পাইকগাছায় ইট নেই ইটের রাস্তায় ; বর্ষায় আমিরপুর সড়কের বেহাল অবস্থা, চরম দুর্ভোগে এলাকাবাসী  

পাইকগাছায় ইট নেই ইটের রাস্তায় ; বর্ষায় আমিরপুর সড়কের বেহাল অবস্থা, চরম দুর্ভোগে এলাকাবাসী  
ইট নেই ইটের রাস্তায়
‎খুলনার পাইকগাছার ইট নেই গড়ইখালী আমিরপুর এলাকার একটি ইটের রাস্তার। দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে রাস্তার বেশিরভাগ ইট আর রাস্তায় নাই।
কোথাও মাটির গভীরে চাপা পড়েছে আবার কোথাও ছিটকে পড়ে আছে খাদে কিংবা কিনারে। কোন কোন জায়গায় ছড়ানো ছিটানো কিছু কিছু ইট রয়েছে তবে এলোমেলো অবস্থায়। এলাকার মানুষের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা সড়কটি অনেক আগে থেকেই যাতায়াতের জন্য অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
এর মধ্যে চলতি বর্ষা মৌসুমে সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্তে পানি জমে বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই মোটরসাইকেল থেকে শুরু করে কোন ধরনের যানবাহন চলতে পারে না সড়ক দিয়ে। এ কারণে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি সহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি ক্ষোভ বাড়ছে এখানকার মানুষের।
অবহেলিত উপকূলীয় এক জনপদ জেলার পাইকগাছা উপজেলার সুন্দরবন সংলগ্ন গড়ইখালী। অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে এখানকার মানুষের জীবন মানের তেমন কোন পরিবর্তন হয়নি। কৃষির জন্য এই এলাকা অত্যন্ত সমৃদ্ধ হওয়ার সত্বেও উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার অভাবে এর সুফল পাচ্ছেন এখানকার মানুষ। প্রধান সড়ক বাদে অভ্যন্তরীণ রাস্তাঘাটের অবস্থা খুবই নাজুক। যার মধ্যে ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের আমিরপুর সড়কটি অন্যতম।
গড়ইখালী-সুড়িখালী প্রধান সড়কের গার্লস স্কুল সংলগ্ন চৌরাস্তা মোড় হতে মুনির বাড়ি পর্যন্ত সাড়ে ৪ কিলোমিটার সড়ক এলাকার মানুষের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা।
আমিরপুর, হোগলারচক, বাইনবাড়িয়া, কুমখালী ও ভাগবা সহ আশেপাশের হাজার হাজার মানুষ এই রাস্তা দিয়ে উপজেলা সদর সহ ইউনিয়ন পরিষদে যাতায়াত করে থাকে। সাড়ে ৪ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে মুনির বাড়ি এলাকার ১ কিলোমিটার সড়ক এবছর সংস্কার করলে সাড়ে ৩ কিলোমিটার দীর্ঘদিন সংস্কার করা হয়নি।
ভুক্তভোগী স্থানীয়রা জানান বহু বছর আগে সড়কটি ইটের সলিং করা হয়েছিল কিন্তু দীর্ঘদিন সংস্কার কিংবা মেরামত না করার ফলে রাস্তায় এখন আর ইট নাই। বেশির ভাগ ডেবে এবং সরে গিয়েছে। ফলে বর্ষা মৌসুমে ইটের রাস্তাটি কাদামাটির রাস্তায় পরিণত হয়েছে।
আমিরপুর গ্রামের জোগেশ মন্ডল বলেন রাস্তাটি সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কে বারবার জানিয়েছি কিন্তু এখনো পর্যন্ত কার্যকর কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে একদিকে যেমন স্কুল কলেজ পড়ুয়া ছেলে মেয়েরা সহ সাধারণ মানুষের যাতায়াতে চরম ভোগান্তি হচ্ছে, অন্যদিকে ভ্যান, ইজিবাইক, নসিমন করিমন সহ কোন যানবাহন চলতে না পারায় এলাকার উৎপাদিত কৃষি পণ্য সরবরাহ করতে পারছেন না স্থানীয় কৃষকরা। এ কারণে আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এখানকার মানুষ।
‎জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কটি কার্পেটিং সহ দ্রুত সংস্কারের দাবি জানান ভুক্তভোগী এলাকাবাসী। এ প্রসঙ্গে গড়ইখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিএম আব্দুস সালাম কেরু বলেন পর্যায়ক্রমে ইউনিয়নের কমবেশি সকল রাস্তা সংস্কার করা হচ্ছে। এই রাস্তাটি ও সংস্কার করার পরিকল্পনা ইউনিয়ন পরিষদের রয়েছে।
‎উপজেলা প্রকৌশলী শাফিন শোয়েব বলেন আমি নিজেই সড়কটি দেখতে গিয়েছি। সড়কটির বর্তমান অবস্থা খুবই খারাপ। উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ইতোপূর্বে খুলনা জেলা গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে সড়কের অনুকূলে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছিল, কিন্তু দুঃখজনক প্রকল্পটি পাস হয়নি। তবে যেকোনো উপায়ে সড়কটি সংস্কার করার চেষ্টা থাকবে বলে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল দপ্তরের দায়িত্বশীল এ কর্মকর্তা জানান।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
ACP
লেখক / প্রতিবেদক

ACP

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।