প্রবাসীর স্ত্রী ও যুবককে বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন

প্রবাসীর স্ত্রী ও যুবককে বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন

পরকীয়ার অভিযোগ তুলে প্রবাসীর স্ত্রী ও যুবককে বিদ্যুতের খুঁটির সাথে বেঁধে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে স্থানীয় কতিপয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। খবরপেয়ে দুইজনকেই থানা পুলিশ উদ্ধার করেছে। ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) সকালে জেলার উজিরপুর উপজেলার বামরাইল ইউনিয়নের মোড়াকাঠী গ্রামের ফরাজী বাড়িতে।

এঘটনায় উজিরপুর থানা পুলিশ বাদী হয়ে অনৈতিক কার্যকলাপের অভিযোগে নির্যাতনের শিকার পরকীয়া প্রেমিক সাদ্দাম হোসেন (২৬) ও প্রেমিকা প্রবাসীর স্ত্রীকে আসামী করে ওইদিন দুপুরে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। অপরদিকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের ঘটনায় পুলিশ থানায় কোনো মামলা নেয়নি বলে অভিযোগ করেছেন অভিযুক্ত যুবক সাদ্দাম হোসেনের বাবা আকবর হোসেন তালুকদার।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ঈদের দিন প্রবাসীর স্ত্রী দাওয়াত দিলে মঙ্গলবার সকালে গৌরনদী পৌরসভার উত্তর পালরদী এলাকার যুবক সাদ্দাম হোসেন মোটরসাইকেলযোগে প্রবাসীর বাসায় আসেন। সাদ্দাম হোসেনকে দেখে বাড়ির লোকজন ও প্রতিবেশী ১৫-২০ জন নারী-পুরুষ ঘরে প্রবেশ করে। প্রবাসীর স্ত্রী ও সাদ্দামকে ঘর থেকে বের করে বাড়ির উঠানের বৈদ্যুতিক খুঁটির সাথে রশি দিয়ে তাদেরকে বেঁধে মধ্যযুগীয় কায়দায় শারীরিক নির্যাতন করে। পরে মোবাইল ফোনে ভিডিওধারন করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়া হয়।

নির্যাতনের শিকার যুবক সাদ্দাম হোসেনের বাবা আকবর হোসেন তালুকদার অভিযোগ করে বলেন, তার দোকান থেকে সেলাই মেশিন ক্রয় করেন মোড়াকাঠী গ্রামের প্রবাসীর স্ত্রী। মেশিনের মটর খারাপ হওয়ায় নষ্ট মটর ঠিক করার জন্য তার ছেলেকে ডেকে নেয় ওই নারী। এরপর বাড়ির লোকজন তার ছেলের ওপর মিথ্যে অপবাদ দিয়ে নির্যাতন চালায়। অভিযোগ করে তিনি আরও বলেন, টুলু সরদার নামে একজন আমাকে ফোন করে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। তখন আমি টাকা দিতে অস্বীকার করলে তারা রশি দিয়ে আমার ছেলেকে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মধ্যযুগীয় কায়দায় শারীরিক নির্যাতন করে ও মোটরসাইকেলটি গুম করে ফেলে। এছাড়া পুলিশ আমার মামলা না নিয়ে উল্টো তারা (পুলিশ) বাদী হয়ে অনৈতিক কার্যকলাপের অভিযোগ এনে সাদ্দাম হোসেন এবং ওই গৃহবধুকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছে। ওই মামলা তাদেরকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

উজিরপুর থানার ওসি আব্দুস সালাম জানিয়েছেন, অনৈতিক কার্যকলাপের অভিযোগে পুলিশ দুইজনকে জনতার হাত থেকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে এসে একটি মামলা দায়ের করে। ওই মামলায় অভিযুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোর্পদ করা হয়। ওসি আরও বলেন, নির্যাতনের অভিযোগ দিতে কেউ থানায় আসেননি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Kishori
লেখক / প্রতিবেদক

Kishori

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।