বছর না যেতেই সড়ক দেবে কার্পেটিং উঠে চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়েছে

এস.এম মফিদুল ইসলাম, পাটকেলঘাটা (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা-খুলনা আঞ্চলিক মহাসড়কে সংস্কার কাজে নিন্মমানের সামগ্রী ব্যবহার করায় বছর না যেতেই বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং উঠে বড় বড় গর্ত এবং সাতক্ষীরা বিজিবি হেডকোয়ার্টারের সামনে প্রায় আধা কিলোমিটার দেবে যাওয়ায় যানবাহন চলাচলে বিঘœতা সৃষ্টির পাশাপাশি জনভোগান্তি চরমে পৌছেছে। এতে করে সাতক্ষীরা জেলার সাথে সব ধরনের যানবাহন যোগাযোগ বিছিন্ন হওয়ার আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেছে জেলাবাসী।

জানা গেছে, গত ২০১৪-১৫ অর্থ বছরে  সাতক্ষীরা-খুলনা ৪৬তম আঞ্চলিক মহাসড়কের মির্জাপুর টু তেতুলিয়া ইউপি অফিস পর্যন্ত ৫ কিঃমিঃ বাদে সাতক্ষীরা হাসপাতাল মোড় হতে ১৮ মাইল মোড় পর্যন্ত ২০ কিঃমিঃ সড়ক সংস্কারে প্রিয়োডিক মেইটেইন্যান্স প্রোগ্রামের আওতায় দরপত্রের মাধ্যমে ঢাকার সেগুনবাগিচার ডেইনকো কোং লিঃ নামের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ১৮ কোটি ৫০ লাখ টাকার চুক্তিতে কাজটি পায়। ২০১৫ সালের ৪ জুনের মধ্যে সড়ক সংস্কার কাজ সম্পন্ন করার শর্তে ১৯ জানুয়ারি কার্যাদেশ দেয়া হয়। কিন্তু যথাসময়ে কাজ শুরু না করে ২ মাস পর ভরা বর্ষা মৌসুমে কাজ শুরু করায় দীর্ঘদিন সড়কে যানবাহন চলাচলে বিঘœতা ও কাঁদা পানিতে জনসাধারণ চরম ভোগান্তির শিকার হন।

সংস্কার কার্যাদেশ অনুযায়ী ৬ স্তরে কাজ শেষ করার নিয়ম থাকলেও তা না মেনে যেনতেন ভাবে কাজটি শেষ করা হয়। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের প্রকল্প ব্যবস্থাপক রাজন রাম মানি সাতক্ষীরা সওজ কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে প্রথম ও দ্বিতীয় স্তরে বালুর পরিবর্তে শুধু মাটি ব্যবহার করে। তৃতীয় ও চতুর্থ স্তরে খোয়ার সাথে সরাসরি বালু না দিয়ে বালুযুক্ত দো-আঁশ মাটি ব্যবহার করে। পঞ্চম স্তরে কার্পেটিংয়ে অনিয়ম করার খবর শুনে স্থানীয় সংবাদকর্মীরা ঐ বছরের ৩ আগষ্ট সচিত্র প্রতিবেদন  প্রস্তুতকালে তৎকালীন উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (এসডিই) মোয়াজ্জেম হোসেন ও সেক্শন অফিসার (এসও) রাশেদুল রেজার কাছে বক্তব্য চাইলে সাংবাদিকদের উপর চড়াও হন। সংস্কার কাজে অনিয়ম দুর্নীতির বিষয়ে তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রশীদকে জানানো হলে তিনি বিষয়টি আমলে না নিয়ে কৌশলে এড়িয়ে যান। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান, সওজ কর্তৃপক্ষের রহস্যজনক নীরবতায় অনিয়ম দুনীর্তির মাধ্যমে সড়ক সংস্কার করায় অল্প দিনের মধ্যে সাতক্ষীরা ৩৮ বিজিবি হেডকোয়ার্টারের সামনে প্রায় আধা কিলোমিটার সড়ক দেবে বড় বড় গর্ত ও খানা খন্দে পরিণত হয়ে যানবাহন চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এছাড়া সাতক্ষীরা হাসপাতাল মোড় হতে ১৮ মাইল পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং উঠে গেলে এলাকাবাসীর চাপে দুর্নীতিপরায়ন সওজ কর্তৃপক্ষ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে কিছু না বলে সরকারী অর্থে ক্ষতিগ্রস্থ স্থানগুলো সংস্কার করেছে।

এ নিয়ে মঙ্গলবার সরেজমিন গিয়ে ক্ষতিগ্রস্থ স্থানে আটকে পড়া কুমিরা গ্রামের মটরসাইকেল চালক ইমদাদুল ইসলাম, ঝড়গাছা গ্রামের দুধ ব্যবসায়ী বাসুদেব ঘোষ, মাইক্রো বাস চালক সাইদুর রহমান, প্রাইভেটকার চালক মিলন মহলদার, ট্রাকচালক টুটুল, মোজাহার পেট্রোল পাম্পের তেলবাহী গাড়ি চালক মিজানুর রহমান সহ অর্ধশতাধিক ভূক্তভোগীর সাথে কথা হলে তারা সকলেই সড়ক সংস্কারে অনিয়মের কারণে বেহাল দশা ও দুর্ভোগের কথা জানান। এসময় সড়ক সংস্কার কাজে নিয়োজিত শ্রমিক আফসার আলি ও আবুল হোসেন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের নিয়োগকৃত কিনা জানতে চাইলে তারা এ প্রতিনিধিকে জানান, সড়ক বিভাগের চাকুরীরত শ্রমিক। ৬ জন শ্রমিক এবং ইট ও বালু সবই সড়ক বিভাগের।

এবিষয়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের প্রকল্প ব্যবস্থাপক রাজনরাম মানি সামান্য অনিয়ম দুর্নীতি হয়েছে স্বীকার করে বিধ্বস্ত স্থানগুলো সংস্কারের জন্য মালামাল সড়ক বিভাগে রাখা হয়েছে। ঈদের পর কাজ শুরু করা হবে।  সংস্কার কাজ দেখভাল করার দায়িত্বরত সাতক্ষীরা সওজের কর্মকর্তা রাশেদুল রেজা ০১৭১৫-৯৯৯০২২ ও নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মঞ্জুরুল করিম এর ব্যবহৃত ০১৭৩০৭৮২৭৬২ মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেস্টা করা হলেও দুজনের কেউ রিসিভ করেননি।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
admin
লেখক / প্রতিবেদক

admin

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।