মারাত্মক সাংবিধানিক সঙ্কটে ধাবিত দেশ- এ রকম আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন বিদ্বজ্জনেরা। আশা ছিল, শুভবুদ্ধির উদয় হবে। সঙ্কটের সফল সমাপ্তি ঘটবে। শাসক দলের নরম-গরম বক্তৃতা এবং পর্দার অন্তরালে আপসরফার প্রয়াস দেখে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা ছিল সাংবিধানিক পথেই অগ্রসর হবে উভয়পক্ষ। কিন্তু আকস্মিকভাবেই প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার একটি মন্তব্য সর্বোচ্চ কর্তৃত্বকে বেসামাল করে তোলে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ব্যক্তি ও গণমাধ্যম বিষয়টিকে উসকানিমূলকভাবে পরিবেশন করে। উদাহরণস্বরূপ সস্তায় বিক্রীত একটি দৈনিকে শিরোনামটা ছিল এরকম ‘পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীকে অপসারণের কথা অ্যাটর্নি জেনারেলকে স্মরণ করিয়ে দিলেন এস কে সিনহা’।
অথচ বক্তব্যটি এমন ছিল না। অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম যখন বলেন, চার দিকে ঝড় উঠেছে তখন প্রধান বিচারপতি বলেন, ঝড় তো আপনারাই তুলেছেন। পাকিস্তানে রায়ের পরে তো কোনো ঝড় ওঠেনি। এ বক্তব্যকে বিকৃত করে যখন পরিবেশিত হয়, তখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।
তার বক্তব্যের সারাংশ এ রকম : ক. ‘সব সহ্য করা যায়, কিন্তু পাকিস্তানের সাথে তুলনা করলে এটা আমরা কিছুতেই সহ্য করতে পারব না। পাকিস্তানে রায় দিলো দেখে কেউ ধমক দিবে- জনগণের কাছে এর বিচার চাই, … আজকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সাথে কেন তুলনা করবে? খ. অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করতে দেয়া হবে না। যদি কেউ সে অপচেষ্টা চালায়, তাকে সংবিধানের ৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। গ. সব বিচারপতির স্বাধীন মতামত দেয়া নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী। সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণার রায়ে সব বিচারপতি স্বাধীনভাবে মতামত দিতে পেরেছেন কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সেই সুযোগটা বোধ হয় প্রধান বিচারপতি দেননি’।
প্রধানমন্ত্রী প্রধান বিচারপতির নিয়োগ, জাতীয় সংসদ, অবৈধ ক্ষমতা দখল, নারীর ক্ষমতায়ন ইত্যাদি বিষয়ে বক্তব্য দেন। এসব উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী মন্তব্য করেন, ‘এ কথাগুলো বলার আগে ওই পদ থেকে তার সরে যাওয়া উচিত ছিল’। সংসদের বৈধতা ও অবৈধতা প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নির্বাচনী আইনে আছে, অন্য কোনো প্রার্থী না থাকলে নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়। কোনো দল নির্বাচনে অংশ না নিলে যিনি এভাবে নির্বাচিত হয়ে আসেন সেটা তো তার দোষ না। সে জন্য সংসদের বৈধতা ও অবৈধতার প্রশ্ন আসতে পারে না’।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করলে এটা স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, তিনি প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার ওপর মহা ক্ষিপ্ত হয়েছেন। কয়েক দিন আগে প্রধানমন্ত্রীর ভাষায় নিয়মতান্ত্রিকতার যে খানিকটা সুর ধ্বনিত হচ্ছিল, তার তীব্র বাক্যবাণে তা নস্যাৎ হয়ে গেল। তিনি প্রকারান্তরে প্রধান বিচারপতিকে পদত্যাগের আহ্বান জানিয়েছেন। পরবর্তীকালে তার এই আহ্বানকে কার্যকর করার জন্য যে অপকৌশল আওয়ামী লীগ নিয়েছে, তা যেকোনো আইনকানুন, রীতি-রেওয়াজ, ভদ্রতা-সভ্যতা, শিক্ষা-সংস্কৃতির বিরোধী।
আওয়ামী লীগের নেতা, পাতি নেতা, হাইব্রিড নেতা সবাই তারস্বরে চিৎকার করছেন প্রধান বিচারপতির পদত্যাগ চেয়ে। আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ ২৩ আগস্ট হাইকোর্টের সামনে মানববন্ধন করে প্রধান বিচারপতির পদত্যাগ দাবি করে এবং এ জন্য পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেয়। আওয়ামী লীগের নেতারা এমন কোনো কুৎসিত মন্তব্য বাকি রাখেননি, যা তারা সুরেন্দ্র কুমার সিনহার প্রতি আরোপ করেননি। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী তাকে ‘মানসিক ভারসাম্যহীন’ উল্লেখ করেছেন। অপর দিকে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি বলেছেন, ‘যারা বঙ্গবন্ধুর একক নেতৃত্ব নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন তাদের রক্ত পরীক্ষা করা উচিত। এই স্বাধীনতাবিরোধী চক্র বাংলাদেশে বসবাস করলেও অন্তরে তাদের পাকিস্তান’। যেকোনো ব্যক্তি যখন কোনো না কোনোভাবে আওয়ামী লীগের বিরোধিতা করে অথবা তাদের স্বার্থের প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়ায়, তখন তারা সেই ব্যক্তিকে স্বাধীনতার চেতনাবিরোধী বলে চিহ্নিত করে। এ ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। তবে ভাগ্যবান সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। তিনি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোক। আর তা না হলে ইতোমধ্যে রাজাকার খেতাব পাকাপোক্ত হয়ে যেত। তারা সিনহাকে শান্তি কমিটির লোক বলেও প্রচার করেছে। কিন্তু, নাগরিকসাধারণ যা বোঝার তা-ই বুঝেছেন।
সবচেয়ে মৌলিক আইনগত এবং সাংবিধানিক প্রশ্ন, সরকার পক্ষ কি এটা পারেন? আইন যদি সবার জন্য সমান হয়, হাকিম নড়ে তো হুকুম নড়ে না- এ কথা যদি সত্যি হয়, তাহলে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গ কি এ রকম বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে পারে? এখন একজন ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি রায় ফেরানোর জন্য কি দেনদরবার করতে পারে? সে যদি তা না পারে তাহলে সরকার, সংসদ ও দল কেউই তা সরকারের পদত্যাগ, সংসদ ভেঙে দেয়া, মধ্যবর্তী নির্বাচন-কী হতে যাচ্ছে?
মারাত্মক সাংবিধানিক সঙ্কটে ধাবিত দেশ- এ রকম আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন বিদ্বজ্জনেরা। আশা ছিল, শুভবুদ্ধির উদয় হবে। সঙ্কটের সফল সমাপ্তি ঘটবে। শাসক দলের নরম-গরম বক্তৃতা এবং পর্দার অন্তরালে আপসরফার প্রয়াস দেখে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা ছিল সাংবিধানিক পথেই অগ্রসর হবে উভয়পক্ষ। কিন্তু আকস্মিকভাবেই প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার একটি মন্তব্য সর্বোচ্চ কর্তৃত্বকে বেসামাল করে তোলে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ব্যক্তি ও গণমাধ্যম বিষয়টিকে উসকানিমূলকভাবে পরিবেশন করে। উদাহরণস্বরূপ সস্তায় বিক্রীত একটি দৈনিকে শিরোনামটা ছিল এরকম ‘পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীকে অপসারণের কথা অ্যাটর্নি জেনারেলকে স্মরণ করিয়ে দিলেন এস কে সিনহা’।
অথচ বক্তব্যটি এমন ছিল না। অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম যখন বলেন, চার দিকে ঝড় উঠেছে তখন প্রধান বিচারপতি বলেন, ঝড় তো আপনারাই তুলেছেন। পাকিস্তানে রায়ের পরে তো কোনো ঝড় ওঠেনি। এ বক্তব্যকে বিকৃত করে যখন পরিবেশিত হয়, তখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।
তার বক্তব্যের সারাংশ এ রকম : ক. ‘সব সহ্য করা যায়, কিন্তু পাকিস্তানের সাথে তুলনা করলে এটা আমরা কিছুতেই সহ্য করতে পারব না। পাকিস্তানে রায় দিলো দেখে কেউ ধমক দিবে- জনগণের কাছে এর বিচার চাই, … আজকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সাথে কেন তুলনা করবে? খ. অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করতে দেয়া হবে না। যদি কেউ সে অপচেষ্টা চালায়, তাকে সংবিধানের ৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। গ. সব বিচারপতির স্বাধীন মতামত দেয়া নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী। সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণার রায়ে সব বিচারপতি স্বাধীনভাবে মতামত দিতে পেরেছেন কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সেই সুযোগটা বোধ হয় প্রধান বিচারপতি দেননি’।
প্রধানমন্ত্রী প্রধান বিচারপতির নিয়োগ, জাতীয় সংসদ, অবৈধ ক্ষমতা দখল, নারীর ক্ষমতায়ন ইত্যাদি বিষয়ে বক্তব্য দেন। এসব উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী মন্তব্য করেন, ‘এ কথাগুলো বলার আগে ওই পদ থেকে তার সরে যাওয়া উচিত ছিল’। সংসদের বৈধতা ও অবৈধতা প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নির্বাচনী আইনে আছে, অন্য কোনো প্রার্থী না থাকলে নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়। কোনো দল নির্বাচনে অংশ না নিলে যিনি এভাবে নির্বাচিত হয়ে আসেন সেটা তো তার দোষ না। সে জন্য সংসদের বৈধতা ও অবৈধতার প্রশ্ন আসতে পারে না’।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করলে এটা স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, তিনি প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার ওপর মহা ক্ষিপ্ত হয়েছেন। কয়েক দিন আগে প্রধানমন্ত্রীর ভাষায় নিয়মতান্ত্রিকতার যে খানিকটা সুর ধ্বনিত হচ্ছিল, তার তীব্র বাক্যবাণে তা নস্যাৎ হয়ে গেল। তিনি প্রকারান্তরে প্রধান বিচারপতিকে পদত্যাগের আহ্বান জানিয়েছেন। পরবর্তীকালে তার এই আহ্বানকে কার্যকর করার জন্য যে অপকৌশল আওয়ামী লীগ নিয়েছে, তা যেকোনো আইনকানুন, রীতি-রেওয়াজ, ভদ্রতা-সভ্যতা, শিক্ষা-সংস্কৃতির বিরোধী।
আওয়ামী লীগের নেতা, পাতি নেতা, হাইব্রিড নেতা সবাই তারস্বরে চিৎকার করছেন প্রধান বিচারপতির পদত্যাগ চেয়ে। আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ ২৩ আগস্ট হাইকোর্টের সামনে মানববন্ধন করে প্রধান বিচারপতির পদত্যাগ দাবি করে এবং এ জন্য পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেয়। আওয়ামী লীগের নেতারা এমন কোনো কুৎসিত মন্তব্য বাকি রাখেননি, যা তারা সুরেন্দ্র কুমার সিনহার প্রতি আরোপ করেননি। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী তাকে ‘মানসিক ভারসাম্যহীন’ উল্লেখ করেছেন। অপর দিকে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি বলেছেন, ‘যারা বঙ্গবন্ধুর একক নেতৃত্ব নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন তাদের রক্ত পরীক্ষা করা উচিত। এই স্বাধীনতাবিরোধী চক্র বাংলাদেশে বসবাস করলেও অন্তরে তাদের পাকিস্তান’। যেকোনো ব্যক্তি যখন কোনো না কোনোভাবে আওয়ামী লীগের বিরোধিতা করে অথবা তাদের স্বার্থের প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়ায়, তখন তারা সেই ব্যক্তিকে স্বাধীনতার চেতনাবিরোধী বলে চিহ্নিত করে। এ ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। তবে ভাগ্যবান সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। তিনি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোক। আর তা না হলে ইতোমধ্যে রাজাকার খেতাব পাকাপোক্ত হয়ে যেত। তারা সিনহাকে শান্তি কমিটির লোক বলেও প্রচার করেছে। কিন্তু, নাগরিকসাধারণ যা বোঝার তা-ই বুঝেছেন।
সবচেয়ে মৌলিক আইনগত এবং সাংবিধানিক প্রশ্ন, সরকার পক্ষ কি এটা পারেন? আইন যদি সবার জন্য সমান হয়, হাকিম নড়ে তো হুকুম নড়ে না- এ কথা যদি সত্যি হয়, তাহলে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গ কি এ রকম বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে পারে? এখন একজন ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি রায় ফেরানোর জন্য কি দেনদরবার করতে পারে? সে যদি তা না পারে তাহলে সরকার, সংসদ ও দল কেউই তা পারে না। তাকে অবশ্যই আইনি প্রক্রিয়ায়ই অগ্রসর হতে হবে। স্বাভাবিক ছিল ষোড়শ সপারে না। তাকে অবশ্যই আইনি প্রক্রিয়ায়ই অগ্রসর হতে হবে।
মারাত্মক সাংবিধানিক সঙ্কটে ধাবিত দেশ- এ রকম আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন বিদ্বজ্জনেরা। আশা ছিল, শুভবুদ্ধির উদয় হবে। সঙ্কটের সফল সমাপ্তি ঘটবে। শাসক দলের নরম-গরম বক্তৃতা এবং পর্দার অন্তরালে আপসরফার প্রয়াস দেখে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা ছিল সাংবিধানিক পথেই অগ্রসর হবে উভয়পক্ষ। কিন্তু আকস্মিকভাবেই প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার একটি মন্তব্য সর্বোচ্চ কর্তৃত্বকে বেসামাল করে তোলে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ব্যক্তি ও গণমাধ্যম বিষয়টিকে উসকানিমূলকভাবে পরিবেশন করে। উদাহরণস্বরূপ সস্তায় বিক্রীত একটি দৈনিকে শিরোনামটা ছিল এরকম ‘পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীকে অপসারণের কথা অ্যাটর্নি জেনারেলকে স্মরণ করিয়ে দিলেন এস কে সিনহা’।
অথচ বক্তব্যটি এমন ছিল না। অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম যখন বলেন, চার দিকে ঝড় উঠেছে তখন প্রধান বিচারপতি বলেন, ঝড় তো আপনারাই তুলেছেন। পাকিস্তানে রায়ের পরে তো কোনো ঝড় ওঠেনি। এ বক্তব্যকে বিকৃত করে যখন পরিবেশিত হয়, তখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।
তার বক্তব্যের সারাংশ এ রকম : ক. ‘সব সহ্য করা যায়, কিন্তু পাকিস্তানের সাথে তুলনা করলে এটা আমরা কিছুতেই সহ্য করতে পারব না। পাকিস্তানে রায় দিলো দেখে কেউ ধমক দিবে- জনগণের কাছে এর বিচার চাই, … আজকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সাথে কেন তুলনা করবে? খ. অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করতে দেয়া হবে না। যদি কেউ সে অপচেষ্টা চালায়, তাকে সংবিধানের ৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। গ. সব বিচারপতির স্বাধীন মতামত দেয়া নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী। সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণার রায়ে সব বিচারপতি স্বাধীনভাবে মতামত দিতে পেরেছেন কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সেই সুযোগটা বোধ হয় প্রধান বিচারপতি দেননি’।
প্রধানমন্ত্রী প্রধান বিচারপতির নিয়োগ, জাতীয় সংসদ, অবৈধ ক্ষমতা দখল, নারীর ক্ষমতায়ন ইত্যাদি বিষয়ে বক্তব্য দেন। এসব উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী মন্তব্য করেন, ‘এ কথাগুলো বলার আগে ওই পদ থেকে তার সরে যাওয়া উচিত ছিল’। সংসদের বৈধতা ও অবৈধতা প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নির্বাচনী আইনে আছে, অন্য কোনো প্রার্থী না থাকলে নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়। কোনো দল নির্বাচনে অংশ না নিলে যিনি এভাবে নির্বাচিত হয়ে আসেন সেটা তো তার দোষ না। সে জন্য সংসদের বৈধতা ও অবৈধতার প্রশ্ন আসতে পারে না’।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করলে এটা স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, তিনি প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার ওপর মহা ক্ষিপ্ত হয়েছেন। কয়েক দিন আগে প্রধানমন্ত্রীর ভাষায় নিয়মতান্ত্রিকতার যে খানিকটা সুর ধ্বনিত হচ্ছিল, তার তীব্র বাক্যবাণে তা নস্যাৎ হয়ে গেল। তিনি প্রকারান্তরে প্রধান বিচারপতিকে পদত্যাগের আহ্বান জানিয়েছেন। পরবর্তীকালে তার এই আহ্বানকে কার্যকর করার জন্য যে অপকৌশল আওয়ামী লীগ নিয়েছে, তা যেকোনো আইনকানুন, রীতি-রেওয়াজ, ভদ্রতা-সভ্যতা, শিক্ষা-সংস্কৃতির বিরোধী।
আওয়ামী লীগের নেতা, পাতি নেতা, হাইব্রিড নেতা সবাই তারস্বরে চিৎকার করছেন প্রধান বিচারপতির পদত্যাগ চেয়ে। আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ ২৩ আগস্ট হাইকোর্টের সামনে মানববন্ধন করে প্রধান বিচারপতির পদত্যাগ দাবি করে এবং এ জন্য পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেয়। আওয়ামী লীগের নেতারা এমন কোনো কুৎসিত মন্তব্য বাকি রাখেননি, যা তারা সুরেন্দ্র কুমার সিনহার প্রতি আরোপ করেননি। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী তাকে ‘মানসিক ভারসাম্যহীন’ উল্লেখ করেছেন। অপর দিকে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি বলেছেন, ‘যারা বঙ্গবন্ধুর একক নেতৃত্ব নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন তাদের রক্ত পরীক্ষা করা উচিত। এই স্বাধীনতাবিরোধী চক্র বাংলাদেশে বসবাস করলেও অন্তরে তাদের পাকিস্তান’। যেকোনো ব্যক্তি যখন কোনো না কোনোভাবে আওয়ামী লীগের বিরোধিতা করে অথবা তাদের স্বার্থের প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়ায়, তখন তারা সেই ব্যক্তিকে স্বাধীনতার চেতনাবিরোধী বলে চিহ্নিত করে। এ ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। তবে ভাগ্যবান সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। তিনি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোক। আর তা না হলে ইতোমধ্যে রাজাকার খেতাব পাকাপোক্ত হয়ে যেত। তারা সিনহাকে শান্তি কমিটির লোক বলেও প্রচার করেছে। কিন্তু, নাগরিকসাধারণ যা বোঝার তা-ই বুঝেছেন।
সবচেয়ে মৌলিক আইনগত এবং সাংবিধানিক প্রশ্ন, সরকার পক্ষ কি এটা পারেন? আইন যদি সবার জন্য সমান হয়, হাকিম নড়ে তো হুকুম নড়ে না- এ কথা যদি সত্যি হয়, তাহলে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গ কি এ রকম বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে পারে? এখন একজন ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি রায় ফেরানোর জন্য কি দেনদরবার করতে পারে? সে যদি তা না পারে তাহলে সরকার, সংসদ ও দল কেউই তা সরকারের পদত্যাগ, সংসদ ভেঙে দেয়া, মধ্যবর্তী নির্বাচন-কী হতে যাচ্ছে?
মারাত্মক সাংবিধানিক সঙ্কটে ধাবিত দেশ- এ রকম আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন বিদ্বজ্জনেরা। আশা ছিল, শুভবুদ্ধির উদয় হবে। সঙ্কটের সফল সমাপ্তি ঘটবে। শাসক দলের নরম-গরম বক্তৃতা এবং পর্দার অন্তরালে আপসরফার প্রয়াস দেখে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা ছিল সাংবিধানিক পথেই অগ্রসর হবে উভয়পক্ষ। কিন্তু আকস্মিকভাবেই প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার একটি মন্তব্য সর্বোচ্চ কর্তৃত্বকে বেসামাল করে তোলে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ব্যক্তি ও গণমাধ্যম বিষয়টিকে উসকানিমূলকভাবে পরিবেশন করে। উদাহরণস্বরূপ সস্তায় বিক্রীত একটি দৈনিকে শিরোনামটা ছিল এরকম ‘পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীকে অপসারণের কথা অ্যাটর্নি জেনারেলকে স্মরণ করিয়ে দিলেন এস কে সিনহা’।
অথচ বক্তব্যটি এমন ছিল না। অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম যখন বলেন, চার দিকে ঝড় উঠেছে তখন প্রধান বিচারপতি বলেন, ঝড় তো আপনারাই তুলেছেন। পাকিস্তানে রায়ের পরে তো কোনো ঝড় ওঠেনি। এ বক্তব্যকে বিকৃত করে যখন পরিবেশিত হয়, তখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।
তার বক্তব্যের সারাংশ এ রকম : ক. ‘সব সহ্য করা যায়, কিন্তু পাকিস্তানের সাথে তুলনা করলে এটা আমরা কিছুতেই সহ্য করতে পারব না। পাকিস্তানে রায় দিলো দেখে কেউ ধমক দিবে- জনগণের কাছে এর বিচার চাই, … আজকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সাথে কেন তুলনা করবে? খ. অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করতে দেয়া হবে না। যদি কেউ সে অপচেষ্টা চালায়, তাকে সংবিধানের ৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। গ. সব বিচারপতির স্বাধীন মতামত দেয়া নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী। সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণার রায়ে সব বিচারপতি স্বাধীনভাবে মতামত দিতে পেরেছেন কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সেই সুযোগটা বোধ হয় প্রধান বিচারপতি দেননি’।
প্রধানমন্ত্রী প্রধান বিচারপতির নিয়োগ, জাতীয় সংসদ, অবৈধ ক্ষমতা দখল, নারীর ক্ষমতায়ন ইত্যাদি বিষয়ে বক্তব্য দেন। এসব উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী মন্তব্য করেন, ‘এ কথাগুলো বলার আগে ওই পদ থেকে তার সরে যাওয়া উচিত ছিল’। সংসদের বৈধতা ও অবৈধতা প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নির্বাচনী আইনে আছে, অন্য কোনো প্রার্থী না থাকলে নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়। কোনো দল নির্বাচনে অংশ না নিলে যিনি এভাবে নির্বাচিত হয়ে আসেন সেটা তো তার দোষ না। সে জন্য সংসদের বৈধতা ও অবৈধতার প্রশ্ন আসতে পারে না’।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করলে এটা স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, তিনি প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার ওপর মহা ক্ষিপ্ত হয়েছেন। কয়েক দিন আগে প্রধানমন্ত্রীর ভাষায় নিয়মতান্ত্রিকতার যে খানিকটা সুর ধ্বনিত হচ্ছিল, তার তীব্র বাক্যবাণে তা নস্যাৎ হয়ে গেল। তিনি প্রকারান্তরে প্রধান বিচারপতিকে পদত্যাগের আহ্বান জানিয়েছেন। পরবর্তীকালে তার এই আহ্বানকে কার্যকর করার জন্য যে অপকৌশল আওয়ামী লীগ নিয়েছে, তা যেকোনো আইনকানুন, রীতি-রেওয়াজ, ভদ্রতা-সভ্যতা, শিক্ষা-সংস্কৃতির বিরোধী।
আওয়ামী লীগের নেতা, পাতি নেতা, হাইব্রিড নেতা সবাই তারস্বরে চিৎকার করছেন প্রধান বিচারপতির পদত্যাগ চেয়ে। আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ ২৩ আগস্ট হাইকোর্টের সামনে মানববন্ধন করে প্রধান বিচারপতির পদত্যাগ দাবি করে এবং এ জন্য পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেয়। আওয়ামী লীগের নেতারা এমন কোনো কুৎসিত মন্তব্য বাকি রাখেননি, যা তারা সুরেন্দ্র কুমার সিনহার প্রতি আরোপ করেননি। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী তাকে ‘মানসিক ভারসাম্যহীন’ উল্লেখ করেছেন। অপর দিকে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি বলেছেন, ‘যারা বঙ্গবন্ধুর একক নেতৃত্ব নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন তাদের রক্ত পরীক্ষা করা উচিত। এই স্বাধীনতাবিরোধী চক্র বাংলাদেশে বসবাস করলেও অন্তরে তাদের পাকিস্তান’। যেকোনো ব্যক্তি যখন কোনো না কোনোভাবে আওয়ামী লীগের বিরোধিতা করে অথবা তাদের স্বার্থের প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়ায়, তখন তারা সেই ব্যক্তিকে স্বাধীনতার চেতনাবিরোধী বলে চিহ্নিত করে। এ ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। তবে ভাগ্যবান সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। তিনি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোক। আর তা না হলে ইতোমধ্যে রাজাকার খেতাব পাকাপোক্ত হয়ে যেত। তারা সিনহাকে শান্তি কমিটির লোক বলেও প্রচার করেছে। কিন্তু, নাগরিকসাধারণ যা বোঝার তা-ই বুঝেছেন।
সবচেয়ে মৌলিক আইনগত এবং সাংবিধানিক প্রশ্ন, সরকার পক্ষ কি এটা পারেন? আইন যদি সবার জন্য সমান হয়, হাকিম নড়ে তো হুকুম নড়ে না- এ কথা যদি সত্যি হয়, তাহলে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গ কি এ রকম বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে পারে? এখন একজন ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি রায় ফেরানোর জন্য কি দেনদরবার করতে পারে? সে যদি তা না পারে তাহলে সরকার, সংসদ ও দল কেউই তা পারে না। তাকে অবশ্যই আইনি প্রক্রিয়ায়ই অগ্রসর হতে হবে। স্বাভাবিক ছিল ষোড়শ সপারে না। তাকে অবশ্যই আইনি প্রক্রিয়ায়ই অগ্রসর হতে হবে।



