মসজিদ ভেঙ্গে টয়লেট আবার মসজিদে বিস্ফোরনে নিহতদের জন্য শোক চীনের

মসজিদ ভেঙ্গে টয়লেট আবার মসজিদে বিস্ফোরনে নিহতদের জন্য শোক চীনের

যে দেশে মুসলিমদের মসজিদ ভেঙ্গে বানানো হচ্ছে টয়লেট, মদের দোকান, ধর্মীয় রীতি পালনের উপর নিষেধাজ্ঞা। মুসলিম নারীদের জোরপূর্বক গর্ভপাতসহ সদ্যোজাত শিশুকে হত্যার মত কর্মকাণ্ডে লিপ্ত, সেই দেশই বাংলাদেশের মসজিদে বিস্ফোরণে নিহতদের স্মরণ করে গভীর শোক প্রকাশ করেছে। বাহ্‌ কি দারুন সমবেদনার পিছনে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের কৌশল দেখিয়েছে চীন।

শুক্রবার (০৪ সেপ্টেম্বর) রাতে নারায়ণগঞ্জ ফতুল্লার পশ্চিম তল্লা এলাকার মসজিদে এসি বিস্ফোরণে নিহতদের স্মরণ করে গভীর শোক প্রকাশ করেছে ঢাকার চীনা দূতাবাস। শনিবার (০৫ সেপ্টেম্বর) দূতাবাসের এক বার্তায় শোক প্রকাশ করা হয়।

শোক বার্তায় উল্লেখ করা হয়, বায়তুস সালাত জামে মসজিদে ভয়াবহ বিস্ফোরণ সম্পর্কে জেনে আমরা গভীরভাবে মর্মাহত হয়েছি। প্রার্থনায় সমবেত ধর্মপ্রাণ মুসলিম ভাইদের মৃত্যুতে আমরা গভীর শোক প্রকাশ করছি। যারা আহত অবস্থায় আছেন, সবার দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি। একইসঙ্গে বাংলাদেশের চীনা দূতাবাস শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনাও জানিয়েছে।

পৃথিবীর অন্যতম ধর্মীয় নিপীড়ক দেশ হিসেবে খ্যাত চীন। মুসলিমদের মসজিদ ভেঙ্গে বানানো হচ্ছে টয়লেট, মদের দোকান। মুসলিম নারীদের জোরপূর্বক গর্ভপাত ঘটানো হচ্ছে। সেইসঙ্গে সদ্যজাত শিশুকেও মেরে ফেলা হচ্ছে।

চীনের শিনঝিয়াং প্রদেশে প্রায় এক কোটি মুসলমানের বাস৷ সেখানকার শুইমগু জেলার শিক্ষা বিভাগের ওয়েবসাইটসহ কয়েকটি সরকারি অফিসের ওয়েবসাইটে রোজা রাখা ও ধর্মীয় রীতি পালনের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে৷ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষার্থী ও শিশুরা রোজা রাখতে পারবেন না এবং কোনো ধর্মীয় রীতি পালন করতে পারবেন না৷” এছাড়া রোজার মাসে খাবার ও পানীয়ের দোকানও বন্ধ রাখা যাবে না বলে জানানো হয়েছে৷ রোজার মাসে স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মসজিদে যেতে নিষেধ করা হয়েছে৷

জানা যায়, শিনঝিয়াং রাজ্যের মুসলমানরা উইগুর সম্প্রদায়ের৷ উইঘুরে ১০ লাখ মুসলমানকে বিশেষ কারাগারে বন্দি রেখে নির্যাতন এবং ধর্মান্তরিত করা হয়েছে।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা না থাকায় এসব নিপীড়নের গোঙানির শব্দ বিশ্ববাসী খুব একটা জানতে পারে না।

চীনের দাবি বিচ্ছিন্নতাবাদ, সন্ত্রাসবাদ ও ধর্মীয় চরমপন্থার মোকাবিলা করার জন্যই তারা নাকি নানান পলিসি নিতে বাধ্য হচ্ছে। কিন্তু দাড়ি রাখা, রমজান মাসে রোজা রাখা কীভাবে ধর্মীয় চরমপন্থা, তা বিশ্ববাসীকে তারা বোঝাতে পারে না। আসলে ধর্মীয় অনুষ্ঠান তাদের মতে চরমপন্থা। আর এই চরমপন্থা দমনের নামে নির্বিচারে গ্রেফতার, জেল-জরিমানা চলছে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Kishori
লেখক / প্রতিবেদক

Kishori

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।