পঞ্চগড়ের প্রকৃতি প্রেমী মাহমুদুল ইসলাম ‘জাতীয় পরিবেশ পদক’ পেলেন

পঞ্চগড়ের প্রকৃতি প্রেমী মাহমুদুল ইসলাম ‘জাতীয় পরিবেশ পদক’ পেলেন
পরিবেশ ও শিক্ষাকর্মী পঞ্চগড়ের মাহমুদুল ইসলাম পরিবেশ রক্ষা ও সচেতনতা সহ ব্যাতিক্রমী অবদানের স্বীকৃতি স্বরুপ ‘জাতীয় পরিবেশ পদক -২০২৪’ পেয়েছেন, পঞ্চগড়ের এই পরিবেশ প্রেমী। নীরবে কাজ করে গেছেন পরিবেশ রক্ষায়। জাতীয় পরিবেশ দিবসে পরিবেশ পদকে স্বীকৃতি পাওয়া মাহমুদুলকে নিয়ে গর্বে ভাসছে পঞ্চগড়ের মানুষ।
প্রকৃতির প্রতি প্রেম ও সমাজের জন্য উত্তম কিছু করার মনের বাসনা লালন করতেন শৈশব থেকেই মাহমুদুল ইসলাম। তাইতো, পড়ালেখা শেষ করে সবাই যখন ব্যাস্ত হয়ে পড়ে অর্থ বিত্তের পেছনে, ঠিক তখন রাস্তায় রাস্তায় পলিথিন কুড়িয়ে, রাস্তার পাশে গাছ লাগানো এবং সাইকেল চালিয়ে গ্রামে গ্রামে সেই গাছ বিনামূল্যে সবাইকে বিতরন করে বেড়ান সেই যুবক।
এজন্য শুনতে হয়েছে অনেকের তাচ্ছিল্যপূর্ণ কটু কথা। তবে, দমে যাননি তিনি। শুধু পলিথিন কুড়ানো বা গাছ লাগনোই শুধু নয়, পাড়ায় পাড়ায় খোলা আকাশে পাঠশালা, সেখানে বই ও গাছ বিতরনের মধ্য দিয়ে পরিবেশ রক্ষায় সবার মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি সহ নিজ অবস্থানে থেকে সমাজের জন্য উত্তম কিছু করার অনুপ্রেরণাও যোগান তিনি। তাইতো পরিবেশের প্রতি তার অকৃত্রিম এ ভালোবাসার স্বীকৃতি স্বরুপ জাতীয় পরিবেশ পদক -২০২৪’ এর জন্য মনোনীত হয়েছেন পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া আজিজ নগর গ্রামের মাহমুদুল ইসলাম।
রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়িয়ে যেখানে সেখানে পড়ে থাকা পলিথিন কুড়িয়ে তা বাড়িতে নিয়ে আসা। তারপর সেসব পলিথিনে মাটি, সার ও বীজ ভরে চাড়া গাছ উৎপাদন, এরপর সাইকেল নিয়ে পাড়া মহল্লায় ঘুরে সেসব গাছ ও বই বিতরণ, বই পড়ানোসহ পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে উদ্বুদ্ধ করে আসছেন তিনি। এরই মাঝে এলাকায় সাদা মনের মানুষ হিসেবেও মিলেছে বেশ পরিচিতি। স্থাপন করেছেন ছোটখাটো পাঠাগার। শুধু তাই নয়, তার উদ্ভাবিত খোলা আকাশ পাঠশালায় শিশুদের শিক্ষামূলক গল্প শোনানোর মধ্য দিয়ে বিতরণ করেন পরিবেশ ও সমাজ সচেতনতার বার্তাও। দুই যুগের বেশি সময় ধরে চালানো তার এ কাজের স্বীকৃতি স্বরুপ তাই এবছরে আজকে পেতে যাচ্ছেন ‘জাতীয় পরিবেশ পদক – ২০২৪’ পুরস্কার। তবে, মোটেও মসৃন ছিলোনা তার এ পথ। শুনতে হয়েছে অনেক তাচ্ছিল্য পূর্ণ কটু কথা। তবে, হৃদয়ে ধারন প্রকৃতি প্রেম ও সমাজের প্রতি দ্বায়বদ্ধতা দমাতে পারেনি রংপুর কারমাইকেল কলেজ থেকে বাংলায় মাস্টার্স পাশ করা এ যুবককে।
মা মাহমুদা বেগমের দুই সন্তানের মধ্যে মাহমুদুল ছোট। ছেলের কর্মকান্ডে প্রথমের দিকে আপত্তি করলেও পরে তাকে উৎসাহ যোগাতেন মা। ছেলের এ অর্জনে আনন্দিত ও গর্বিত।
আর মাহমুদুলের এই অর্জনকে অভিনন্দন জানিয়ে পরিবেশ, সমাজ তথা দেশকে সমৃদ্ধ করতে মাহমুদুলের মত সবার নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসা উচিৎ বলে মনে করেন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) জেলার নেতৃবৃন্দ।
জেলা প্রশাসক মো. সাবেত আলী বলেন, “এই স্বীকৃতি আমি মনে করি মাহমুদুলকে আরও এই পরিবেশ সংরক্ষণের জন্য কাজ করতে আরও অনুপ্রাণিত করবে। মাহমুদুলের মত আমরা সবাই যেন পরিবেশের প্রতি সদয় হই।”
মানুষের বাসযোগ্য করে রাখতে, বৈশ্বিক উষ্ণায়ন রোধ করতে, মাহমুদুল ইসলাম মামুনের ব্যাতিক্রমী উদ্যোগ এখন প্রশংসা কুড়াচ্ছে সবার মাঝে। দুই দশক ধরে আন্তরিকতার সাথে তার কাজের স্বীকৃতি স্বরুপ এ পুরস্কার প্রাপ্তিই হবে সবার অনুপ্রেরণার উৎস, এমনটিই মনে করছেন এলাকাবাসী।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Kishori
লেখক / প্রতিবেদক

Kishori

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।