংলাদেশের উন্নয়নে সহযোগিতা জোরদার এবং দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক জোরদারে তাদের সক্রিয় সম্পৃক্ততার আহ্বান জানান।
অভিবাসী শ্রমিক, প্রবাসীদের কল্যাণ এবং দেশের শান্তি ও অগ্রগতি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত এবং ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশী খাবার পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের পরিসমাপ্তি ঘটে।



