বানরসেনার চেষ্টায় পাঁচ দিনে নির্মিত হয়েছিল ৩০ কিলোমিটার রামসেতু

অভিজিৎ পান্ডে, দি নিউজ ডেস্কঃ লক্ষ লক্ষ বানরসেনার অক্লান্ত পরিশ্রমে পাঁচ দিনে নির্মিত হয়েছিল ৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ সুবিশাল রামসেতু। রামেশ্বরম দ্বীপ থেকে শ্রীলঙ্কার তালাই মানার পর্যন্ত যার অস্তিত্ব এখনো বিদ্যমান।

বাল্মিকী রচিত রামায়ণ অনুসারে রামের জন্ম হয়েছিল প্রায় ৮ লক্ষ ৮০ হাজার বছর আগে। মহাগ্রন্থের ঘটনাবলি অনুযায়ী, সীতা উদ্ধারের জন্য সাগর পার হতে হয় রামকে। মাত্র পাঁচ দিনের কঠোর পরিশ্রমে, ভারত ও তৎকালীন লঙ্কাকে (শ্রীলঙ্কা) পাথরের সেতু দিয়ে জুড়েছিল বানরসেনা।

তামিলনাড়ুর রামেশ্বরম থেকে শ্রীলঙ্কার মান্নার দ্বীপ পর্যন্ত সেই পাথরের সেতুর অস্তিত্ব পাওয়া যায় এখনো। এই অঞ্চলের সমুদ্র জাহাজ যাওয়ার জন্য বেশ অগভীর। তাই এখানে ড্রেজিং করার প্রস্তাব ওঠে। কিন্তু ভারতের  হিন্দুত্ববাদীদের চাপে তা বন্ধ হয়ে যায়। এরপরে, ‘সেতুসমুদ্রম’ নামে একটি প্রকল্পের আওতায় আনা হয় এই অঞ্চলটি।

২০০৩ সালে, এক দল বৈজ্ঞানিক প্রমাণ করেন যে, রামেশ্বরমের সেতুটি রামায়ণের যুগেরই। ‘কার্বন ডেটিং’-এই তা প্রমাণিত হয়। কিন্তু, সেতুটি যে রামচন্দ্রই বানিয়েছিলেন তা প্রমাণসাপেক্ষ। আইসিএইচআর (ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ হিস্টোরিক্যাল রিসার্চ) ‘সেতুসমুদ্রম’ প্রকল্পের দ্বারা এখন সেই প্রচেষ্টাই করা হবে।

সম্প্রতি বিশ্ববিখ্যাত মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান নাসা(NASA) তাদের নিজস্ব কৃত্রিম উপগ্রহের (স্যাটেলাইট) সাহায্যে রামায়ণে উল্লেখিত সুনির্দিষ্ট সেই স্থানেই রাম সেতু চিহ্নিত করেছে। নাসা জানিয়েছে, সেতুটি ৩০ কি.মি. দীর্ঘ যা বর্তমান ভারতের তামিলনাড়ু প্রদেশের রামেশ্বরম দ্বীপ থেকে শ্রীলঙ্কার তালাই মানার পর্যন্ত বিস্তৃত। এছাড়া ‘Google earth’ এর সাহয্যেও ইন্টারনেটে রাম সেতুর পাথরগুলোর সুস্পষ্ট ছবি ,ভিডিও চিত্র প্রদর্শিত হচ্ছে যা নিঃসন্দেহে শ্রীরামচন্দ্র ও রামসেতুর অস্তিত্বকে স্বীকার করে।

শ্রীলঙ্কার ট্যুরিজম কর্তৃপক্ষ শ্রীলঙ্কার বিভিন্ন স্থানে গবেষণা চালিয়ে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, বাস্তবেই শ্রীরাম শ্রীলঙ্কায় এসেছিলেন এবং শ্রীলঙ্কাই রাময়নের লঙ্কা। এই বিশাল সেতুটি রামভক্ত নলের সুতত্ত্বাবধানে মাত্র ৫ দিনেই নির্মিত হয়েছিল।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Ovi Pandey
লেখক / প্রতিবেদক

Ovi Pandey

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।