পাঁচ বছরের মধ্যে সারা বিশ্বে চাকরির বাজারে ব্যাপক বিপর্যয় -ডব্লিউইএফ

পাঁচ বছরের মধ্যে সারা বিশ্বে চাকরির বাজারে ব্যাপক বিপর্যয় -ডব্লিউইএফ
ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম (ডব্লিউইএফ) এক সমীক্ষায় বলেছে, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে সারা বিশ্বে চাকরির বাজারে ব্যাপক বিপর্যয় ঘটে যাবে। অর্থনৈতিক সংকটের কারণে, শিল্প ও বানিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো মানুষের পরিবর্তে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) মতো প্রযুক্তি ব্যবহার করে-  ব‍্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ সময়ে বিশ্বের ১ কোটি ৪০ লাখ মানুষ চাকরি হারাবে। আবার এর কিছু ইতিবাচক দিকও রয়েছে। যেমন, এআই আসার কারণে হাই স্কিলডদের জন্য অনেক নতুন নতুন চাকরির ক্ষেত্রে তৈরি হবে। আবার কিছু নিরাপদ চাকরি রয়েছে, যেখানে এআই তেমন কোনো প্রভাব ফেলতে পারবে না। তাছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে পরিচালিত করার জন্য, নতুন ধরনের দক্ষ কর্মীও লাগবে।
‘রুল অব দ্য রোবোটস: হাউ আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স উইল ট্রান্সফরম এভরিথিং’ বইয়ের লেখক ও যুক্তরাষ্ট্রের ফিউচারিস্ট মার্টিন ফোর্ড বলেছেন, এ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। তিনি বলেছেন, এটি শুধু যে ব্যক্তি পর্যায়ে ঘটবে- তা নয়, তবে এটি বেশ পদ্ধতিগতভাবে হতে পারে। এটি হঠাৎ একই সময়ে অসংখ্য মানুষের সঙ্গে ঘটতে পারে। আর এর প্রভাব শুধু সেই ব্যক্তি নয়, পুরো অর্থনীতিতেই পড়বে। স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করানোর জন্য একটি বিজ্ঞান কল্পকাহিনিভিত্তিক রোবট প্রয়োজন হবে। প্রয়োজন হতে পারে স্টার ওয়ার্স এর সি-৩পিও।
যুক্তরাষ্ট্রের বহুজাতিক বিনিয়োগ ব্যাংক ও আর্থিক সেবাদাতা কোম্পানি গোল্ডম্যান স্যাকস গত মার্চ মাসের প্রতিবেদনে বলেছে, কনটেন্ট তৈরি করতে সক্ষম এআই- বর্তমানে মানুষের দ্বারা করা সব কাজের এক-চতুর্থাংশ করতে পারে। অটোমেশনের কারণে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রে ৩০ কোটি মানুষ চাকরি হারাতে পারে।
এএফপির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের বড় বড় প্রতিষ্ঠান কর্মী ছাঁটাই করে এআই প্রযুক্তি চালুর দিকেই যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস মেশিনস করপোরেশন বা আইবিএম সেই পথেই হাঁটছে। প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে কর্মী নিয়োগ বন্ধ রেখেছে। আগামী কয়েক বছরে ৭ হাজার ৮০০ কর্মী ছাঁটাই করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়োগ করবে।
ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) ফিউচার অব জব রিপোর্ট ২০২৩ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৭ সালের মধ্যে এআই ও মেশিন লার্নিং বিশেষজ্ঞ, ডেটা-বিশ্লেষক, বিজ্ঞানী, ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন স্পেশালিস্ট ও সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের চাহিদা অনেক বেড়ে যাবে। ২০২৭ সালের মধ্যে এআই ও মেশিন লার্নিং বিশেষজ্ঞের সংখ্যা ৪০ শতাংশ বেড়ে যেতে পারে। ডেটা-বিশ্লেষক, বিজ্ঞানী বা বিগ ডেটা অ্যানালিস্টের সংখ্যা বাড়বে ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ এবং ইরফরমেশন সিকিউরিটি অ্যানালিস্টের সংখ্যা ৩১ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। এ সময়ের মধ্যে ২ কোটি ৬০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে। অর্থাৎ এসব চাকরি নিরাপদ স্তরে আছে। তবে রেকর্ড-কিপিং ও প্রশাসনিক পদের চাকরি হুমকির মুখে রয়েছে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Brinda Chowdhury
লেখক / প্রতিবেদক

Brinda Chowdhury

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।