আজ ২০ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব সামাজিক ন্যায়বিচার দিবস। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে- ‘সামাজিক ন্যায়বিচার অর্জনের জন্য বৈষম্যমূলক গ্যাপ বন্ধ করা’। ২০০৭ সালের ২৬ নভেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ঘোষণা করা হয় যে, ২০ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব সামাজিক ন্যায়বিচার দিবস হিসেবে পালিত হবে। এরপর ২০০৯ সালে দিবসটি প্রথমবার পালিত হয়।
এ দিবস পালনের ধারণা আসে ১৯৯৫ সালে ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে সামাজিক উন্নয়নের ওপর অনুষ্ঠিত শীর্ষ সম্মেলনে গৃহীত কোপেনহেগেন ঘোষণাপত্র এবং কর্মপরিকল্পনাটি যখন ২০০৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলো সামাজিক উন্নয়ন কমিশনের বৈঠকে পর্যালোচনা করে।
এই সংস্থাটি মনে করে, যেকোন দেশের সমৃদ্ধির জন্য সেই দেশের মধ্যে শান্তি বজায় থাকাটা অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি সেই দেশের সঙ্গে অন্যান্য দেশের সম্পর্কও হতে হবে শান্তিপূর্ণ। আর শান্তি বজায় থাকলেই একটি দেশ সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যাবে। অন্যদিকে জাতি, ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ, বয়স বা সাংস্কৃতিক বৈষম্যের কারণে দেখা যায় যেকোনো দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী সবসময় পেছনেই পড়ে থাকে। এজন্য একটি সমাজ, দেশ বা রাষ্ট্রে সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা লাভ করা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করে জাতিসংঘ।
সামাজিক ন্যায়বিচারের জন্য বিশ্বায়নের ইতিবাচক দিকগুলোর সঙ্গে সঙ্গে বিপজ্জনক দিকগুলোর ওপরে দৃষ্টি ফেলার বিষয়টিকেও আবশ্যক মনে করে জাতিসংঘ।
এছাড়াও বর্তমান রাষ্ট্রগুলো রাষ্ট্রের সকল জনগণের প্রাপ্য সঠিকভাবে নিশ্চিত করতে পারছে না। অথচ রাষ্ট্রের সকল জনগণের কর্মসংস্থান থেকে শুরু করে সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও সব ধরণের মৌলিক অধিকার প্রদান করা একটি রাষ্ট্রের আবশ্য দায়িত্ব ও কর্তব্য। আর এই ভাবনা থেকেই জাতিসংঘ ২০০৭ সাল থেকে ২০ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব সামাজিক ন্যায়বিচার দিবস পালন করে আসছে।



