বিনোদপুর ইউপি উন্নয়নের রোল মডেল

সৈকত দত্ত, শরীয়তপুর থেকেঃ শরীয়তপুর সদর উপজেলার উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে বিনোদপুর ইউনিয়নের বিশেষ সুনাম রয়েছে। পরিষদের চেয়ারম্যানও হাতেগনা কয়েকজন ধনীর তালিকায় রয়েছেন। নিজের এলাকায় বিশাল অট্রালিকা তৈরী করেছেন আর ঢাকা থেকে হেলিকপ্টার নিয়ে বাড়ির ছাদে অবস্থান করেন। তাই এলাকার জনগনের চলাচলের রাস্তায় তাকে পা ফেলতে হয়না এবং রাস্তার উন্নয়নও হয় না কয়েক বছর।

শরীয়তপুর সদর উপজেলার কয়েকটি বন্দর ও বাজারের নাম বলতে গেলে গয়াতলা বাজারের নাম বলতে হয়। সেই বাজারের সাথে আঙ্গারিয়া বন্দরের যোগাযোগ বন্ধ প্রায় ৫ বছর। ইউনিয়নে একমাত্র কলেজ বিএম আইডিয়াল কলেজ। কলেজের সাথেও সড়ক পথের কোন যোগাযোগ নাই ৩ বছর অতিবাহিত হতে চলেছে। এমনি ভাবেই ভোগান্তির শিকাড় হচ্ছে বিনোদপুর ইউনিয়নবাসী। ইউনিয়ন বাসী তাদের এমপি’র দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন যেন একবারের জন্য হলেও সাধারণ জনগণের কাতারে এসে গয়াতলা থেকে বিএম আইডিয়াল কলেজে ও গয়াতলা থেকে আঙ্গারিয়া বন্দরে জনসাধারনের সাথে দেখে যান রাস্তাটির বর্তমান অবস্থা।

বিনোদপুর ইউনিয়নবাসীর আবেদনের প্রেক্ষিতে সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, আঙ্গারিয়া বন্দর হয়ে গয়াতলা বাজারের দূরত্ব ৫ কিলোমিটার। তবে কোন জরুরী প্রয়োজন হলে ১৮ কিলোমিটার ঘুরে রাজগঞ্জ-আড়িগাঁও হয়ে ৫ গুন সময় নিয়ে যাতায়াত করতে হয়। গয়াতলা থেকে বিএম আউডিয়াল কলেজের দূরত্ব ৩ কিলোমিটার তা ১০ কিলোমিটার ঘুরে চন্দ্রপুর ও মাহমুদ ইউনিয়ন হয়ে যাতায়াত করতে হয়। এ ভাবেই সাধারণ মানুষ সুবিধা পাচ্ছে বিলাশ বহুল বাড়ির মালিক ও শিল্পপতি চেয়ারম্যানের কাছ থেকে। এলাকাবাসীর অনিচ্ছা থাকলেও দুঃখের সাথে বলে চেয়ারম্যান হেলিকপ্টার নিয়ে আসেন তারতো রাস্তা রালে না। গাড়ি নিয়ে আসার জন্য যতটুকু রাস্তা লাগে তাতো ঠিক করেছে।

রাস্তা জনমানবহীন থাকায় অনেক অপেক্ষা করতে হয় পথচারীর জন্য, এর মধ্যে এক ছাত্র সাইকেল চালিয়ে আসে। তখন তার সাথে আলাপ কালে জানায় বিনোদপুরে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে কথা বলা কঠিন। তবুও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভাবে জানায়, আমাদের মতো নিন্মবিত্ত ঘরের ছাত্রদের পড়াশুনা আর হবে না। এ রাস্তায় প্রায় ৩ বছর যাবৎ একটা ভ্যান গাড়িও চলে না। তাই বিদ্যালয়ে যাতায়াতে খুব কষ্ট হয়। সংসারের কাজ করে বিদ্যালয়ে যেতে হয় তাই ঠিক সময়ে বিদ্যালয়ে যেতে পারি না।

এর মধ্যে দেখা হয় চেয়ারম্যান আঃ হামিদ সাকিদারের প্রতিবেশী আবু আলেম মুন্সী ও হোসেন মুন্সীর স্ত্রী কন্যা সহ অনেক মহিলারা রাস্তায় পাট লইছে। তখন তারা যানায়, এ রাস্তায় এখন মানুষ চলাচল করে না। গরু-ছাগল চড়ানো আর পাট লওয়ার কাজে রাস্তা ব্যবহার করি। শুনেছি রাস্তার মেরামত করা হবে তবে তিন বছরে মেরামত করতে দেখছি না।

মাহমুদপুর বাজারে ব্যবসায়ী মামুন জানায়, এ রাস্তা দিয়ে প্রায় ১৫টি গ্রামের মানুষসহ বিভিন্ন স্কুল কলেজের শিক্ষার্থী যাতায়াত করতো। এখন কোন মানুষকে শাস্তি দিলেও ওই রাস্তায় যায় না। শনিবার বিএম মোজাম্মেল হক-এমপি মাহমুদপুর আসে। আসার সময় চন্দ্রপুর হয়ে আসে আর গিয়েছেও চন্দ্রপুর ঘুরে অথচ এ রাস্তা দিয়ে গেলে যাতায়াতে ১৫ কিলোমিটার রাস্তা সাশ্রয় হতো।

রাস্তা মেরামত না করে মানুষের ভোগান্তি বাড়ানোর কারণ জানতে চেয়ারম্যান আঃ হামিদ সাকিদারকে তার মোবাইল ফোনে কল করা হয়। এসময় কয়েকবার মোবাইল ফোনে রিং বাজলেও তিনি কল ধরেননি।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
admin
লেখক / প্রতিবেদক

admin

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।