পানগাঁ নৌবন্দরের কার্যক্রমকে গতিশীল করতে নির্দেশ নৌপরিবহন উপদেষ্টার

পানগাঁ নৌবন্দরের কার্যক্রমকে গতিশীল করতে নির্দেশ নৌপরিবহন উপদেষ্টার

ঢাকার কেরাণীগঞ্জের বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত পানগাঁ নৌবন্দরের সার্বিক কার্যক্রমকে আরো গতিশীল এবং বন্দরটিকে লাভজনক করতে পণ্য খালাসে দীর্ঘসূত্রিতা কমানোর নির্দেশ দিয়েছেন নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন।

আজ পানগাঁ নদীবন্দর পরিদর্শন শেষে বন্দরের কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময়কালে উপদেষ্টা এ নির্দেশ দেন।

মতবিনিময়কালে রাজস্ব কর্মকর্তাদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে বন্দরে আমদানিকৃত পণ্য খালাসের নির্দেশনা দিয়ে উপদেষ্টা বলেন, অবস্হানগত কারণে ঢাকার কেরাণীগঞ্জ এলাকায় অবস্থিত পানগাঁও একটি গুরুত্বপূর্ণ নৌবন্দর।  এটাকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে বর্তমান সরকার আন্তরিকতার সাথে কাজ করছে। ইতোমধ্যে পানগাঁও নৌবন্দরের সাথে সম্পৃক্ত সকল  অংশীজনদের সাথে একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত সরকারের আমলে চট্রগ্রাম-পানগাঁ নৌরুটে  ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়টি সমন্বয় করতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলেও জানান তিনি। তিনি বলেন, প্রয়োজনভেদে যে সকল পণ্যের ভিজুয়াল ইন্সপেকশনেই সঠিকতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়, সেসকল পণ্যের জন্য বুয়েট বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা নিরীক্ষা করার নামে দীর্ঘসূত্রিতা ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করা যাবে না।

 এ ছাড়া উপদেষ্টা আনন্দ শিপইয়ার্ড এবং নারায়ণগঞ্জের ডকইয়ার্ড এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস (ডিইডব্লিউ) এবং ডেক এন্ড ইন্জিন পার্সোনেল ট্রেনিং সেন্টার (ডিইপিটিসি) এর চলমান প্রকল্প ও কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শনকালে উপদেষ্টা ঢাকার জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে জমি অধিগ্রহণ করে বিআইডব্লিটিসির তত্ত্বাবধানে জেটি এবং পার্ক নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণের নির্দেশনা প্রদান করেন। এছাড়াও তিনি নৌপথে ভাসমান রেস্টুরেন্ট ও পর্যটন জাহাজ চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করতে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষকে নির্দেশনা দেন।

আনন্দ শিপইয়ার্ড পরিদর্শনকালে উপদেষ্টা বলেন, জাহাজ নির্মাণ শিল্প দেশের একটি সম্ভাবনাময় খাত। বর্তমান সরকার দেশের জাহাজ নির্মাণ শিল্পকে এগিয়ে নিতে বদ্ধপরিকর। শিপ ইয়ার্ডটি দেশে-বিদেশে জাহাজ রপ্তানি করে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে ও সুনাম বয়ে আনছে। সরকার জাহাজ নির্মাণ শিল্পে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগে উৎসাহিত করতে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, দীর্ঘদিনযাবত চট্টগ্রাম বন্দরসহ অন্যান্য বন্দরগুলোতে বিভিন্ন অনিয়ম ও অব্যবস্হাপনা চলে আসছে। বন্দরকেন্দ্রিক নানা সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। বন্দরগুলোকে সিন্ডিকেটমুক্ত করা হবে। নৌপথে জনসাধারনের যাতায়াতে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হলে প্রয়োজনে নৌপথের নিরাপত্তা জোরদারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

পরিদর্শনকালে বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান কমডোর আরিফ আহমেদ মোস্তফা, বিআইডব্লিউটিসি’র চেয়ারম্যান সঞ্জয় কুমার বণিক, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানসমূহের কর্মকর্তা-সহ নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Kishori
লেখক / প্রতিবেদক

Kishori

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।