বিশেষ প্রতিবেদকঃ বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ঘোষণাই ছিল বাংলাদেশের মূল স্বাধীনতার ঘোষণা।বললেন ভাষাসৈনিক, মুক্তিযোদ্ধা ভূমি মন্ত্রী শমাসুর রহমান শরীফ এম.পি।
আজ আটঘরিয়ায় নবনির্মিত চারতলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে ভবন প্রাঙ্গণে মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে মতবিনিময় কালে ভূমি মন্ত্রী প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব স্মৃতি কথা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের ভাসন আমাদের জনযুদ্ধের প্রেরণা যুগিয়েছিল। ১৯৭১ সালের ২৯শে মার্চ পাবনার দাপুনিয়ার মাধপুরের বটতলায় বাংকার তৈরি করে পাকিসতানি বাহিনীর হেভী অস্ত্রের বিরুদ্ধে আমরা যুদ্ধ করি। সাথের ১৭ জন যোদ্ধা শহীদ হন। আমিও সেদিন শহীদ হতে পারতাম।
স্মৃতিচারণে ভূমি মন্ত্রী শরীফ আরো বলেন, বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা, ইতিহাসের মহানায়ক, সর্বকালের সর্বযুগের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি স্বাধীন বাংলাদেশের মহান স্থপতি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘সোনার বাংলা’ বাস্তবায়ন এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনার ঘোষিত ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে সকল মুক্তিযোদ্ধা আজ ঐক্যবদ্ধ। তিনি ১৯৭১ সালের ২৯ মার্চ পাবনার মাধপুরে প্রতিরোধ যুদ্ধের কথা স্মরণ করে বলেন, রাজু, রাজ্জাকের পবিত্র রক্ত এ মাটিতে মিশে আছে।
ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ আরও বলেন, ৭১ এর জনযুদ্ধ ছিল বিশ্ব ইতিহাসের একটি বৈপ্লবিক ঘটনা। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বিশ্বের শ্রেষ্ঠ জনযুদ্ধের মধ্য দিয়ে এ বিপ্লবের সূচনা হয়।
২৯শে মার্চ ১৯৭১ সালের স্মৃতিচারণ করে মন্ত্রী বলেন, ১৯৭১সালের ৭ই মার্চ রেসকোর্সের ময়দানে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর দেয়া সেই ঐতিহাসিক ভাষণ সরাসরি শুনে পাবনা ফিরে সহযোদ্ধাদের নিয়ে দেশীয় ৪২টি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে প্রতিরোধ বাহিনী গড়ে তুলি। ২৮শে মার্চ ১৯৭১ সালে পাবনা পুলিশ লাইনে প্রতিরোধ যুদ্ধে পাকিস্তানি সেনাদের উদ্ধারের জন্য ট্রাকের বহর নিয়ে পাবনা থেকে রাজশাহীর দিকে ফিরছে এমন খবর পেয়ে ঈশ্বরদীর ডিলু বাহিনী তাঁর দলবল অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে পাবনার দাপুনিয়া ইউনিয়নের মাধপুর নামক স্থানের বটতলায় প্রতিরোধের জন্য বাঙ্কার করে অবস্থান নেন। প্রতিরোধ যুদ্ধে পাকিস্তানি ভারী অস্ত্রের গুলিতে তৎকালীন ঈশ্বরদী কলেজের ছাত্রনেতা হাবিবুর রহমান রাজু, আবদুর রাজ্জাক, ওহিদুর রহমান, আবদুল গফুর, আলী আহম্মেদ, নবাব আলীসহ ১৭ জন সহযোদ্ধা নিহত হয়। সাহসী বাঙালি যোদ্ধারা অসীম মনোবলের সাথে দেশীয় অস্ত্র ও লাঠি, বল্লম দিয়ে খুঁচিয়ে ঐ প্রতিরোধ যুদ্ধে পাকিস্তানি সেনাবহরের আনুমানিক তিন চারজন সৈন্যকে হত্যা করে। পরবর্তীতে রাজশাহী ফিরার পূর্বেই নানা স্থানে ওত পেতে থাকা বাঙালি প্রতিরোধ বাহিনীদের আক্রমণে পুরো সেনাবহরটি বিধ্বস্ত ও নিশ্চিহ্ন হয়ে পড়ে। শহীদ সহযোদ্ধাদের কথা বর্ণনা করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন মন্ত্রী।
ভূমিমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক সেই ঘোষণাই ছিল আমাদের প্রেরণা। পাকিস্তানি সেনাদের আধুনিক অস্ত্র সম্বন্ধে আমাদের ঐ সময়ে কোন ধারণা ছিল না। আকাশ থেকে পাকিস্তানি যুদ্ধ বিমান বৃষ্টির মতো গুলি চালিয়েছিল। সেদিনটির কোন কিছুকেই আমরা পরোয়া করিনি। ১৭জন সহযোদ্ধাসহ ৭০ জন মানুষের শহীদ হওয়ার দিনটি ছিল আমাদের কাছে স্বপ্নের মতো। পঁচাত্তর পরবর্তী পাকিস্তানি প্রেতাত্মারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করে আমাদের অস্তিত্ব মুছে ফেলতে চেয়েছিল। পাঁচ বছর জেল খেটেছি। মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য বঙ্গবন্ধুর রাজনীতি করেছি। আল্লাহর অশেষ রহমতে আমরা টিকে আছি। যতদিন চন্দ্র, সূর্য, তারা রবে, ততদিন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর নাম চির স্বাক্ষর হয়ে থাকবে, বাংলাদেশর স্বাধীনতার ইতিহাস অক্ষুন্ন হয়ে থাকবে। ভূমি মন্ত্রী সন্ত্রাস, জঙ্গি ও মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য সকল মুক্তিযোদ্ধাদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
মতবিনিময় সভায় আটঘরিয়ার পৌর মেয়র শহীদুল ইসলাম রতন, আটঘরিয়া মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারসহ সম্মানীত অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধারা উপস্থিত ছিলেন।




