মহাকুম্ভে ভক্ত দেখেছেন ভগবান, শুয়োর দেখেছে আবর্জনা আর শকুন দেখেছে লাশ -যোগী আদিত্য নাথ

মহাকুম্ভে ভক্ত দেখেছেন ভগবান, শুয়োর দেখেছে আবর্জনা আর শকুন দেখেছে লাশ -যোগী আদিত্য নাথ
অনেক হিন্দু বাঙালিদের কাছে ধর্ম হলো সাংসারিক আয় উন্নতির একটি সোপান মাত্র। অনেকে আবার ধর্মকে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার অবলম্বন মনে করেন। বিশ্বাস আচার ও অনুষ্ঠান এই ৩টির একটিকে বাদ দিলে ধর্ম রক্ষা হয়না। মহাকুম্ভকে নিয়ে অনেক হিন্দু অনেক কটুকথা এবং বিদ্রোপ করেছেন। ব্রহ্ম জ্ঞানীদের কাছে ঈশ্বর নিরাকার আর ভক্তের কাছে তিনি সাকার।
মহাকুম্ভে এপর্যন্ত প্রায় ৬৭+ কোটি ভক্ত স্নান করেছেন।
আজ শেষ দিন। সব মিলিয়ে ভক্তের সংখ্যা ৭০কোটির উপর হবে বলে অনেকের ধারনা। প্রায় একমাস ব্যাপী আধ্যাত্মিক এই ঐশ্বরিক মেলায় যারা গিয়েছেন তারা প্রত্যেকেই বিশ্বাস থেকে গিয়েছেন এবং আচার অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন।
ধর্মকে যারা রাজনৈতিক হাতিয়ার মনে করেন তাদের মধ্যে পঃবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি অন্যতম। মহাকুম্ভকে তিনি মৃত্যুকুম্ভ হিসাবে কটাক্ষ করে এই মেলাকে মৃত্যুকূপ হিসাবে অভিহিত করেছেন। এছাড়া ১৪৪ বছর পর কেন? মহাকুম্ভ অনুষ্ঠিত হবে ১২ বছর অন্তর নয় কেন? এই নিয়েও তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।
অর্থাৎ মহাকুম্ভের ঐশ্বরিক ঐতিহ্যকে ছোট করাই তার লক্ষ। মহাকুম্ভ উপলক্ষে ভারত সহ সারা পৃথিবীর হিন্দুদের মধ্যে যে জাগরনের সৃষ্টি হয়েছে তাতে মমতা ব্যানার্জিরা ভয় পেয়ে গিয়েছেন। তাই তিনি/তারা মহাকুম্ভকে কালিমালিপ্ত করার জন্য মহাকুম্ভকে মৃত্যুকুম্ভ এবং মৃত্যুকূপ হিসাবে অভিহিত করেছেন। তাতে মমতা ব্যানার্জির ভোট ব্যাংক অটুট থাকবে।
ইদানিং তিনি নিজেকে একজন ব্রাহ্মণ সন্তান হিসাবে বলে বেড়াচ্ছেন। যারা প্রকৃত হিন্দু তাদের হিন্দুত্বের পরিচয় দিতে হয়না। কিন্তু তিনি দিচ্ছেন। কারণ অনেকেই এখন আর তাকে হিন্দু মনে করেননা।
কুম্ভমেলা প্রতি ১২বছর অন্তর প্রয়াগরাজ/হরিদ্বার/উজ্জয়িনী এবং নাসিক এই ৪ জায়গায় অনুষ্ঠিত হয়। বৎসরের এই ব্যবধানটি জ্যোতিষশাস্ত্রীয় ও পৌরানিক বিশ্বাসের গভীরে প্রোথিত।
মহাকুম্ভ ১২ বছর পরপর কেন অনুষ্ঠিত হয় তার সাথে বৃহস্পতির কক্ষপথের সাথে সম্পর্কিত যা সূর্যের চারপাশে একবার ঘুরে আসতে ১২বছর সময় লাগে। জ্যোতির্বিজ্ঞানের এই ঘটনাটি স্বর্গীয় উৎসবের পর্যায়ক্রমিকতাকে সমর্থন করে। যা প্রতিটি কুম্ভকে একটি বিরল এবং আধ্যাত্মিক ভাবে তাৎপর্য করে তুলেছে।
মহাকুম্ভের সময়কাল নক্ষত্র মন্ডলের বিন্যাস দ্বারা নির্ধারিত হয়। বৃহস্পতি কুম্ভ রাশিতে প্রবেশ করলে এবং সূর্য মেশ রাশিতে প্রবেশ করলে এটি অনুষ্ঠিত হয়। গ্রহের এই অনন্য বিন্যাস প্রতি ১২ বছরে একবার ঘটে।যা আধ্যাত্মিক দৃষ্টিকোন থেকে একটি শুভ সময়।
হিন্দুরা বিশ্বাস করে এই সময়কালে কুম্ভস্থলের পবিত্র নদীগুলো ঐশ্বরিক অমৃত দ্বারা ভরে উঠে। সেই সময় পুন্যস্নানে যারা অংশ নেয় তারা আধ্যাত্মিক পবিত্রতা লাভ করেন এবং মুক্তিলাভ করেন।
মহাকুম্ভের উৎপত্তি সমুদ্র মন্থন থেকে। দেবতা আর অসুরগন অমৃত পাওয়ার জন্য সমুদ্র মন্থন করেছিলেন। মন্থনে উদ্বৃত্ত অমৃত অসুরদের হস্তগত হলে দেবতারা ছল করে অমৃতের কলস নিয়ে যাওয়ার সময় কলস থেকে কয়েক ফোটা অমৃত ৪জায়গায় পড়েছিল।পরবর্তীতে এই পবিত্র ৪ জায়গায় এই ঐশ্বরিক ঘটনার স্মরনে মহাকুম্ভ উদযাপন হয়ে থাকে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Kishori
সংবাদ প্রতিনিধি

Kishori

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।