পুরো ভারত নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন নিয়ে উত্তপ্ত। নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের জেরে বিতর্কিত অবস্থা সামাল দিতে শান্তি সমাবেশ করে বিজেপি। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিজেপির উত্তর পূর্ব ভারতের প্রধান নেতা হিমন্ত বিশ্বশর্মা বলেন ভারতে মুসলিম সুরক্ষিত, আপনিও বাংলাদেশের হিন্দুদের নিরাপত্তা দিন।
যদিও নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন আগেই জানিয়েছেন, সংখ্যালঘুরা নিরাপদ বাংলাদেশে।
হিমন্ত বিশ্বশর্মা বলেন, কোনোভাবেই যেন বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর নির্যাতন না হয় সেদিকে সেই দেশের সরকারকে বিশেষ লক্ষ্য রাখতে হবে।
সিএএ আইনে বলা হয়েছে, প্রতিবেশী মুসলিম বহুল দেশ যথা পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান থেকে আসা অমুসলিমরা ভারতের নাগরিকত্ব পাবেন।অসম সহ অন্যান্য উত্তর পূর্বের রাজ্য-তে বিক্ষোভকারীদের দাবি, এই আইনের বলে বাংলাদেশ থেকে বহু সংখ্যালঘু হিন্দু ঢুকবেন। তাতে উত্তর পূর্বের স্থানীয় জনগোষ্ঠীর উপর প্রবল চাপ পড়বে।
ফলে সিএএ বিরোধিতায় রক্তাক্ত আন্দোলনের জেরে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার বিব্রত। অসমের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোওয়াল সহ বিভিন্ন নেতারা ঘেরাও হয়েছেন কয়েকবার।দেশের বাকি অংশে আইনটির প্রতিবাদে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি হয়। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ ও উত্তরপ্রদেশ। অভিযোগ, এই আইনের বলে সংবিধানের ধর্ম নিরপেক্ষতাকে পাশ কাটিয়ে বিশেষ ধর্মের বাসিন্দাদের উপর আঘাত করা হচ্ছে।
এমনই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের দাবি করেন, খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি সরকারের আমলে হিন্দুরা নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন।তীব্র প্রতিক্রিয়ায় বিরোধী বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ভারতের বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের প্রতি সমর্থন করছে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার।
বিতর্কের এই আবহে অসমের অর্থমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার ভাষণে বাংলাদেশি হিন্দুদের প্রসঙ্গ উঠে আসল। তিনি বলেন, অসমে ১৯৭২ সাল থেকে অনুপ্রবেশকারী ও শরণার্থীরা ভিড় করছেন। ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে অনুপ্রবেশ হয়নি। উল্লেখ্য হিমন্ত বিশ্বশর্মার নেতৃত্বেই বিজেপি উত্তর পূর্ব ভারতে বিভিন্ন দলের সঙ্গে জোট করে নেডা পরিচালনা করছে। নর্থ ইস্ট ডেমোক্রেটিক এলায়েন্সের আহ্বায়ক করা হয়েছে হিমন্ত বিশ্বশর্মাকে।





