মধুখালী প্রতিনিধিঃ ফরিদপুর জেলার মধুখালী উপজেলার কামারখালী ইউনিয়নের সালামতপুর বর্তমান রউফনগর গ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ পরিবারের পারিবারিক উদ্দ্যোগে ২০শে এপ্রিল-২০২১ ইং রোজ মঙ্গলবার সালামতপুর (বর্তমান রউফনগর) গ্রামে বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ল্যান্স নায়েক মুন্সী আঃ রউফ এর ৫০তম শাহাদত বার্ষিকী অনুষ্ঠান পালিত হয়েছে।
অনুষ্ঠান শুরুতে সকাল ৭ টায় বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ল্যান্স নায়েক মুন্সী আঃ রউফ এর সহ সকল বীরশ্রেষ্ঠ শহীদদের স্বরণে বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ল্যান্স নায়েক মুন্সী আঃ রউফ স্মৃতি জাদুঘর ও গ্রন্থগার চত্বরে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। পতাকা উত্তোলন করেন বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ল্যান্স নায়েক মুন্সী আঃ রউফ এর বড়বোন জোহরা বেগম, মুন্সী সাইদুর রহমান সহ স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। পরে দুপুর ১২টায় মধুখালী উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মোস্তফা মনোয়ার, মধুখালী উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ মুরাদুজ্জামান (মুরাদ), কামারখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ জাহিদুর রহমান বিশ্বাস (বাবু) সহ স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ সকল বীরশ্রেষ্ঠ শহীদদের স্বরণে বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ল্যান্স নায়েক মুন্সী আঃ রউফ এর প্রকৃতিতে ফুলের ডালা দিয়ে শুভেচ্ছা জানান ।
পরে কোরআন তেলওয়াত ও দোয়া দরুদ পাঠ শেষে মোনাজাত করা হয়। দোয়া ও মোনাজাত করেন কামারখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ জাহিদুর রহমান বিশ্বাস (বাবু)। এ ছাড়া মাগরিব নামাজ বাদ গ্রামের মসজিদে দোয়ার মাহফিল আয়োজন করা হয়। দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করবেন মসজিদের পেশ ইমাম মোঃ হাবিবুর রহমান পরে তোবারক বিতরন করে অনুষ্ঠান শেষ করা হবে। জানা যায় বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ল্যান্স নায়েক মুন্সী আব্দুর রউফ ১৯৪৩ মে মাসে ফরিদপুর জেলার মধুখালী উপজেলার সালামতপুর(বর্তমান রউফনগর) গ্রামে জন্ম গ্রহন করেন। তার পিতার নাম মেহেদী হোসেন এবং মাতার নাম মকিদুন নেছা। তিনি ১৯৬৩ সালে ৮ই মে তৎকালীন ইপিআর(আজকের বিজিবি)এ যোগ দেন। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি অষ্টম ইষ্ঠবেঙ্গল রেজিমেন্টের সঙ্গে যুক্ত হন এবং মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন করেন।
১৯৭১ সালে ৮ই এপ্রিল রাঙ্গামাটি মহালছড়ি নৌপথে বুড়িঘাট এলাকায় পাকিস্তানী বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষকালে শত্রæর প্রবল গোলাবর্ষনের মুখে মুন্সী আব্দুর রউফ নিজের মেশিন গান দিয়ে গোলাবর্ষন করেন ফলে ২ প্লাটন শত্রæ সৈন্য ধবংস হয়। শত্রæর প্রবল গোলাবর্ষনের মুখেও শহীদ ল্যান্স নায়েক মুন্সী আব্দুর রউফ তার মেশিন গান নিয়ে নিজস্ব অবস্থানে স্থির ছিলেন কিন্ত ু হটাৎ করে বিপক্ষ মর্টারের গোলা তার অবস্থানে আঘাত করলে তিনি শাহাদত বরণ করেন। মুক্তিযুদ্ধে বীরোচিত ভ‚মিকা আতœত্যাগের স্বকৃতিস্বরুপ তাকে সর্বোচ্চ রাস্টীয় সম্মাননা বীরশ্রেষ্ঠ খেতাবে ভ‚ষিত করা হয়।



