পুলিশ,ছাত্রলীগের ও আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষে দুই শতাধিক শিক্ষার্থী আহত

বিশেষ প্রতিবেদকঃ সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীদের শাহবাগ থেকে তুলে দেওয়ার পর উত্তাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। পুলিশ ও ছাত্রলীগের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের দফায় দফায় সংঘর্ষে ১০ পুলিশসহ দুই শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়। ভাঙচুর করে আগুন দেয়া হয় উপাচার্যের বাসভবনে। এদিকে সরকারের পক্ষ থেকে আন্দোলনকারীদের আলোচনায় বসার আহ্বান জানানো হলেও এ বিষয়ে তাদের সাড়া মেলেনি।

কোটা পদ্ধতির সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশ ও ছাত্রলীগের সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে।

রাতভর থেমে থেমে সংঘর্ষের পর ভোরে দোয়েল চত্বর এলকায় মুখোমুখি অবস্থান নেয় পুলিশ ও শিক্ষার্থীরা। তবে শিক্ষার্থীদের এই অবস্থান মূলত ক্যাম্পাস থেকে পুলিশ প্রত্যাহারের দাবিতে। এ সময় দুপক্ষের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। পুলিশ টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে।

এদিকে রাত ১২টার দিকে হঠাৎ করেই একদল মুখোশধারী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনে হামলা চালায়। তারা বাসভবনের বিভিন্ন কক্ষে ঢুকে ভাঙচুর করে এবং আসবাবপত্র ও ভবনর সামনে রাখা গাড়িতে আগুন দেয়। এ হামলা তৃতীয় কোন পক্ষের কারসাজি বলে ধারণা উপাচার্যের।

এর আগে শাহবাগে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ ও টিয়ারশেল ছুড়লে রাত ৮টা থেকে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে পুরো বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায়। রাত বাড়ার সাথে সাথে শাহবাগ ও বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

রাত পৌনে ১২টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পুলিশ ঢোকার প্রতিবাদের বেশ কয়েকটি ছাত্রী হলের ফটক ভেঙে কয়েকশ’ শিক্ষার্থী শাহবাগে অবস্থান নেয়। তাদের সেখান থেকে তুলে দিতে পুলিশের সঙ্গে ছাত্রলীগ যোগ দিলে মুহূর্তেই পরিস্থিতি পাল্টে যায়।

রাত দেড়টার পর আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানক ঘটনাস্থলে গিয়ে আন্দোলনকারীদের আলোচনায় বসার আহ্বান জানান।

সংঘর্ষে আহতদের ঢাকা মেডিকেলে নেয়ার পর বেশিরভাগকেই প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়। এছাড়া বেশ কয়েকজনকে বিভিন্ন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
admin
সংবাদ প্রতিনিধি

admin

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।